Jagonews24
মাদারীপুরে গত কয়েকদিন ধরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে জনজীবন। দিন-রাত মিলিয়ে গড়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গরমের শুরু দিকে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও গত কয়েকদিন ধরে মাদারীপুরে ঘন ঘন লোডশেডিং শুরু হয়েছে। শহর ও গ্রামাঞ্চলে একই অবস্থা। কখনও এক ঘণ্টা-কখনও দুই ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং হচ্ছে। এতে করে গড়ে দিন-রাত মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে। এদিকে ঘন ঘন এমন লোডশেডিংয়ে অলস সময় কাটাচ্ছেন নানা প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীরা। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বিদ্যুৎ বিভাগ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) ৩৩ হাজার গ্রাহকের ১৬ মেগাওয়াটের বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। অথচ এই চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ১২ মেগাওয়াট। অপরদিকে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ৪ গ্রাহকের ৯৮ মেগাওয়াটের বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৫২ মেগাওয়াট। ৮০টি সাবস্টেশনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বিবেচনা করে লোডশেডিং ভাগ করছে কর্তৃপক্ষ। মাদারীপুর মৈত্রী মুদ্রণ প্রেসের স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ছাপাখানায় উৎপাদন কমে গেছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসায় দারুণ ক্ষতির মধ্যে পড়বে। মাদারীপুর শহরের শকুনি এলাকার দর্জি দোকানদার নাইম হোসেন বলেন, আমাদের সেলাই করা মেশিনগুলো বিদ্যুতে চলে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে কাজ বন্ধ করে রাখতে হচ্ছে। সময়মতো কাপড় বুঝিয়ে দিতে না পারলে, তারাও রাগান্বিত হয়। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসায় ক্ষতি হবে। মাদারীপুরের খোয়াজপুর এলাকার কৃষক মহসিন হোসেন বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ভালোভাবে সেচে পানিও দিতে পারি না। মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম, কারিগরি) অসিত সাহা বলেন, এলাকা অনুযায়ী লোডশেডিং বাড়ে-কমে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) মাদারীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, চাহিদার ৪ ভাগের তিনভাগ বিদ্যুৎ মিলছে। গরম বেশি হওয়ায় বিদ্যুতের ব্যবহারও বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকা ভাগ করে কিছু সময়ের জন্য লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত এর সমাধান হবে।আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/এনএইচআর
Go to News Site