Somoy TV
গাজীপুরে জমি দখল এবং সন্তানদের হত্যার হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক অন্তঃসত্ত্বা নারী। প্রবাসী স্বামীর কেনা জমিতে বাড়ি করতে গিয়ে স্থানীয় এক নেতার বাধার মুখে পড়ে জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন তিনি।শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) কাপাসিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে দুই সন্তানের জননী ও ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাসিমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার অসহায়ত্বের বিবরণ তুলে ধরেন এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। নাসিমা আক্তার জানান, তিনি ও তার স্বামী আজিজুল ইসলাম দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর লেবাননে শ্রমিক ভিসায় কাজ করেছেন। সেখানে জমানো টাকা দিয়ে ২০১৬ সালে প্রতিবেশী আবুল খায়ের রেনুর কাছ থেকে কাপাসিয়ার ঘাগটিয়া মাঝিবাড়ি এলাকায় পাঁচ কাঠা নিষ্কণ্টক জমি কেনেন তারা। পরে সেখানে বাড়ি করার প্রস্তুতি নিলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. আরশাদুল আলম বাবুল মাঝি তাদের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেয়ায় তখন তাদের পক্ষে বাড়ি করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তার স্বামী গ্রিসে বসবাস করছেন। সম্প্রতি ওই জমিতে নতুন করে বাড়ি করার জন্য ইট-বালু কিনে কাজ শুরু করেন নাসিমা। কিন্তু গত বুধবার গভীর রাতে ওই জায়গা বাবুল মাঝি দখল করে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেন। আরও পড়ুন: গাজীপুরে বাড়ছে অপরিকল্পিত নগরায়ণ এ সময় নাসিমা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়। পুলিশ সব কাগজপত্র দেখে বাবুল মাঝিকে সেখানে নির্মাণকাজ না করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ চলে যাওয়ার পর তিনি আবারও নির্মাণকাজ চালিয়ে যান। এ বিষয়ে কাপাসিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন নাসিমা আক্তার। তবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন। নাসিমা জানান, বর্তমানে দুটি শিশুসন্তান নিয়ে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তার পক্ষে বিভিন্ন মহলে দৌড়াদৌড়ি করা সম্ভব নয়। তাই সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চেয়েছেন। এদিকে অভিযুক্ত বাবুল মাঝি জানান, নাসিমা আক্তার যার কাছ থেকে জমি কিনেছেন, তার ফুফুর কাছ থেকে তিনিও কিছু জমি কিনেছেন। তাছাড়া সেখানে তার পৈতৃক সম্পত্তিও রয়েছে। এ কারণেই তিনি ওই জায়গা দখলে নিয়েছেন। চাঁদা দাবি ও নাসিমার সন্তানদের হত্যার হুমকির বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
Go to News Site