Collector
কলার খোসা ফেলে না দিয়ে চুলের যত্নে ব্যবহার করুন | Collector
কলার খোসা ফেলে না দিয়ে চুলের যত্নে ব্যবহার করুন
Jagonews24

কলার খোসা ফেলে না দিয়ে চুলের যত্নে ব্যবহার করুন

কলা খাওয়ার পর এর খোসা আমরা প্রায় সবাই ফেলে দিই। কিন্তু এই সাধারণ খোসাটিই হতে পারে চুলের যত্নে এক কার্যকর প্রাকৃতিক উপাদান। ঘরোয়া উপায়ে চুলের সমস্যা সমাধানে এটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। চুল পড়া, রুক্ষতা বা প্রাণহীন চুলের সমস্যায় কলার খোসা ব্যবহার করে উপকার পাওয়া যেতে পারে। কলার খোসায় রয়েছে পটাশিয়াম, ভিটামিন এ, সি ও ই এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। এই উপাদানগুলো চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগায় এবং স্ক্যাল্পকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। পটাশিয়াম চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে, ফলে শুষ্কতা কমে যায়। ভিটামিন ই চুলের ফলিকলকে শক্তিশালী করে, যা চুল পড়া কমাতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া সিলিকা চুলের ইলাস্টিসিটি বাড়ায়, ফলে চুল সহজে ভাঙে না। চুল রুক্ষ হওয়ার কারণ ও সমাধান চুল রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হলো স্ক্যাল্পের আর্দ্রতার অভাব। গরম, ধুলাবালি, অতিরিক্ত কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণে চুলের স্বাভাবিক ময়েশ্চার কমে যায়। কলার খোসার প্রাকৃতিক তেল ও পুষ্টিগুণ এই ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল নরম, মসৃণ ও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। আসুন জেনে নেওয়া যাক কলার খোসা দিয়ে চুলের যত্ন নেবেন যেভাবে- কলার খোসার পানি কলার খোসা দিয়ে খুব সহজেই একটি প্রাকৃতিক কন্ডিশনার তৈরি করা যায়। এক বা দুটি কলার খোসা ফুটন্ত পানিতে দিয়ে কিছুক্ষণ সেদ্ধ করুন। পানি অর্ধেক হয়ে এলে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিন। এরপর এটি স্প্রে বোতলে ভরে রাখুন। শ্যাম্পু করার পর চুলে স্প্রে করে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতে চুল নরম ও মসৃণ হবে। দইয়ের সঙ্গে কলার খোসার প্যাক পাকা কলার খোসার ভেতরের নরম অংশ চেঁছে নিয়ে টক দইয়ের সঙ্গে ব্লেন্ড করে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট স্ক্যাল্প থেকে চুলের আগা পর্যন্ত লাগান। ১৫-২০ মিনিট রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার ব্যবহার করলে চুলের রুক্ষতা কমে এবং চুল আরও স্বাস্থ্যকর দেখায়। নারিকেল তেল ও কলার খোসা খুশকি বা ফ্রিজি চুলের সমস্যায় কলার খোসা ও নারিকেল তেলের পেস্ট বেশ কার্যকর। কয়েকটি খোসা ব্লেন্ড করে তার সঙ্গে এক চামচ নারিকেল তেল মিশিয়ে নিন। প্রয়োজনে কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল যোগ করতে পারেন। এই পেস্ট মাথার ত্বকে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এটি স্ক্যাল্পের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে এবং খুশকি কমাতে সাহায্য করে। কলার খোসা, দই ও মধুর প্যাক চুলকে আরও কোমল ও ঝকঝকে করতে কলার খোসা, দই ও মধুর প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে। খোসা ব্লেন্ড করে তার সঙ্গে দই ও মধু মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করুন। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসে। ব্যবহারের আগে সতর্কতা যেকোনো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের আগে অ্যালার্জি টেস্ট করা জরুরি। হাতের ত্বকে অল্প পরিমাণ লাগিয়ে দেখে নিন কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না। যদি চুলকানি বা জ্বালা অনুভব করেন, তাহলে ব্যবহার বন্ধ করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কলার খোসা চুলের যত্নে উপকারী হলেও এটি কোনো ম্যাজিক সমাধান নয়। এটি চুলের টেক্সচার উন্নত করতে পারে, কিন্তু জেনেটিক কারণে চুল পড়া বা গুরুতর স্ক্যাল্প সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান দিতে পারে না। তাই সমস্যা বেশি হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো। কলার খোসা একটি সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী উপাদান, যা সঠিকভাবে ব্যবহার করলে চুলের যত্নে ভালো ফল দিতে পারে। ফেলে না দিয়ে এটি কাজে লাগানোই হতে পারে আপনার চুলের জন্য একটি কার্যকর প্রাকৃতিক সমাধান। সূত্র: হেলথশটস, টাইমস অব ইন্ডিয়া, ফেমিনা আরও পড়ুন:চুল পড়া বন্ধ হবে রসুন ব্যবহারে সুইমিং পুলে সাঁতার কাটার পর ত্বক ও চুল রক্ষা করবেন যেভাবে এসএকেওয়াই

Go to News Site