Somoy TV
প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। মানবজমিনের প্রধান শিরোনাম— ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের জোর প্রস্তুতি জামায়াতেরপ্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, 'ছায়া মন্ত্রিসভা' গঠনে জামায়াতের একাধিক বিশেষজ্ঞ টিম ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। জোর প্রস্তুতি চললেও এখনই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসছে না।আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হতে পারে। এরপরই ঘোষণা আসতে পারে।বিশেষজ্ঞ প্রতিটি টিমে ৩ থেকে ৫ জন এক্সপার্ট সদস্য রয়েছে। যারা মন্ত্রিসভার কাজকর্ম প্রস্তুত করছেন।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সিনিয়র নেতা ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক এই কাঠামো গড়ে তোলা হবে, যা সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও বিকল্প নীতিমালা প্রণয়নে ভূমিকা রাখবে।এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি কিছু কথিত ছায়া মন্ত্রিসভার তালিকা ছড়িয়ে পড়েছে। এগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া বলে জানিয়েছে দলটি। তীব্র খাদ্য সংকটে পড়া ১০ দেশের একটি বাংলাদেশ— সমকালের প্রথম পাতার সংবাদ এটি। এই খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটে পড়া মানুষের দুই-তৃতীয়াংশই ছিল ১০টি দেশে। এর মধ্যে ছিল বাংলাদেশও। চলতি বছর দেশগুলোতে পরিস্থিতি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।গতকাল শুক্রবার গ্লোবাল নেটওয়ার্ক এগেইনস্ট ফুড ক্রাইসিস প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশে প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যহীনতায় ছিল।এর মধ্যে এক কোটি ৫৬ লাখ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ছিল 'সংকটজনক পর্যায় ৩-এর ঘরে। ৪০ লাখ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ছিল 'জরুরি পর্যায় ৪'-এর স্তরে।২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বাংলাদেশে 'উচ্চমাত্রার খাদ্যহীনতায়' থাকা মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭৬ লাখ (৩২ শতাংশ) কমেছে। তবে 'চরমভাবাপন্ন' আবহাওয়াসহ নানা কারণে এ পরিস্থিতি ধরে রাখা চ্যালেঞ্জ হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে একটি মাঝারি মানের 'পুষ্টি সংকটের' দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।প্রতিবেদনের তথ্যমতে, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির সূচকে অবনতি হয়েছে বাংলাদেশের। সার্বিকভাবে সর্বাধিক সংখ্যক 'জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির' শিকার হওয়া ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। প্রথম আলোর প্রথম পাতার সংবাদ— হাম মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের সুপারিশে গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার। এই খবরে বলা হয়েছে, মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে হামের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার পর দুটি বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রথম যৌথ সভা হয় ১২ এপ্রিল।ওই সভার কার্যবিবরণীতে দেখা যায়, যৌথ সভার পক্ষ থেকে একটি বহুপক্ষীয় কমিটি গঠন করার সুপারিশ করা হয়।সুপারিশে বলা হয়, শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, রোগতত্ত্ববিদ, ভাইরাস বিশেষজ্ঞ, ল্যাবরেটরি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট অন্য বিশেষজ্ঞদের এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই কমিটির কাজ হবে রোগ শনাক্তের অগ্রাধিকার ঠিক করা এবং প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নির্দেশনা দেওয়া।এই কমিটি এখনো গঠিত হয়নি।গত বৃহস্পতিবার যোগাযোগ করলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বিশেষজ্ঞরা কমিটি গঠনের যে সুপারিশ করেছেন তা আমি জানি না, আমাকে এখনো জানানো হয়নি। বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম— দুই দফা দরপত্রেও সরবরাহকারীদের আগ্রহ নেই। ২ লাখ টন ইউরিয়া আমদানিতে কেউ আগ্রহ না দেখানোর কথা বলা হয়েছে এই খবরে। গ্যাস সংকটে দেশে একটি বাদে সব ইউরিয়া সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।তাই আসন্ন আমন মৌসুমের আগে বেসরকারিভাবে দুই লাখ টন ইউরিয়া আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)।এজন্য দুই দফা দরপত্র আহ্বান করা হয়। তবে এতে সরবরাহকারীদের কাছ থেকে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। এখন তৃতীয় দফায় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি দরপত্রে যাওয়ার চিন্তা করছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় সময়মতো সার সরবরাহ করতে না পারলে ইমেজ সংকটে পড়ার শঙ্কায় দরপত্রে সাড়া দিচ্ছেন না সরবরাহকারীরা।দেশে ইউরিয়া সারের বার্ষিক চাহিদা ২৬ লাখ টনের মতো। চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ১৩ লাখ ১৪ হাজার ৩৮৮ টন।কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত রোববার পর্যন্ত দেশে ইউরিয়া সারের মজুদ ছিল ৩ লাখ ৪৩ হাজার টন, যেখানে ৪ লাখ টন মজুদকে নিরাপদ ধরা হয়। দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম— Geneva Camp: Drug trade thrives despite crackdowns; অর্থাৎ কঠোরতা সত্ত্বেও জেনেভা ক্যাম্পে ফুলেফেঁপে উঠছে মাদক ব্যবসা। এই খবরে বলা হয়েছে, কয়েক দশক ধরে ঢাকায় মাদক ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জেনেভা ক্যাম্প; যেখানে অসংখ্য 'বিশেষ অভিযান' সত্ত্বেও এই অবৈধ ব্যবসা টিকে আছে।এখানকার বাসিন্দারা বলছেন, চব্বিশের অগাস্টের পর পরিস্থিতি বদলেছে, আগে যেখানে ক্যাম্পের সরু গলিতে মাদকের ব্যবসা সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন প্রধান সড়কগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি এটি আরও সংগঠিতভাবে হচ্ছে।গত ১৯ মাসে এখানে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর আইন প্রয়োগে শিথিলতার সুযোগে আধিপত্য বিস্তারে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপগুলো।এদিকে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ঘন ঘন অভিযান ও পুলিশের চেকপয়েন্ট বসানো সত্ত্বেও মাদক ব্যবসা প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে।ক্যাম্পের ভেতরে অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, অভিযানের খবর আগে থেকেই মূল হোতাদের কাছে ফাঁস হয়ে যায়। কেবল মাদক বহনকারী, বিক্রেতা ও ক্রেতাদেরই নিয়মিত গ্রেপ্তার করা হয়। আর যারা মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন, তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছেন।ক্যাম্প সূত্র বলছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাংশ এবং তাদের তথ্যদাতারা টাকার বিনিময়ে মূল হোতাদের গ্রেপ্তার এড়াতে সাহায্য করে। এ কারণেই মাদক নেটওয়ার্কটি ভেঙে দেওয়া যায়নি। আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম— হামে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেশ। এই খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অতিসংক্রামক রোগ হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বর্তমান পরিস্থিতিকে 'উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ' বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতে হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া, বিপুলসংখ্যক শিশু আক্রান্ত হওয়া, টিকা না দেওয়ার কারণে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা বিবেচনা করে এ মূল্যায়ন তুলে ধরেছে সংস্থাটি।দৈনিকটির পাহাড় আর সীমান্তে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ শিরোনামের আরেকটি খবরে বলা হয়েছে, দেশে ২০০৭ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে প্রায় সোয়া ৬ লাখ মানুষ।মূলত দেশের ১৩ জেলার ৭২টি উপজেলায় এসব রোগী শনাক্ত হয়েছে। স্থানগুলোর বেশিরভাগ ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী। গত দেড় যুগে এসব এলাকায় আক্রান্তদের মধ্যে ৬৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে ।ম্যালেরিয়া উপদ্রুত এলাকার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, সীমান্তবর্তী অবস্থান, স্বাস্থ্যসেবায় দেরি এবং সচেতনতার অভাব রোগটির পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেছেন রোগতত্ত্ববিদেরা।
Go to News Site