Collector
ফ্যামিলি কার্ড সরকারের একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী | Collector
ফ্যামিলি কার্ড সরকারের একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
Somoy TV

ফ্যামিলি কার্ড সরকারের একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

বিএনপি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন।শনিবার (২৫ এপ্রিল) এফডিসিতে বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অগ্রাধিকার নিয়ে এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বিগত আওয়ামী শাসন আমলে অনেক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও দুর্নীতি থাকবে না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্কোরিংয়ের মাধ্যমে আইবাস পদ্ধতিতে প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হচ্ছে। দল-মত সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে যাদের প্রয়োজন তাদেরকেই এ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।’তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কারণে ঋণের বোঝা বৃদ্ধির শঙ্কা নেই। বিগত সরকার পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দেশটাকে পরনির্ভরশীল করে তুলেছিল। সে সময় মেগা প্রজেক্টগুলোতে প্রকল্পের সময় ও ব্যয় বাড়িয়ে দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে পেট্রোন করা হয়েছে। বর্তমান সরকার অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রজেক্টের পরিবর্তে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন হয়, সেই ধরনের প্রজেক্ট গ্রহণ করবে।’অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে এবারের বাজেটে সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। যা বর্তমান সরকারের সাহসী উদ্যোগ। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সুবিধাভোগী নির্বাচন ও এর অর্থায়ন নিয়ে এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে উদ্বেগ ও শঙ্কা রয়েছে। তবে সুবিধাভোগী নির্বাচনে এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা দুর্নীতির কোনো তথ্য মেইনস্ট্রিম মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি।’আরও পড়ুন: অপরাধীদের কোনো দল নেই: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীতিনি আরও বলেন, ‘সরকারের সদিচ্ছা থাকলে সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব। সরকার যদি ব্যয় সংকোচন নীতির মাধ্যমে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অভ্যন্তরীণ আয় বৃদ্ধি, বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান তৈরি, অতিমূল্যায়িত প্রকল্প গ্রহণ না করে দুর্নীতি বন্ধ করতে পারে তাহলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা খুব বড় চ্যালেঞ্জ হবে না।’কিরণ বলেন, ‘তবে শুধু সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিশ্চিত করলেই সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা সম্ভব হবে না। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ, আবাসন, অবকাঠামোসহ কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে। সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। উপার্জনের পথ সৃষ্টি করতে হবে। কোথায় কোনটা প্রয়োজন সেই বিবেচনায় বাজেট বরাদ্দ রাখতে হবে।’ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় উত্তরা ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের পরাজিত করে সরকারি তিতুমীর কলেজ এর বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন— অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক তৌহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম ও সাংবাদিক আতিকুর রহমান। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। ছায়া সংসদটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

Go to News Site