Collector
হাওরে বন্যার শঙ্কায় দ্রুত ধান কাটতে মাইকিং | Collector
হাওরে বন্যার শঙ্কায় দ্রুত ধান কাটতে মাইকিং
Jagonews24

হাওরে বন্যার শঙ্কায় দ্রুত ধান কাটতে মাইকিং

নেত্রকোনার উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। পাহাড়ি ঢলের মাধ্যমে বৃষ্টিপাতের পানি নামছে জেলার নদ-নদীগুলোতে। এরই মধ্যে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সমতলেও বেড়েছে পানি। তাই অকাল বন্যার শঙ্কায় হাওরে জমির পাকা ধান দ্রুত কাটতে মাইকিং করে কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। নেত্রকোনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ধনু-বাউলাই নদীর পানি সমতলে বৃদ্ধি পেয়েছে। হাওরের জমিতে ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেলে সেগুলো জমিতে রাখা এখন ঝুঁকিপূর্ণ। নেত্রকোনায় আগেও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। এমনিতে হাওরের বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা রয়েছে। এখন উজানের ঢল নামলে পানি আরও বাড়বে। তাই দ্রুত পাকা ধান কাটতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাউবো জানায়, এবার নেত্রকোনায় চৈত্র মাসের শুরু থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। অতিবৃষ্টিতে বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। চেরাপুঞ্জিতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। উজানে বৃষ্টি হলে নেত্রকোনায় পাহাড়ি ঢল নামে। এতে সোমেশ্বরী, কংস, ধনু, উদ্ধাখালীসহ অন্যান্য নদ-নদীতে পানি বাড়ে। যেকোনো সময় হাওর এলাকায় দেখা দিতে পারে অকাল বন্যা, ক্ষতি হতে পারে বোরো ফসলের। এদিকে নেত্রকোনার অনেক হাওড়ে পানি থাকায় কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটতে সমস্যা হচ্ছে। সংকট রয়েছে ধান কাটার শ্রমিকও। হাওরে ধান কাটার যন্ত্র চালাতে ডিজেলের সংকট থাকলেও তেমন কোনও উদ্যোগ নেয়নি জেলা প্রশাসন। হাওড়ের উঠতি বোরো ফসল নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে চড়া মূল্যে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটাতে হচ্ছে। কৃষকেরা বলছেন, হাওরে একসময় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধান কাটার শ্রমিক আসতেন। আবার স্থানীয় অনেক শ্রমিক ছিলেন। বজ্রপাতে মৃত্যুর ভয় থাকায় দিনদিন বাইরের শ্রমিকের আসা কমে গেছে। হাওরে জমিতে পানি থাকায় ধান কাটতে রাজি হচ্ছেন না শ্রমিকরা। উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ধনু নদে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাওরের বোরো ধান নিয়ে শঙ্কিত রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। তারা আশঙ্কা করছেন অব্যাহত পানি বাড়তে থাকলে ২০১৭ সালের মতো অকাল বন্যায় ফসল হারাতে হবে। স্থানীয় কৃষক, উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জেলার খালিয়াজুরি, মোহনগঞ্জ, মদন ও কলমাকান্দার আংশিক এলাকা মূলত হাওরাঞ্চল। হাওরের একমাত্র ফসল বোরোর ওপরই নির্ভর করে কৃষকদের সারাবছরের সংসার খরচ, চিকিৎসা, সন্তানদের পড়ালেখা ও আচার অনুষ্ঠান। জেলায় ছোট-বড় মোট ১৩৪টি হাওরের মধ্যে খালিয়াজুরিতে ৮৯টি হাওর আছে। আগাম বন্যা থেকে হাওরের ফসল রক্ষায় এ বছর ১৩৮ কিলোমিটার ডুবন্ত (অস্থায়ী) বাঁধ দেওয়া হয়। পাউবো ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এসব বাঁধে ব্যয় ধরা হয় ৩১ কোটি টাকা। এসব বাঁধের ওপর স্থানীয় কৃষকদের প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর জমির রোরো ফসল নির্ভর করে। গত দুই সপ্তাহের বৃষ্টিতে নেত্রকোনার কংস, উব্দাখালি, ধনুসহ বেশ কয়েকটি নদ-নদীর পানি বাড়ছে। গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর একটা পর্যন্ত খালিয়াজুরির ধনু নদে প্রায় আড়াই ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে উঠতি বোরো ফসল নিয়ে চিন্তিত স্থানীয় কৃষক। নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলের প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে উৎপাদিত ফসলের বাজার মূল্য প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। খালিয়াজুরি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘খালিয়াজুরী উপজেলায় ২০ হাজার ২৩২ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার মেট্রিক টন। এই সপ্তাহে পুরোদমে ফসল কাটা শুরু হয়েছে। শ্রমিক ও ডিজেলের কিছুটা সংকট রয়েছে। আমরা তা সমাধানের চেষ্টা করছি।’ ওই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম বলেন, ‘ধনু নদে পানি কিছুটা বেড়েছে। নিচু এলাকার ধানক্ষেতে পানি জমেছে। হাওরের পাকা ধান দ্রুত কেটে ফেলতে মাইকিং করে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’ এইচ এম কামাল/এমএন/এএসএম

Go to News Site