Somoy TV
তড়িঘড়ি টিকা এনে হাম পরিস্থিতি সামাল দেয়া গেলেও ৬টি রোগের টিকার সংকটে বাংলাদেশ। সময় সংবাদের অনুসন্ধান বলছে, রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার বেশির ভাগেরই মজুত শেষ। চট্টগ্রাম, রংপুর, খুলনা ও বরিশালে সংকট আছে একসঙ্গে ৫ রোগের টিকা পেন্টাভ্যালেন্টের। বিশেষজ্ঞ বলছেন, টিকা সংকটে প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে নির্মূল হওয়া অন্যান্য রোগেরও।টিকা দিতে দেরির কারণে দেশে অন্তত ৩০ লাখ শিশু হাম- রুবেলা, পোলিওসহ ১১টি মারাত্মক রোগের ঝুঁকিতে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত দেড় বছরে শিশুর টিকাদান কর্মসূচি ভঙ্গুর অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছে, যার কারণে টিকা না পাওয়া অরক্ষিত শিশুর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে হাম-রুবেলা টিকা কার্যক্রম শুরু হলেও নজরে আসে পোলিও, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ডিপথেরিয়া-ধনুষ্টংকার এবং হেপাটাইটিস টিকার সংকট। দেশের বেশ কয়েকটি জেলার সিভিল সার্জনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় এমন সংকটের কথা। চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলায় হামের টিকা পর্যাপ্ত থাকলেও পেন্টা এবং যক্ষ্মার টিকার মজুত আছে দেড় থেকে দুই মাসের। আর পোলিওসহ বাকি টিকার সংকট প্রকট। রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলার বেশির ভাগেই নেই ৬টি টিকা। বাকি বিভাগের কয়েকটি জেলায় দুই থেকে তিন মাসের মজুত থাকলেও অধিকাংশ টিকার মজুতই শূন্য। আরও পড়ুন: হামের প্রকোপের মধ্যে দেখা দিলো নতুন আতঙ্ক এদিকে, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের জাতীয় পোলিও এবং হাম-রুবেলা ল্যাবরেটরির সাবেক প্রধান ভাইরোলজিস্ট ডা. খন্দকার মাহবুবা জামিল আশঙ্কা করেন, টিকার সংকট থাকলে প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে হামের মতো প্রায় নির্মূল হওয়া অন্যান্য রোগেরও। একদিকে বিভিন্ন জেলার তথ্য অনুযায়ী ৬ ধরণের টিকার সংকট, অপরদিকে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন, কী পরিকল্পনা আছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের? বা কতটুকু সংকট মোকাবিলা করতে পারবে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)? এমন প্রশ্নে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস শোনালেন হাম-রুবেলার সফলতার কথা। তিনি বলছেন, বাকি ইপিআই শিডিউলের সব টিকাই মজুত আছে তাদের কাছে। মহাপরিচালক বলেন, এরইমধ্যে হামের প্রাদুর্ভাবের যে পর্যায়টি ছিল, সেটি কিছুটা হলেও কমে এসেছে। ইপিআই শিডিউলের সব টিকাই আমাদের মজুত আছে। শিশুদেরকে এসব রোগ থেকে রক্ষা করতে পারবো বলে আশা করি। আরও পড়ুন: হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য সব রোগেরই ঝুঁকি ঠেকাতে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
Go to News Site