Collector
আজহারী-জারার এআই ভিডিও দিয়ে প্রচার, যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি | Collector
আজহারী-জারার এআই ভিডিও দিয়ে প্রচার, যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি
Jagonews24

আজহারী-জারার এআই ভিডিও দিয়ে প্রচার, যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী, ডা. তাসনিম জারাসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তির ভুয়া ভিডিও দিয়ে প্রচার চালিয়ে যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি করছিল একটি চক্র। পুলিশ এরই মধ্যে চক্রটির ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। পাশাপাশি তিন টন ট্রাকের সমপরিমাণ ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- মো. সারাফাত হোসেন (২১), সাফায়েত হোসেন শুভ (২১), তৌকি তাজওয়ার ইলহাম (১৯), তাকিবুল হাসান (২১), আব্দুল্লাহ আল ফাহিম (২২), মিনহাজুর রহমান শাহেদ (১৯), শাহামান তৌফিক (২১), ইমন হোসেন বিজয় (২১), অমিদ হাসান (২১) ও মো. ইমরান (২৪)। হারুন অর রশিদ বলেন, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ কলোনি এলাকা থেকে নয়জনকে এবং শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার চন্দ্রিমা মডেল টাউনের অ্যাভিনিউ-১ এলাকা থেকো ইমরানকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ১১টি ল্যাপটপ, ১৩টি স্মার্টফোন, ৩৪টি ফিচার ফোন, দুটি পেনড্রাইভ, ২১টি সিম ও বিপুল পরিমাণ যৌন উত্তেজক অবৈধ ওষুধ জব্দ করা হয়। উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, এআই ও ডিফফেক দিয়ে ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর ভুয়া ভিডিও তৈরি করে বিজ্ঞাপন প্রচার করে যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি করছিল চক্রটি। এই বিষয়ে পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন তার স্টাফ অফিসার। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আজহারীর ছবি, ভিডিও ও কণ্ঠস্বর নকল করে প্রতারকরা বিকৃত ভিডিও তৈরি করছিল। এসব ভিডিও দেখে মনে হয়, তিনি নিজেই বক্তব্য দিচ্ছেন এবং যৌন উত্তেজক ওষুধের প্রচারণা চালাচ্ছেন। এই ভিডিও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে দিয়ে ‘ইউরোসিন’ ও ‘জেনসিন’ নামের দুটি ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছিল। চট্টগ্রামের বায়োজিদ বোস্তামী এলাকায় তাদের কল সেন্টার ছিল আর মোহাম্মদপুরের গুদামে ছিল ওষুধ। প্রতারকেরা স্টেডফাস্ট ও পাঠাও কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ পদ্ধতিতে সেগুলো অর্ডারকারীদের কাছে সরবরাহ করতো। গ্রেফতারদের বয়স ১৯ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে সারাফাত এই চক্রের মূল সংগঠক। তার প্রযুক্তি জ্ঞান আছে এবং ওয়েব ডিজাইন করতে পারেন। তিনি ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাতেন। আরেকজন শাফায়েত ডিপফেক ও এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করতেন। এক প্রশ্নের জবাবে উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, ভুক্তভোগীর সংখ্যা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। মোহাম্মদপুরের গুদাম থেকে প্রায় তিন টন ট্রাকভর্তি ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। দেশে আরও একাধিক গুদাম থাকতে পারে। প্রতারকরা যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতারণা চালিয়ে আসছিল, সেহেতু বহু মানুষ এর শিকার হয়েছেন। এসব ওষুধ সেবনে কেউ শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কি না, সেটিও তদন্তসাপেক্ষ। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কুরিয়ার সার্ভিসের কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে অতীতের কোনো মামলা পাওয়া যায়নি। হারুন অর রশিদ উল্লেখ করেন, প্রতারকদের কল সেন্টারে ল্যাপটপ লগইন অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেখানে ডা. তাসনিম জারা ও ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের ভিডিও পাওয়া গেছে। কেআর/একিউএফ

Go to News Site