Jagonews24
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বেসরকারি এনজিও সংস্থা কোডেক’র ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে চুল ধরে মারধরসহ শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এনজিওকর্মীদের বিরুদ্ধে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ধানখালী ইউপি গন্ডামারী গ্রামে ওই গৃহবধূর নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এসময় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই গৃহবধূকে চুল ধরে কিল-ঘুসি ও তলপেটে লাথি মারলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ওই গৃহবধূ হাসপাতালে প্রসূতি বিভাগে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালে শয্যায় আহত গৃহবধূ খাইরুন বেগম বলেন, গত বছর ডিসেম্বরে কোডেক থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে কুয়েতে পাড়ি জমান তার প্রবাসী স্বামী নজির মোল্লা। অভাবের সংসারে রেখে যান তিন সন্তান ও অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ খায়রুন বেগমকে। তবে বিদেশ গিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এখনো টাকা পাঠাতে পারেননি প্রবাসী নজির মোল্লা। ফলে দুই ছেলে, এক মেয়ে ও অনাগত সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন এই গৃহবধূ। এরই মাঝে কিস্তি পরিশোধে প্রতি সপ্তাহে বাড়িতে গিয়ে চাপ দিচ্ছিলেন কোডেক কর্মীরা। ফলে অভাবের মধ্যেও দুইটি কিস্তি পরিশোধ করেছেন তিনি। শনিবার দুপুরে ফের গণ্ডামারী গ্রামে ওই গৃহবধূর বাড়িতে কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য যান ধানখালী শাখার ম্যানেজার মনিরসহ আরও তিনজন। এসময় গৃহবধূকে বকেয়া কিস্তি পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন ওই এনজিওর দুই নারী কর্মী। কিন্তু ঘরে অর্থ না থাকায় প্রবাস থেকে টাকা পাঠালেই দেওয়ার কথা বলেন খাইরুন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অফিসে নিয়ে গিয়ে বেধে রেখে আদায়ের কথা বলেন ম্যানেজার মনির হোসেন। খাইরুনের অভিযোগ, এসময় তিনি অসুস্থতার কথা জানালে তাকে নারী কর্মীরা বাজে ভাষায় গালমন্দ শুরু করেন। একপর্যায় তিনি এনজিও কর্মীদের বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বললে ম্যানেজার মনির তার চুল ধরে তাকে ঘরের বাইরে টেনে বের করার চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী গৃহবধূ দরজা ধরে থাকলে সজোরে লাথি দেন মনির। এতে তিনি ছিটকে পড়ে যান। এরপরে এনজিওর নারীকর্মীরা তাকে এলোপাথাড়ি চড়-থাপ্পড় দেন। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে এনজিওকর্মীরা বাড়ি ত্যাগ করেন। স্থানীয় সংরক্ষিত আসনের নারী ইউপি সদস্য মালা বেগম জানান, আমিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একটি সালিশ বৈঠকে ছিলাম। এসময় খবর পাই এনজিও কর্মীরা অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধর করেছে ও তিনি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করি। অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধরের বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আহত গৃহবধূর চাচি শাশুড়ি পরীবানু বলেন, ঘটনার সময় আমি প্রত্যক্ষদর্শী ছিলাম। বউমা প্রথমে অনেক অনুরোধ করে বলেছে টাকা পাঠালেই বকেয়া কিস্তি পরিশোধ করে দেবে। কিন্তু তাকে অফিসে তুলে নিয়ে গিয়ে বেঁধে রেখে টাকা আদায়ের কথা বলে কোডেকের ম্যানেজার। এসময় খাইরুন তাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বললে ম্যানেজার তার চুলের মুঠি ধরে টেনে ঘরের বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করে। আর অন্য নারী কর্মীরা চড়-থাপ্পড় মারে। উপায় না পেয়ে খায়রুন শক্ত করে দরজা ধরে থাকলেও তাকে লাথি মারে। কলাপাড়া হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ববি মালকার বলেন, ওই গৃহবধূকে পেটে আঘাত করা হয়েছে। তার আলট্রাসনোগ্রাম হয়েছে। পেটে চার মাসের সন্তান ভালো আছে। তবুও তলপেটে আঘাতজনিত কারণে তাকে ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে এনজিও কোডেকের ধানখালী শাখার ম্যানেজার মনির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি হামলার ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, টাকা বকেয়া হওয়ায় আমরা তার বাড়িতে নারী কর্মী নিয়ে গিয়েছিলাম। তাকে কোনো মারধর করা হয়নি। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়টি আমাদের কেউ অবহিত করেনি। তবে এটি ঘটে থাকলে দুঃখজনক ঘটনা। আমাদের কাছে এলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসাদুজ্জামান মিরাজ/এমএন/এমএস
Go to News Site