Somoy TV
দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্যাপের পানি নিরাপদ কি না এ প্রশ্ন ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে পরিশোধিত ট্যাপের পানি শুধু নিরাপদই নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে বোতলজাত পানির চেয়েও স্বাস্থ্যকর হতে পারে।বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গি খ্যাতনামা জীববিজ্ঞানী চো-জে-চিয়ন বলেন, বোতলজাত পানি দীর্ঘদিন প্লাস্টিকে সংরক্ষিত থাকার কারণে তার স্বাভাবিক সতেজতা হারায়। তার ভাষায়, ‘বোতলজাত পানি অনেকটা মৃত পানির মতো’ যেখানে সরাসরি ট্যাপের পানি তুলনামূলকভাবে বেশি সতেজ থাকে। আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংস্থা গ্রিনপিসের তথ্য মতে, ২০২০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় ৫.৬ বিলিয়নের বেশি প্লাস্টিক পানির বোতল ব্যবহার হয়েছে। এই প্লাস্টিক সম্পূর্ণভাবে ভাঙতে ৪০০-৫০০ বছর পর্যন্ত সময় লাগে এবং এর ক্ষুদ্র কণা খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে আবার মানুষের শরীরে ফিরে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি লিটার বোতলজাত পানিতে প্রায় ৬০ লাখ মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা। একই পরিমাণ ট্যাপের পানিতে প্রায় ২০ লাখ কণা অর্থাৎ বোতলজাত পানিতে প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি তিনগুণ বেশি। আরও পড়ুন: এক লিটার বোতলজাত পানিতে আড়াই লাখ প্লাস্টিকের কণা! অন্যদিকে সিউলের ট্যাপের পানি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৩০৩টি মানদণ্ড পূরণ করেছে। এছাড়া এটি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মান সংস্থা থেকেও স্বীকৃতি পেয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা কোরিয়ার ট্যাপের পানি শীর্ষ অবস্থান অর্জন করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্যাপের পানি সরবরাহের প্রক্রিয়া কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। নদী ও বাঁধ থেকে পানি সংগ্রহ উন্নত প্রযুক্তিতে পরিশোধন ও জীবাণুমুক্তকরণ রিজার্ভারে সংরক্ষণ। এরপর পাইপলাইনের মাধ্যমে বাড়িতে সরবরাহ এই প্রক্রিয়ার বড় অংশ পরিচালনা করে কোরিয়া পানি সম্পদ কর্পোরেশন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পর্যায় পর্যন্ত পানি সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে। দক্ষিণ কোরিয়ার বড় শহরগুলোতে ট্যাপের পানি সাধারণত নিরাপদ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। তবে পুরনো পাইপলাইন ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে সব এলাকায় সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়। আরও পড়ুন: গরমে ঠান্ডা পানি খেয়ে ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছেন না তো? সমস্যা মূলত পুরনো পাইপলাইন (৫০ বছর পর্যন্ত ব্যবহৃত) ও ভবনের ভেতরের জীর্ণ পাইপ। অঞ্চলভেদে অবকাঠামোর পার্থক্য এক জরিপে দেখা গেছে, ৩৪.৩ মানুষ ট্যাপের পানি না খাওয়ার কারণ হিসেবে পুরনো পাইপকে দায়ী করেছেন। পানি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ছোট শহর বা গ্রাম। এদিকে সরকার নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে পানি পরীক্ষা সেবা চালু করেছে। আবেদন করলে কর্মকর্তারা বাড়িতে এসে ট্যাপের পানির মান পরীক্ষা করে রিপোর্ট প্রদান করেন।
Go to News Site