Jagonews24
কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় একটি ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় প্রায় ৪০ বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত ৪৫ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। উপজেলার স্লুইসগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, ২০ এপ্রিল রাতে ভাটা থেকে অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গত হওয়ার পর আশপাশের কৃষিজমির ধানগাছ পুড়ে যায়। শুধু ধান নয়, ওই ধোঁয়ার প্রভাবে বসতবাড়ির আশপাশের ফলজ গাছ ও বাঁশঝাড়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তাদের দাবি। স্থানীয় কৃষক আবদুস ছালাম বলেন, তিনি ২৫ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন। ঘটনার আগের দিন জমি দেখে গেলেও পরদিন এসে দেখেন প্রায় সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষতিপূরণ চাইতে গেলে ভাটার পক্ষ থেকে অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আরেক কৃষক শহীদ মিয়া বলেন, ভাটার মৌসুম শেষে অতিরিক্ত কয়লা পোড়ানোর কারণে এই ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছে, যা তাদের ফসলের ক্ষতি করেছে। একই অভিযোগ করেন কৃষক আবদুল আজিজ। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করলেও এ ধরনের ক্ষতি আগে দেখেননি। এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া তাদের পক্ষে কঠিন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভাটার মালিক রফিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, আমার ইটভাটার চিমনি ১০০ ফিট উচ্চতায়, তাছাড়া গত এক সপ্তাহ থেকে আমি ইট পোড়াচ্ছি না। তাই ধোঁয়ার কারণে নয় তীব্র গরম হাওয়ার কারণে এ ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে। কুড়িগ্রাম জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম বলেন, ইটভাটাগুলোর ফায়ারিং চেম্বারে গ্যাস জমা থাকে। ইট পোড়ানো বন্ধ করার পর ভাটার ফায়ারিং চেম্বার মুখ খুলে দিলে ওই গ্যাসগুলো যেদিক দিয়ে পরিবেশে অবমুক্ত হয় ওই অংশের চারপাশের ফসলি জমি ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। তাই ফায়ারিং চেম্বারের গ্যাস পরিবেশে অবমুক্ত করার আগে আশেপাশের জমিতে ফসল আছে কি না সেটি দেখে নিয়ে তারপর ছেড়ে দিতে হবে। রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়েকুল হাসান খান বলেন, এখন পর্যন্ত কৃষকদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোকনুজ্জামান মানু/এনএইচআর
Go to News Site