Collector
‌‘তীর্থের কাকের মতো চেয়ে থাকি কখন বিদ্যুৎ আসে’ | Collector
‌‘তীর্থের কাকের মতো চেয়ে থাকি কখন বিদ্যুৎ আসে’
Jagonews24

‌‘তীর্থের কাকের মতো চেয়ে থাকি কখন বিদ্যুৎ আসে’

‘বোরো আবাদের জন্য বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়ে মোটর দিয়ে পানি দিই। ইদানীং তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বেশি পানির প্রয়োজন হচ্ছে। আমরা তীর্থের কাকের মতো চেয়ে থাকি কখন বিদ্যুৎ আসে। সেচ শুরু করার পরেই বিদ্যুৎ চলে যায়। আবার আসে, কিছুক্ষণ পর ফের চলে যায়। এভাবেই চলছে কৃষকের দিন।’ শনিবার (২৫ এপ্রিল) জাগো নিউজকে কথাগুলো বলছিলেন নাটোরের সিংড়া এলাকার কৃষক আজিজুর রহমান। লালপুরের বাসিন্দা সুজন মাহমুদ বলেন, ‘ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দোকান ও ক্ষুদ্র শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।’ রফিকুল ইসলাম নামে একজন কৃষক জানান, সেচে বিঘ্ন ঘটায় আবাদে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। জানি না শেষ পর্যন্ত কি পরিস্থিতি হয়। ছোট কারখানার মালিক রমজান আলী বলেন, বিদ্যুতের অভাবে তার কারখানায় উৎপাদন করতে পারছেন না। কিন্তু শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। গ্রাহকরা বলছেন, সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের সমস্যা বেশি প্রকট হয়। অনেক স্থানে ভোল্টেজ ওঠানামা করে। নাটোরে তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও ২ এর আওতাভুক্ত লাখ লাখ গ্রাহক। দিনে ও রাতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। বিদ্যুতের অভাবে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। প্রচণ্ড গরমে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের হারিকেন বা মোমবাতি জ্বালিয়ে লেখাপড়া করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শহরতলি ও গ্রামীণ এলাকায় এই সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময় ছাড়াই দিন ও রাতে ১০ থেকে ১২ বার বিদ্যুৎ চলে যায়। আধা ঘণ্টা এক ঘণ্টা পার না হতেই আবার বিদ্যুৎ চলে যায়। কোথাও এক-দুই ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং থাকছে। এতে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রচণ্ড গরমের মধ্যে হারিকেন বা মোমবাতি জ্বালিয়ে লেখাপড়া করতে হচ্ছে। ছোট ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সেচ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর অধীন জেলার সাতটি উপজেলাসহ রাজশাহীর বাগমারা, চারঘাট, পুঠিয়া ও বাঘা উপজেলায় উপজেলার গ্রাহকরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১ ও ২ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত চাহিদা, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ঘাটতি এবং কিছু এলাকায় কারিগরি ত্রুটির কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন বাড়তি চাহিদার চাপ সামাল দিতে কর্তৃপক্ষকে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার মাহবুবুর রশীদ বলেন, তার এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ১০৮ মেগাওয়াট। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে ৪৮ থেকে ৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ফলে প্রতি ঘণ্টায় লোডশেডিং ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি -১ এর জেনারেল ম্যানেজার ফখরুল আলম জানালেন একই কথা। বলেন, সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। পাশাপাশি লাইন রক্ষণাবেক্ষণ ও ত্রুটি দ্রুত সমাধানে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। এদিকে দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। রেজাউল করিম রেজা/এমআরএম

Go to News Site