Somoy TV
আর মাত্র দেড় মাস। উত্তর আমেরিকার মাঠে বিশ্বকাপ উন্মাদনার অপেক্ষায় উন্মুখ হয়ে আছে পুরো বিশ্ব। কিন্তু মাঠের উত্তাপ শুরু হওয়ার আগেই মাঠের বাইরের এক সতর্কবার্তা কাঁপিয়ে দিচ্ছে ফুটবল প্রেমীদের। যুক্তরাষ্ট্রে হতে যাওয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য এক নজিরবিহীন ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ ১২০টিরও বেশি মানবাধিকার সংস্থা। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠিন অভিবাসন আর কড়া ইমিগ্রেশন নীতির কারণেই এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে দাবি সংস্থাগুলোর।বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই মহামিলন। গ্যালারি ভর্তি হাজারো কণ্ঠের জয়ধ্বনি আর পতাকায় পতাকায় রঙিন এক পৃথিবী। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ এখনো যেন কিছুটা মেঘাচ্ছন্ন। ফুটবলের সেই আনন্দযাত্রায় এবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজনীতি আর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শঙ্কা। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ মোটেও নিরাপদ নয় সবার জন্য। অ্যামনেস্টিসহ অধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি আর বর্ণবাদী আচরণে বিপন্ন হতে পারে সাধারণ পর্যটকদের নিরাপত্তা। বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ, ল্যাটিনো এবং মুসলিম প্রধান দেশগুলো থেকে আসা দর্শকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। বলা হয়েছে, বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও এয়ারপোর্টে হেনস্তা, যত্রতত্র ফোন তল্লাশি কিংবা ‘অ্যান্টি-আমেরিকান’ তকমা দিয়ে আটকে দেওয়ার ভয় এখন অমূলক নয়। বিশেষ করে মিনেসোটা বা লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো শহরগুলোতে যে ধরনের সামরিক কায়দায় তল্লাশি চলছে, তাতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়েই বড় প্রশ্ন উঠেছে। আরও পড়ুন: রদ্রিগোর পর বিশ্বকাপে আরেক তারকাকে হারানোর শঙ্কায় ব্রাজিল পরিসংখ্যান বলছে, শঙ্কাটা শুধু কাগজে-কলমে নয়। ১৯টি দেশের নাগরিকদের ওপর পূর্ণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আর ২০টি দেশের ওপর আংশিক কড়াকড়ি এরই মধ্যে কার্যকর করেছে হোয়াইট হাউজ। ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আইসিই হেফাজতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৭ জন। বর্তমানে আটক আছেন প্রায় ৬৮ হাজারেরও বেশি মানুষ। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এই পরিসংখ্যান ফুটবল ভক্তদের জন্য এক অমানবিক সংকেত। তবে এই সতর্কবার্তাকে ভালো চোখে দেখছেন না পর্যটন কর্মকর্তারা। ইউএস ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, এটি কেবলই একটি রাজনৈতিক চাল। তাদের দাবি, গেল বছর ৬৭ মিলিয়ন মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। তাই, ফুটবল উন্মাদনাকে পুঁজি করে অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই এই ভয় দেখানো হচ্ছে বলে দাবি তাদের। ফিফা যদিও মানবাধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, কিন্তু মাঠের বাইরের সহিংসতা আর বর্ডার ক্র্যাকডাউনের কোনো উত্তর জানা নেই কর্তাদেরও। আরও পড়ুন: বাংলাদেশের হয়ে খেলতে চান অ্যাডাম আব্বাস ও জিদান ইউসুফ বিশ্বকাপ মানে সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের মেলবন্ধন। কিন্তু যে দেশে প্রবেশের আগেই সন্দেহের চোখে তাকাতে হয়, সেই দেশে ফুটবল কি সত্যি তার রোমাঞ্চ ধরে রাখতে পারবে? তাই তো অ্যামনেস্টির পরামর্শ, ফোনের ডাটা সুরক্ষিত রাখা আর প্রয়োজনে জরুরি সাহায্য পাওয়ার জন্য ডাউনলোড করে রাখতে হবে বিশেষ অ্যাপ। কারণ, পাসপোর্টের পাতায় সিল কিংবা স্টেডিয়ামের টিকিট হাতে থাকলেও যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার মিলবে, তার গ্যারান্টি যে দিতে পারছে না খোদ ফিফাও।
Go to News Site