Collector
বৈশ্বিক সংকটে বাস্তবমুখী পররাষ্ট্রনীতির বিকল্প নেই | Collector
বৈশ্বিক সংকটে বাস্তবমুখী পররাষ্ট্রনীতির বিকল্প নেই
Jagonews24

বৈশ্বিক সংকটে বাস্তবমুখী পররাষ্ট্রনীতির বিকল্প নেই

বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক চাপ এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্র্যাগমেটিক বা বাস্তবমুখী হওয়া জরুরি বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ। তিনি বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের জীবনমানকে অগ্রাধিকার দিয়েই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নির্ধারণ করতে হবে। সম্প্রতি জাগো নিউজকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক খালিদ হোসেন। জাগো নিউজ: বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে সরকারের অবস্থান কেমন হওয়া উচিত? ড. সাইমুম পারভেজ: বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পুরো বিশ্বের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো জ্বালানি সংকট; কারণ এটি উৎপাদন, পরিবহন ও অর্থনীতিকে সরাসরি প্রভাবিত করে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি দ্রুত পরিবর্তনশীল। কোনো একক পক্ষের দিকে ঝুঁকে পড়া বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই বাস্তবতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘স্থায়ী বন্ধু’ বা ‘স্থায়ী শত্রু’ বলে কিছু নেই। রাশিয়া, চীন বা ভারত—সবার সঙ্গেই বাস্তব প্রয়োজনে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত জনগণ ও অর্থনীতি। আদর্শ ভিত্তিক নীতি অনেক সময় সীমাবদ্ধতা তৈরি করে, তাই ‘প্র্যাগমেটিক’ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো অনেকে বাস্তবসম্মত মনে করেননি। কিন্তু সরকার গঠনের পরপরই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী কর্মসূচি চালু হয়েছে। এসব প্রকল্প আগে থেকেই সুপরিকল্পিত ছিল। সরকারের অগ্রগতি দুইভাবে দেখা যায়—সামগ্রিক প্রশাসনিক তৎপরতা ও সরকার প্রধানের নেতৃত্ব। জাগো নিউজ: বর্তমান সরকারের দুই মাস পার হলো। সামগ্রিক মূল্যায়ন কীভাবে করবেন? ড. সাইমুম পারভেজ: নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো অনেকে বাস্তবসম্মত মনে করেননি। কিন্তু সরকার গঠনের পরপরই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী কর্মসূচি চালু হয়েছে। এসব প্রকল্প আগে থেকেই সুপরিকল্পিত ছিল। সরকারের অগ্রগতি দুইভাবে দেখা যায়—সামগ্রিক প্রশাসনিক তৎপরতা ও সরকার প্রধানের নেতৃত্ব। অল্প সময়ের মধ্যে এসব জনকল্যাণমুখী প্রজেক্ট চালু করা একটি বড় অর্জন। এটি প্রমাণ করে যে, সরকারের পূর্বপ্রস্তুতি ছিল এবং দ্রুত বাস্তবায়নের সক্ষমতাও রয়েছে। আরও পড়ুননবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে বাংলাদেশে ভালো জ্বালানির সংকটে ‘অদৃশ্য মূল্যস্ফীতি’ তৈরি হয় সরকার জ্বালানির দাম বাড়িয়ে অনাস্থার শিকার হলো  জাগো নিউজ: এসব প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে চালিয়ে নেওয়া কি সম্ভব হবে? বাজেটে এর প্রভাব কেমন? ড. সাইমুম পারভেজ: এসব প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ আসবে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী থেকে, যেখানে বছরে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকে। প্রথম ধাপে ৫০ লাখ পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। এতে বছরে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে, যা বিদ্যমান বাজেট কাঠামোর মধ্যেই সংস্থান করা সম্ভব। এখানে মূল চ্যালেঞ্জ বাজেট নয়, বরং সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সরাসরি প্রকৃত সুবিধাভোগীর কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়া। আন্তর্জাতিক রাজনীতি দ্রুত পরিবর্তনশীল। কোনো একক পক্ষের দিকে ঝুঁকে পড়া বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই বাস্তবতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘স্থায়ী বন্ধু’ বা ‘স্থায়ী শত্রু’ বলে কিছু নেই। রাশিয়া, চীন বা ভারত—সবার সঙ্গেই বাস্তব প্রয়োজনে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত জনগণ ও অর্থনীতি। জাগো নিউজের প্রতিবেদকের সঙ্গে ড. সাইমুম পারভেজ জাগো নিউজ: বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী বলে আপনি মনে করেন? ড. সাইমুম পারভেজ: সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। সরকারে এসে দুর্নীতি দমন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করা একটি কঠিন কাজ। নির্বাচন কমিশন বা দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যদি স্বাধীন না হয়, তবে টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়। রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যক্তিনির্ভরতা কমিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হবে মূল কাজ। জাগো নিউজ: আপনার মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ২৫ কোটি গাছ লাগানোর প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা কী? ড. সাইমুম পারভেজ: প্রকল্পটি বর্তমানে পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। প্রথম বছরে দেড় কোটি ম্যানগ্রোভ গাছ লাগানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকা ও নতুন চরাঞ্চলে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। ম্যানগ্রোভ গাছ কার্বন শোষণে সবচেয়ে কার্যকর। মেঘনা অববাহিকা ও হাতিয়াসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে যে নতুন ভূমি জেগেছে, সেখানে লবণাক্ত পরিবেশে টিকে থাকতে পারে এমন গাছ লাগানো হবে। এই প্রকল্প সফল হলে ভূমি পুনরুদ্ধার ও পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, কার্বন ক্রেডিট থেকে বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। জাগো নিউজ: ওইসব চরাঞ্চলে কি মানুষের বসবাসের সুযোগ তৈরি হবে? ড. সাইমুম পারভেজ: প্রাথমিক পর্যায়ে বসবাস সম্ভব নয়। আগে বনায়নের মাধ্যমে জমি স্থিতিশীল করতে হবে। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে কিছু এলাকায় পরিকল্পিত জনবসতি গড়ে উঠতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কিছু এলাকা কেবল বনাঞ্চল হিসেবেই সংরক্ষিত থাকবে। জাগো নিউজ: প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে? ড. সাইমুম পারভেজ: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে বাস্তববাদী ও ভারসাম্যপূর্ণ। পারস্পরিক সম্মান এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র—এই অবস্থান থেকেই সব সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কও ভবিষ্যতে পারস্পরিক স্বার্থ ও বাস্তবতার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে। জাগো নিউজ: ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী? ড. সাইমুম পারভেজ: ব্যারিস্টার জাইমা রহমান দীর্ঘদিন বিদেশে পড়াশোনা ও পেশাগত কাজ করেছেন। তার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে আসবেন কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তিনি এখনো বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ ও শেখার পর্যায়ে আছেন বলে মনে হয়। জাগো নিউজ: তার কি রাজনীতিতে আসার আগ্রহ আছে? ড. সাইমুম পারভেজ: তিনি সরাসরি কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানাননি। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, এমন শিক্ষিত ও তরুণ নেতৃত্বের রাজনীতিতে আসা উচিত। শেষ পর্যন্ত এটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। জাগো নিউজ: ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন নিয়ে কী বলবেন? ড. সাইমুম পারভেজ: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বাস্তবসম্মত সমাধান প্রয়োজন। আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—বাংলাদেশ আয়তনে ছোট হলেও একটি স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র। এই মর্যাদা বজায় রেখেই আমরা সুসম্পর্ক চাই। ভবিষ্যৎ সম্পর্ক দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও বাস্তবতার ওপরই দাঁড়িয়ে থাকবে। জাগো নিউজ: ব্যস্ততার মাঝে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। ড. সাইমুম পারভেজ: আপনাদেরও ধন্যবাদ। কেএইচ/এসএইচএস

Go to News Site