Collector
সূর্যালোক কম থাকলেও অনেক দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে এগিয়ে যাচ্ছে | Collector
সূর্যালোক কম থাকলেও অনেক দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে এগিয়ে যাচ্ছে
Jagonews24

সূর্যালোক কম থাকলেও অনেক দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে এগিয়ে যাচ্ছে

জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ার দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালিত হয়েছে। পর্যাপ্ত সূর্যালোক থাকার পরও আমরা কেন নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে এগিয়ে যেতে পারছি না সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন বক্তারা। রোববার (২৬ এপ্রিল) ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এ কর্মসূচির আয়োজন করে। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু ন্যায্যতার আন্দোলনের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আগামী ২৮-২৯ এপ্রিল ২০২৬, কলম্বিয়ার সান্তা মার্তায় অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক সম্মেলন। সেখানে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বের হওয়ার কৌশল এবং ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনা হবে। এ বিষয়কে সামনে রেখে ঢাকাসহ দেশের ১০টি স্থানে মানববন্ধন, আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ব্রাইটার্স, ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ার্স, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন, সিপিআরডি, ইক্যুইটিবিডি, গর্জন সমাজকল্যাণ সংস্থা, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন, কান্দিভিটা সমউন্নয়ন মহিলা সমিতি (কসমস), মিশনগ্রীন বাংলাদেশ, ওএবি ফাউন্ডেশন, ওসিআরইসি, রিভাইরাইন পিপল, রিভার বাংলা, ইউক্যান, ইয়োডো ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ধরার সদস্য ও শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, কৃষিনির্ভর মানুষের হাজার হাজার একর জমি জ্বালানির নামে অধিগ্রহণ করে তাদের বাস্তুহারা করা হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হলে দেখা গেলো এসব জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়, ফলে সার ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অথচ বিশ্বের যেসব দেশ আমাদের পরামর্শ দেয়, তাদেরও সব সময় সূর্যালোক থাকে না, তবুও তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে এগিয়ে যাচ্ছে- বলছিলেন মীর মোহাম্মদ। আমাদের দেশে পর্যাপ্ত সূর্যালোক থাকার পরও আমরা সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হচ্ছি জানিয়ে বলেন, জ্বীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরের আমাদের এখনই সময়। সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির (সূর্য, বায়ু, জল) বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের অভাবে আমরা তা কাজে লাগাতে পারছি না। উপকূলজুড়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, বিশেষ করে রামপাল, সুন্দরবন ও মানুষের জীবন-জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলছে। আমাদের দাবি-রামপালসহ সব কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ করে পরিবেশ, সাগর, বন ও মৎস্যসম্পদ রক্ষা করতে হবে জানিয়ে বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ নিশ্চিত করে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে। ব্রাইটার্সের সোহানুর রহমানের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের শাহরিয়ার শাওন এবং জাহিদ হাসান, ব্রাইটার্সের সাইদুর রহমান সিয়াম, ওসিআরইসির আবু সাদা’ত মো. সায়েম, গর্জনের ফারজানা উর্মী, মিশনগ্রীনের আরমান। এ কর্মসূচি ঢাকা ছাড়াও বাগেরহাট জেলার মোংলা, বরগুনা জেলার বরগুনা সদর, তালতলী ও পাথরঘাটা, পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া, কক্সবাজার জেলার পেকুয়া ও কুতুবদিয়া, জামালপুর জেলার জামালপুর সদর এবং পাবনা জেলার চাটমোহরসহ বিভিন্ন স্থানে একযোগে পালিত হয়। এসব কর্মসূচিতে মানববন্ধন, আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত যা জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তুলেছে বলে জানানো হয়। এসময় বক্তারা জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরেন। এএসএ/এমএস

Go to News Site