Somoy TV
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর (২৬) মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিভাগীয় প্রধান কাজী তামান্না হক সিগমা।রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে সাংবাদিকদের কাছে এ দাবি জানান তিনি।এর আগে রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড্ডা থানা পুলিশ উত্তর বাড্ডা পূর্বাচল উদয়ন ম্যানশন ১০ নম্বর লেনের ৫৯০ নম্বর বাড়ির নবম তলা থেকে মিমোর মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। আরও পড়ুন: ঢাবি ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার: শিক্ষককে নিয়ে চিরকুটে যা লেখা আছেকাজী তামান্না হক সিগমা বলেন,খবর পেয়ে আমরা শিক্ষকরা ওই বাসায় যাই। ও বাবা-মার সাথেই থাকতো। আর সে খুবই চঞ্চল, হাসি-খুশি, আমুদে এবং ভীষণ কাজ প্রেমী। খুব সিনসিয়ার ছিল। এইটা (মৃত্যু) আসলে একদমই অনাকাঙ্ক্ষিত এবং ধারণারই বাইরে। আমরা প্রথমত ভাবতেই পারছি না যে ও যেখানে অন্যকে উজ্জীবিত করে তার কি বেদনা বা কি এমন হয়ে গেল যে সে তার জীবনটা দিয়ে দিলো।তিনি আরও বলেন, আমরা সত্যিই খুবই মর্মাহত। আশ্চর্য লাগছে আমার সবকিছু। আমরা শিক্ষকরা বুঝতে পারছি না যে আসলে এই ক্ষতি আমরা কিভাবে পোষাব।সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি দাবি করে এই শিক্ষক বলেন, আমরা এটা মনে প্রাণে চাই এটার একটা সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং এটা বিচারের মাধ্যমে যারা এই মৃত্যুর জন্য দায়ী তাদের সাজা হোক এবং সঠিক বিচার হোক।মরদেহের পাশ থেকে একটা চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে তিনি বলেন,পুলিশ বলেছে। আমরা সরাসরি দেখিনি। মুখে মুখে আসলে একজন আরেকজনকে বলতে বলতে যেটা হয় ওইভাবে দেখা। পুলিশ যখন আমাদের সাথে কথা বলেছেন, উনি বলেছেন যে একটা চিরকুটে সেখানটায় আমাদের বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুদীপ চক্রবর্তী উনার নামটা আছে। পাশাপাশি ওরই একদম ক্লোজ ফ্রেন্ড একসাথে ওরা পড়াশোনা করত উম্মে হানি, এই দুইজনকে উনারা পুলিশ হেফাজতে রেখেছেন। উনারা প্রশ্ন করবেন উনাদের আওতায়। আর আসলে পুলিশ এর থেকে বেশি কিছু আমাদের সাথে শেয়ার করেনি।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ ২০১৯-২০ সেশনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন। তার বাবার নাম মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা। বাড়ি মাদারীপুর শীবচর উপজেলার ডাইয়ারচর। আরও পড়ুন: শিক্ষকসহ দুজন আটক /বাড্ডায় বাসা থেকে ঢাবি ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, চিরকুটে লেখা শিক্ষকের নামমৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফাতেমা সিদ্দিকা সোমা উল্লেখ করেন, বাসাটির এ-৯ নম্বর ফ্ল্যাটে পরিবারের সাথে থাকতেন মুনিরা। বাসায় দরজা বন্ধ করে পরিবারের সবার অগোচরে ফ্যানের সাথে রশি পেচিয়ে গলায় ফাঁস দেন তিনি। টের পেয়ে স্বজনরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় থেকে নিচে নামান। পরবর্তীতে খবর পেয়ে বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মনিরা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গুলশান জোনের (বাড্ডা) এডিসি জুয়েল জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া চিরকুটের ভিত্তিতে বিভাগের শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তীকে প্রাথমিকভাবে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওই ছাত্রীর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী উম্মে হানিকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখা হয়েছে।
Go to News Site