Jagonews24
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে শিল্প খাতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ব্যাটারি আমদানির বিধিনিষেধ এবং কাস্টমস জটিলতায় বাধার মুখে পড়ছেন উদ্যোক্তারা। এমন অভিযোগ তুলে তা দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকরক সমিতি (বিকেএমইএ)। সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা এই মুহূর্তে আমাদের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি সংকটের কারণে।’ রোববার (২৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগাওগাঁয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, ‘এতদিন নেট মিটারিং ব্যবস্থায় সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করে মাস শেষে বিল সমন্বয় করা হতো। কিন্তু বর্তমান লোডশেডিং পরিস্থিতিতে শিল্পকারখানা চালু রাখতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে ‘ব্যাকআপ’ হিসেবে ব্যবহার জরুরি হয়ে পড়েছে। এজন্য ব্যাটারি স্টোরেজ অপরিহার্য হলেও আমদানিতে নানা বিধিনিষেধ থাকায় উদ্যোক্তারা সমস্যায় পড়ছেন।’ ‘দুই-তিন ঘণ্টার লোডশেডিং মোকাবিলায় সোলার জেনারেটর মোডে যেতে হলে ব্যাটারি প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে আমদানি নীতিতে নমনীয়তা দরকার, যাতে আমরা বিদ্যুৎ ঘাটতি নিজেরাই মোকাবিলা করতে পারি,’ যোগ করেন তিনি। মোহাম্মদ হাতেম অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম বন্দরে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার যন্ত্রাংশ আটকে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। একটি প্রতিষ্ঠানের চার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য আমদানি করা মাউন্টিং স্ট্রাকচার কাস্টমস ছাড় দিচ্ছে না। যদিও এ বিষয়ে আগে একটি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এতে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার টাকা বন্দর মাশুল গুনতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে। জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগগুলো আমরা গুরুত্বসহকারে দেখবো। একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা বাস্তবায়ন না হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি নতুন প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনার আশ্বাস দেন এবং অপব্যবহার রোধে সতর্ক থাকার কথাও উল্লেখ করেন। এছাড়া, পোশাক খাতে সাব-কন্ট্রাক্ট ব্যবস্থার জটিলতাও তুলে ধরেন বিকেএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সাব-কন্ট্রাক্ট প্রয়োজন হলেও পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতা থাকায় তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায় না। সেই সঙ্গে এক ইউনিট থেকে অন্য ইউনিটে পণ্য পরিবহনের সময় ভ্যাট কর্মকর্তাদের হয়রানির অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, যেসব কার্যক্রমে জাতীয় অর্থনীতিতে বাস্তব মূল্য সংযোজন নেই, সেগুলোতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা রাখা হবে না। তবে সুবিধা পেতে হলে দেশের জন্য কীভাবে উপকার হচ্ছে তা প্রমাণ করতে হবে। বিকেএমইএ তাদের বাজেট প্রস্তাবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য উৎসে কর ০ দশমিক ৫ শতাংশে স্থির রাখার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তার ওপর বর্তমান ১০ শতাংশ কর প্রত্যাহার এবং সম্পদ বিক্রয়লব্ধ মুনাফা ও সাব-কন্ট্রাক্ট আয়ের ওপর ১২ শতাংশ একক কর হার নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সাব-কন্ট্রাক্টের ক্ষেত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব জানিয়েছে বিকেএমই। সেই সঙ্গে কৃত্রিম তন্তু আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতি বহাল রাখা এবং রিসাইকেলড ফাইবার উৎপাদনে ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাবও রয়েছে সংগঠনটির। এসএম/একিউএফ
Go to News Site