Jagonews24
নরসিংদীর রায়পুরায় ১০ বছরের এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মাদরাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে সালিশের অভিযোগ ওঠে রায়পুরা পৌর বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। এসময় মামলা না করতে শিশুটির পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করা হয়। সালিশ বৈঠকের সময় বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসীর প্রতিরোধ ও মাদরাসা ঘেরাওয়ের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে রায়পুরা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় রোববার (২৬ এপ্রিল) ভুক্তভোগী শিশুটির মা রায়পুরা থানায় মামলা করেন। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি নেতাদের চাপে মামলা গ্রহণ ও অভিযুক্তকে গ্রেফতারে রহস্যজনক ভূমিকা পালন করেছে পুলিশ। ঘটনার পর মাদরাসাটি বন্ধ রয়েছে। গেটে তালা ঝুলছে। অভিযুক্তের নাম জুনায়েদ আহমদ। তিনি পৌর শহরের হাসিমপুর-কলাবাড়িয়া এলাকার জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসার শিক্ষক এবং উপজেলার চান্দেরকান্দি এলাকার মুছলেহ উদ্দিনের ছেলে এবং প্রতিষ্ঠানটির মুহতামিম। ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, দুই মাস আগে রায়পুরা পৌর এলাকার হাসিমপুর-কলাবাড়িয়ার জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসায় ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী ও তার ছোট ভাইকে ভর্তি করানো হয়। সেখানে মাদরাসায় (আবাসিক) থেকে পড়াশোনা করছিল সে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দিনগত রাত ২টার দিকে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা চালান ওই মাদরাসার শিক্ষক জুনায়েদ আহমদ। এতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে সকালে বাড়ি চলে যায়। পরে বিষয়টি পরিবারকে জানালে তাকে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। স্থানীয়রা জানান, ঘটনা জানাজানি হলে নরসিংদী জেলা বিএনপির সহ-কোষাধ্যক্ষ ও রায়পুরা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুল কুদ্দুস এবং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান ভুট্টাসহ স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে সালিশ বসিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করে ঘটনা ধামাচাপা দিতে বলা হয়। পরে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে বন্ধ হয়ে যায় সালিশ। তবে টাকা লেনদের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা আব্দুল কুদ্দুস। তিনি বলেন, ‘আমি একজন ন্যায় বিচারক। টাকার কথাই উঠে নাই। বিচারই হয় নাই। আমাকে ফোন দিয়ে সালিশে নেওয়া হয়। গিয়ে দেখি অনেক মানুষ। তখন আর দরবার করার মতো পরিবেশ ছিল না। তখন আমি চলে এসেছি।’ রায়পুরা পৌর বিএনপি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নেতা হাফিজুর রহমান ভুট্টা বলেন, ‘কার সঙ্গে কী কথা হয়েছে আমরা জানি না। মেয়ের পরিবার ও এলাকার পোলাপান জুনায়েদ হুজুরকে আটক করে। মেয়ের বাবা আমাকে ফোন দেয়। আমি ওখানে যাই। সালিশের মতো পরিবেশ ছিল না। তাই বসতে পারিনি।’ ঘটনার পর মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা বাবুল ভূঁইয়া, মুহতামিম জুনায়েদ দুজনই এখন আত্মগোপনে আছেন। তাদের ব্যবহৃত মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবর রহমান জানান, ছাত্রী ধর্ষণচেষ্টা ঘটনায় বসা সালিশে ঝামেলা হচ্ছে খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়। আজ ভুক্তভোগীর মা থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষককে ধরতে অভিযান চলছে। সঞ্জিত সাহা/এসআর/এমএস
Go to News Site