Somoy TV
টাঙ্গাইলে ইটভাটার আগুন ও ধোঁয়ায় পুড়েছে কৃষকের কপাল। আইন-নিয়মের তোয়াক্কা না করে ইটভাটায় ইট প্রস্তুত করায় স্থানীয় কৃষকের প্রায় শত বিঘা জমির ধান চিটা হয়ে গেছে। এতে স্বপ্নভঙ্গ হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ওই এলাকার কৃষকরা।ইটভাটার পাশেই বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ। ক্ষেতের পর ক্ষেত আধাপাকা ধান। আর ১৫ দিনের মধ্যে ধান কাটার কথা ছিল। কৃষকরা স্বপ্ন দেখেছিলেন সোনালি ধানে গোলা ভরানোর। কিন্তু ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ধান পুড়ে যাওয়ায় সেই স্বপ্ন এখন গুঁড়েবালি। বসতবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে ইটভাটা নির্মাণ নিষিদ্ধ থাকলেও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এই এলাকায় দেড় কিলোমিটারের মধ্যে ৫টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ফসল উৎপাদন কমে গেছে। চলতি বছর আবারও ইটভাটার ধোঁয়ায় পুড়ে গেছে শত শত একর ধান। এতে একদিকে খাদ্য সংকট, অন্যদিকে গোখাদ্য সংকটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আইন অনুযায়ী, কৃষিজমিতে ইটভাটা নির্মাণ নিষেধ থাকলেও অবাধে তা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়ে শ্বাসকষ্টসহ পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এসব ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ ও ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন স্থানীয় কৃষকরা। আরও পড়ুন: মাদারীপুরে ৫ ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা, জ্বালানি কাঠ জব্দ টাঙ্গাইলের কালিহাতীর গিলাবাড়ি এলাকার অটোভ্যান চালক শহিদুল ইসলাম ১ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে ধান চাষ করেছিলেন। কিন্তু ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় তার ধান চিটা হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে সারাবছর চরম কষ্টে দিন কাটাতে হবে বলে জানান তিনি। তিনি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। একই এলাকার আব্দুল ওয়াহেদ জানান, তিনি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এই ধান দিয়েই সারা বছর পরিবারের চাহিদা মেটান। কিন্তু চলতি বছর ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও নির্গত কেমিক্যালের কারণে তার দেড় বিঘা ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কীভাবে সারা বছর চলবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। ক্ষতিপূরণসহ ইটভাটা বন্ধের দাবি জানান তিনি। শহিদুল ও ওয়াহেদের মতো শত শত কৃষক এখন দিশেহারা। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি মাঠ পরিদর্শন করে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, প্রায় ১০০ বিঘা জমির ধান পুড়ে গিয়ে অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন ঘাটাইলের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আল আমিন।
Go to News Site