Collector
চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ডাক্তারের দেখা পান দুই মিনিট | Collector
চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ডাক্তারের দেখা পান দুই মিনিট
Jagonews24

চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ডাক্তারের দেখা পান দুই মিনিট

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। হাসপাতাল ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হলেও সবসময় রোগী ভর্তি থাকেন ৭০ থেকে ৮০ জন। প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৬০০-৭০০ জন ও জরুরি বিভাগে ২০০-২৫০ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীর চাপ এতটাই বেশি থাকে যে পরিস্থিতি অনুযায়ী একজন চিকিৎসক প্রতিদিন গড়ে ১০০-১৫০ জন রোগী দেখে থাকেন। রোগীর প্রচণ্ড চাপের কারণে অনেক সময় ডাক্তাররা রোগীকে ১ থেকে ২ মিনিটের বেশি সময়ও দিতে পারেন না। যার ফলে দ্রুত ব্যবস্থাপত্র লিখে দিতে হয়। বিশেষ করে মেডিসিন বিভাগে রোগীদের ভিড় বেশি থাকে। এ বিভাগের একজন ডাক্তার দিনে ২০০ জনের বেশি রোগীও দেখেন। ফলে চিকিৎসকদের ওপর যেমন চাপ বাড়ছে তেমনি সময় স্বল্পতার জন্য রোগীরাও যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে চিকিৎসকদের সকাল ৯টা থেকে রোগী দেখার নিয়ম থাকলেও বেশিরভাগ চিকিৎসক সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার দিকে রোগী দেখা শুরু করেন। যদিও হাসপাতালের বহির্বিভাগে সকাল ৮টা থেকেই লাইনে দাঁড়ানো শুরু করেন রোগীরা। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে রোগী ও তাদের স্বজনদের ভিড়ে পা ফেলার জায়গা নেই। লম্বা লাইনে তিন থেকে চার ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে রোগীরা পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। চিকিৎসকদের দম ফেলারও সময় নেই। রোগীদের একের পর এক ব্যবস্থাপত্র ও পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। এমনকি বিস্তারিত শোনার মতো সময়ও পাচ্ছেন না তারা। একজন রোগী সর্বোচ্চ এক থেকে দুই মিনিট চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন। তারপর তড়িঘড়ি করে দেওয়া হচ্ছে ব্যবস্থাপত্র। আরও পড়ুন- অবশেষে যশোরবাসীর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্বপ্ন পূরণের পথেসরকারি হাসপাতালের দুঃখ জনবল খরা, আধুনিক যন্ত্রপাতি যেন ‘শো-পিস’পীরগঞ্জ হাসপাতালে আইপিএসের ব্যবস্থা করলেন ইউএনওরোগীর অতিরিক্ত চাপ আর গরমে ভোগান্তি চরমেহাসপাতাল ভবন আছে, সেবার কার্যক্রম নেই ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ হাসপাতাল ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হলেও এখনো পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকবল নিয়োগ হয়নি। দীর্ঘদিন এখানে চিকিৎসকের সংকট থাকলেও সম্প্রতি বেশ কয়েকজন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ২৫ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। চিকিৎসকের পদ খালি রয়েছে আরও ৯টি। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে নার্সের সংখ্যা বাড়েনি। আগের ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের হিসাব অনুযায়ী নার্স রয়েছেন মাত্র ২৬ জন। এছাড়াও অফিস সহকারী, অফিস সহায়ক, পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ বিভিন্ন পদে লোকবল সংকট রয়েছে। হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা মাহবুব খান মিঠুন জাগো নিউজকে বলেন, ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল। ঈশ্বরদীর মতো জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি উপজেলায় হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানো উচিত। প্রতিদিন বহির্বিভাগে ২৫০-৩০০ রোগী দেখার মতো ব্যবস্থা থাকলেও রোগী দেখা হয় ৬০০’র বেশি। এখানে রোগীর খুব চাপ থাকে। আমরা চাই ঈশ্বরদীর এই হাসপাতালটি আরও আধুনিক ও উন্নত করা হোক। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন মুলাডুলি এলাকার আব্দুল হামিদ বলেন, আমার স্ত্রীকে নিয়ে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতালে এসেছিলাম। এখন ১১টা বাজে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। আমার সামনে ও পেছনে লম্বা লাইন। বিদ্যুৎ চলে গেছে, প্রচণ্ড গরমে আমি নিজেই অসুস্থবোধ করছি। অনেক রোগী লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে। উপজেলার আরামবাড়িয়া এলাকার মোজাম্মেল হোসেন মোজাম বলেন, ডাক্তার দেখানোর জন্য এসেছি। ডাক্তার দেখে কয়েকটি টেস্ট দিয়েছে। দীর্ঘক্ষণ হাসপাতালে কারেন্ট (বিদ্যুৎ) ছিল না। তাছাড়া প্রচণ্ড ভিড়। এতে ডাক্তারের কোনো দোষ নেই। টেস্টের রিপোর্টের অপেক্ষায় ৩ ঘণ্টা ধরে বসে আছি। রিপোর্ট পেলে আবার ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ি ফিরে যাবো। হাসপাতালের বহির্বিভাগের রোগীদের সিরিয়াল দেন হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট জাকির হোসেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রোগী দেখার টিকিট দেওয়া হয়। প্রতিদিন ৬০০-৭০০ রোগী বহির্বিভাগে দেখা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক মৌটুসী কুন্ডু মেডিসিন বিভাগে রোগী দেখছিলেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, একেক দিন রোগীর সংখ্যা কমবেশি হয়। প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৭০০-৭৫০ জন করে রোগী দেখা হয়। প্রতিদিন একজন ডাক্তার কমপক্ষে ১০০ রোগী দেখেন। সেজন্য সব রোগীকে একইভাবে সময় দেওয়া সম্ভব না। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করি সব রোগী যাতে যথাযথ চিকিৎসা পায়। রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সবসময় আমরা তা পারি না। রোগীর অতিরিক্ত সংখ্যার জন্য এটি সম্ভব হয় না। ডায়াবেটিস বিভাগের চিকিৎসক তাসনিম তামান্না স্বর্ণা বলেন, ঈশ্বরদী উপজেলা হাসপাতালে প্রচুর রোগী। ডায়াবেটিস কক্ষে রোগী দেখছি, এখানে প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫০ জন রোগী দেখা হয়। এ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে অসংখ্য রোগী আসে। রাতেও রোগীর চাপ থাকে। ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আলী এহসান বলেন, এ হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৬০০-৭০০ ও জরুরি বিভাগে ২০০-২৫০ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এতে দেখা যাচ্ছে একজন রোগীকে যে পরিমাণ সময় দেওয়া দরকার সে সময় দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে চিকিৎসকদের ওপর যেমন চাপ যাচ্ছে, তেমনি রোগীরাও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলার সময় পাচ্ছেন না। ফলে সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা দেওয়া অনেক সময় সম্ভব হয় না। এটি ৫০ শয্যা হাসপাতাল হলেও সবসময় হাসপাতালে ৭০-৮০ জন রোগী ভর্তি থাকছে। হাসপাতালে অফিস সহকারী, সহায়ক ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী সংকট রয়েছে। ফলে হাসপাতাল পরিচালনায় বেগ পেতে হচ্ছে। এফএ/জেআইএম

Go to News Site