Collector
দিনের বেলায় ছোট্ট ঘুমের প্রভাব জানলে অবাক হবেন | Collector
দিনের বেলায় ছোট্ট ঘুমের প্রভাব জানলে অবাক হবেন
Jagonews24

দিনের বেলায় ছোট্ট ঘুমের প্রভাব জানলে অবাক হবেন

দুপুরে বা দিনের বেলায় একটু চোখ লেগে গেলে অনেকেই ভাবেন - এটি অলসতার লক্ষণ। কেউ কেউ আবার দিনের ঘুমকে সময় নষ্ট বলেও মনে করেন। কিন্তু গবেষণা বলছে, দিনের বেলার ছোট্ট ঘুম বা ন্যাপিং শুধু ক্লান্তি দূরই করে না, এটি মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্যও উপকারী। স্বল্প সময়ের নিয়মিত ঘুম মস্তিষ্ককে সতেজ রাখে, স্মৃতিশক্তি উন্নত করে এবং বয়সজনিত কিছু পরিবর্তনের গতি কমাতেও ভূমিকা রাখে। কী বলছে গবেষণা? ২০২৩ সালে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকদের একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত দিনের বেলায় অল্প সময় ঘুমান, তাদের মস্তিষ্ক তুলনামূলকভাবে বেশি সুস্থ থাকতে পারে। গবেষণায় এমনও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, এই অভ্যাস মস্তিষ্ককে বয়সের তুলনায় প্রায় ৬.৫ বছর তরুণ রাখে। গবেষণায় আরও দেখা যায়, নিয়মিত ন্যাপ নেওয়া ব্যক্তিদের মোট ব্রেন ভলিউম গড়ে বেশি ছিল। আর মস্তিষ্কের আয়তন ভালো থাকা মানে সাধারণত মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো থাকা এবং বয়সজনিত স্মৃতিহ্রাসের ঝুঁকি কম থাকা। দিনের ঘুমে কীভাবে উপকার হয়? ১. মস্তিষ্ক রিসেট হওয়ার সুযোগ পায় সকাল থেকে নানা তথ্য, কাজ আর সিদ্ধান্তে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ছোট্ট ঘুম মস্তিষ্ককে কিছুটা বিশ্রাম দেয়, ফলে আবার মনোযোগ ফিরে আসে। ২. স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের সময় মস্তিষ্ক নতুন শেখা তথ্যগুলো সাজিয়ে রাখে। তাই দুপুরের ছোট্ট ঘুম শেখা বিষয় মনে রাখতে সহায়ক হতে পারে। ৩. টক্সিন পরিষ্কারে ভূমিকা রাখে ঘুমের সময় মস্তিষ্কের একটি বিশেষ পরিষ্কারক ব্যবস্থা সক্রিয় হয়, যা অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ সরাতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। ৪. মানসিক ক্লান্তি কমায় অল্প সময়ের ঘুম মুড ভালো করতে পারে, বিরক্তি কমায় এবং কাজের আগ্রহ ফিরিয়ে আনে। ৫. প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। পর্যাপ্ত বিশ্রাম এই ঝুঁকি কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। কতক্ষণ ঘুমানো ভালো? বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের বেলায় ১০ থেকে ৩০ মিনিটের ন্যাপ সবচেয়ে কার্যকর। এতে সতেজ লাগবে, কিন্তু গভীর ঘুমে চলে যাওয়ার কারণে ঝিমুনি আসবে না। দীর্ঘ সময় ঘুমালে অনেকের রাতে ঘুমের সমস্যা হতে পারে, তাই সময়ের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। কারা সতর্ক থাকবেন? যদি দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুম পায়, বারবার ঘুমিয়ে পড়েন বা ক্লান্তি না কমে, তাহলে এটি অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। দিনের বেলার ছোট্ট ঘুম অলসতার চিহ্ন নয়, বরং এটি মস্তিষ্কের জন্য এক ধরনের রিচার্জের সুযোগ হতে পারে। ব্যস্ত দিনের মাঝে ১৫-২০ মিনিটের বিরতি হয়তো আপনার মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং মুড - সবকিছুকেই ইতিবাচকভাবে বদলে দিতে পারে। সূত্র: ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন, নেচার কমিউনিকেশনস, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, আলঝেইমারস অ্যাসোসিয়েশন এএমপি/এমএস

Go to News Site