Collector
বিয়ে টিকিয়ে রাখার ছোট্ট অভ্যাস, বড় প্রভাব | Collector
বিয়ে টিকিয়ে রাখার ছোট্ট অভ্যাস, বড় প্রভাব
Jagonews24

বিয়ে টিকিয়ে রাখার ছোট্ট অভ্যাস, বড় প্রভাব

বিবাহবিচ্ছেদের পেছনে সব সময় বড় কোনো কারণ কাজ করে না। অনেক সময় দু’জন মানুষ একে অপরকে ভালোবাসার পরও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পারেন না। কারণ, সম্পর্ক ভাঙা সাধারণত হঠাৎ করে ঘটে না; এটি ধীরে ধীরে, নীরবে গড়ে ওঠে। ছোট ছোট অস্বস্তি, অপূর্ণ প্রত্যাশা আর না-বলা কথাগুলো জমে একসময় দূরত্ব তৈরি করে। নিউইয়র্কের অভিজ্ঞ বিবাহবিচ্ছেদ আইনজীবী জেমস জে. সেক্সটন তার দীর্ঘ পেশাগত জীবনে অসংখ্য দাম্পত্য ভাঙতে দেখেছেন। তবে এর মাঝেই তিনি এমন একটি সহজ অভ্যাসের কথা বলেছেন, যা অনেক সম্পর্ক ভাঙনের হাত থেকে বাঁচাতে পারে। সহজ অভ্যাস: হাঁটতে হাঁটতে কথা বলা একটি পডকাস্টে কোডি সানচেজের সঙ্গে আলাপচারিতায় সেক্সটন জানান, কিছু দম্পতি একটি নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তোলেন, ‘হাঁটা আর কথা বলা’। শুনতে খুব সাধারণ মনে হলেও, এর প্রভাব হতে পারে গভীর। এই অভ্যাসে সপ্তাহে অন্তত একদিন দম্পতি একসঙ্গে হাঁটতে বের হন। শুধু হাঁটা নয়, এই সময়টাকে তারা ব্যবহার করেন খোলামেলা কথোপকথনের জন্য। কোনো বিভ্রান্তি নয়, কোনো তাড়াহুড়া নয়; শুধু দু’জন মানুষের মন খুলে কথা বলার সময়। কথোপকথনের বিশেষ নিয়ম এই হাঁটার একটি নির্দিষ্ট কাঠামো থাকে, যা এটিকে কার্যকর করে তোলে। হাঁটার সময় দু’জন সঙ্গীই কয়েকটি বিষয় শেয়ার করেন। যেমন- গত সপ্তাহে সঙ্গীর এমন তিনটি কাজ, যা ভালোবাসা, যত্ন বা গুরুত্ব পাওয়ার অনুভূতি দিয়েছে। এক বা দুটি বিষয়, যেখানে তারা কষ্ট পেয়েছেন বা আরও ভালো কিছু আশা করেছিলেন। এখানে লক্ষ্য দোষারোপ নয়, বরং বোঝাপড়া। এটি এমন একটি জায়গা, যেখানে বিচার নয়, গুরুত্ব পায় অনুভূতির প্রকাশ। আরও পড়ুন: দাম্পত্যে শান্তি চান? মেনে চলুন এই নিয়মগুলো স্ত্রী না নির্যাতনকারী? সত্যটা জানুন আজই কেন এই পদ্ধতি কাজ করে? সম্পর্ক বাঁচানো মানে সমস্যাকে এড়িয়ে যাওয়া নয়, বরং তা চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করা। ‘হাঁটতে হাঁটতে কথা বলা’ ঠিক এই কাজটাই করে। এই অভ্যাসে- ভুল বোঝাবুঝি কমে অনুমানের জায়গায় আসে স্পষ্টতা জমে থাকা অভিমান ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় অনেক সময় আমরা ধরে নেই, সঙ্গী বুঝে নেবে। কিন্তু বাস্তবে না-বলা কথাগুলোই দূরত্ব বাড়ায়। এই নিয়মিত কথোপকথন সেই দূরত্ব কমাতে সাহায্য করে। সম্পর্কের জন্য একটি নিরাপদ জায়গা এই অভ্যাসের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, এটি একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে। এখানে কেউ কাউকে আক্রমণ করছে না, বরং নিজের অনুভূতি শেয়ার করছে। আপনি বলছেন কী আপনাকে খুশি করেছে? কী আপনাকে কষ্ট দিয়েছে? এটি অভিযোগ নয়, এটি সততা। একটি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সবসময় বড় কোনো পরিবর্তনের দরকার হয় না। অনেক সময় ছোট একটি অভ্যাসই পারে বড় ভাঙন ঠেকাতে। সপ্তাহে কিছুটা সময় বের করে, পাশে পাশে হাঁটা আর মন খুলে কথা বলা, এই সহজ চর্চাই হয়তো আবার কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারে দু’জন মানুষকে। জেএস/

Go to News Site