Somoy TV
রাঙ্গামাটির লংগদুতে মৃত বন্য হাতির মরদেহের প্রতি চরম অবমাননার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) মারা যাওয়া একটি বয়স্ক পুরুষ হাতির শুঁড় ও পেছনের পায়ের মাংস কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এই বর্বর ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করছে বন বিভাগ।রাঙ্গামাটির লংগদুতে মারা যাওয়া বন্যহাতিটির শুঁড় ও পায়ের মাংস কেটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (২৬ এপ্রিল) রাতের কোন এক সময় এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে বন বিভাগ।বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৫ এপ্রিল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ৬০ বছর বয়সী একটি বন্য পুরুষ হাতির মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর থেকে স্ত্রী সঙ্গী হাতিটি টানা দুই দিন মরদেহের পাশ আগলে রেখেছিল। এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে অনেক উৎসুক মানুষ ভিড় করলেও, স্ত্রী হাতিটির পাহারার কারণে বন বিভাগ দাফন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেনি।রাঙ্গামাটি বন বিভাগের পাবলাখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, রোববার রাতে স্ত্রী হাতিটি বন ছেড়ে চলে গেলে সেই সুযোগ নেয় দুর্বৃত্তরা। সোমবার সকালে বন প্রহরী হাতিটির অবস্থা দেখতে গিয়ে মাংস ও শুঁড় কেটে নেওয়ার বিষয়টি নজরে আনেন।তিনি আরও বলেন, 'দিনের বেলায় শত শত উৎসুক মানুষকে সামলানো একজন প্রহরীর পক্ষে সম্ভব ছিল না। এছাড়া রাতে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এবং প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে সেখানে প্রহরী থাকা সম্ভব হয়নি।'আরও পড়ুন: মৃত্যুর পরও সঙ্গীকে ছেড়ে যাচ্ছে না স্ত্রী হাতিটিরাঙামাটি উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান শাহ বলেন, রোববার ময়নাতদন্ত শেষে দাফনের চেষ্টা করেও স্ত্রী সঙ্গী হাতিটির অবস্থানের কারণে আমরা সফল হইনি। রাতে হাতিটি সরে গেলে দুর্বৃত্তরা এই ন্যাক্কারজনক কাজ করে। আমরা সোর্স লাগিয়েছি, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।'ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। নেটিজেনরা এই ঘটনাকে ‘চরম বর্বরতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, মানুষের এই পাশবিকতা লজ্জাজনক। বন্যপ্রাণীর মরদেহের এমন অবমাননায় বন বিভাগের দায়িত্ব অবহেলাকেও দায়ী করেছেন অনেকে।
Go to News Site