Somoy TV
আগের ম্যাচেই অধিনায়ক কেএল রাহুলের রেকর্ড গড়া ইনিংসে ২৬৪ রান করেও হেরেছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। এবার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে দিল্লি হারল ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে। নতুন বলে দুর্দান্ত সুইং আর সিমের প্রদর্শনীতে দিল্লিকে ধসিয়ে দিয়েছেন জশ হ্যাজেলউড এবং ভুবনেশ্বর কুমার। তাদের এই বিধ্বংসী বোলিংয়ে দিল্লি নিজেদের মাঠে লজ্জাজনক পরাজয়ের মুখে পড়ে। পাওয়ারপ্লেতেই তারা কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়, প্রথম ছয় ওভারে মাত্র ৮ রানে ৬ উইকেট হারায় রাহুলের দল।সোমবার (২৭ এপ্রিল) অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে স্বাগতিক দিল্লি ক্যাপিটালসকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। এদিন আগে ব্যাট করা দিল্লি হ্যাজেলউড ও ভূবনেশ্বরের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১৬.৩ ওভারে মাত্র ৭৫ রানে গুটিয়ে যায়।জবাবে ৬.৩ ওভারে শুধু জ্যাকব বেথেলের উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের হয়ে নতুন বল হাতে হ্যাজেলউড মাত্র ১২ রানে ৪টি এবং ভুবনেশ্বর ৫ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন। ৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেল বেঙ্গালুরু। পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। দিল্লি ৮ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ৭ নম্বরে।আরও পড়ুন: পিএসএলের প্লে-অফে ফিরছে দর্শক, প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিতে বদলালো সিদ্ধান্তএদিন যারা স্টেডিয়ামে আরেকটি হাই-স্কোরিং ম্যাচের আশায় ঢুকছিলেন, তারা দেখলেন সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। মাত্র ২৩ বলের মধ্যে ৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধসে পড়ে দিল্লি।প্রথম ওভারেই প্রায় ৩ ডিগ্রি সুইং করান ভুবনেশ্বর, আর অভিষেক ম্যাচে নামা সাহিল পারাখকে ইনসুইং ইয়র্কারে বোল্ড করেন। এরপর হাজেলউড গত ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান কেএল রাহুলকে শর্ট বলে চাপে ফেলেন, যা টপ এজ হয়ে আউট হয়।সামির রিজভী ফুল লেংথ ডেলিভারিতে এজ হয়ে প্রথম বলেই আউট হন। এরপর ভুবনেশ্বর এক ওভারেই ত্রিস্তান স্ট্যাবস (৫) ও অক্ষর প্যাটেলকে (০) আউট করেন। হাজেলউড বাউন্সারে নীতিশ রানাকেও (০) ফেরান।৮/৬ অবস্থায় দিল্লি এক সময় ইতিহাসের সবচেয়ে কম স্কোরের দিকে এগোচ্ছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত তারা বেঙ্গালুরুর ৪৯ রানের রেকর্ড ভাঙতে পারেনি। তবে দিল্লির ৬ ওভারে ১৩/৬, এটাই আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে কম পাওয়ারপ্লে স্কোর।ইমপ্যাক্ট সাব অভিষেক পোরেলের লড়াকু ৩০ রানের ইনিংসে সর্বনিম্ন রানে আউট হওয়ার লজ্জা এড়ায় দিল্লি। হাজেলউডের ইয়র্কারে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন পোরেল। ৮ নম্বরে নেমে ডেভিড মিলার ১৯ রান যোগ করেন।আকস্মিক ধূলিঝড়ও এই ম্যাচে নাটকীয়তা যোগ করে। রোমারি শেফার্ড দুই ওভারে ২১ রান দিয়ে একমাত্র উইকেটশূন্য বোলার ছিলেন। সুয়াশ শর্মা ও ক্রুনাল পান্ডিয়া ১টি করে উইকেট শিকার করেন।আরও পড়ুন: প্রীতি জিনতার কাছে ওপেনিংয়ে নামার আবদার চাহালের!ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে মোটেই বেগ পেতে হয়নি বেঙ্গালুরুকে। জ্যাকব বেথেল শুরুতেই দুটি ছক্কা মেরে দারুণ সূচনা করেন, যার একটি ছিল ১০৪ মিটার লম্বা। এরপর দেবদূত পাডিক্কাল দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখে কাইল জেমিসনের এক ওভারে ২১ রান তোলেন।জেমিসন ও দুষ্মন্ত চামিরা দুজনেই দিল্লির একাদশে নতুন এবং বেঙ্গালুরুর বোলারদের মতো সুইং বা ধার দেখাতে পারেননি। বিশেষ করে জেমিসন ৩ ওভারে ৪২ রান দেন।পাডিক্কাল মাত্র ১৩ বলে ৩৪ রান করেন, আর বিরাট কোহলি দুটি ছক্কা মেরে ৮১ বল বাকি রেখেই ম্যাচ শেষ করেন।আগামী বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেঙ্গালুরু মুখমুখি হবে গুজরাট টাইটান্সের। আর দিল্লি এর একদিন পর জয়পুরে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে খেলবে।
Go to News Site