Jagonews24
গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টি হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই বৃষ্টি থামার পর অনেক জায়গায় পানি জমে থাকতে দেখা যায় - গাছের টব, ছাদ, বারান্দা, ফেলে দেওয়া বোতল-টায়ার, ড্রাম, ডাবের খোসা কিংবা বাড়ির আশপাশের ছোট গর্তে। দেখতে সাধারণ মনে হলেও এসব জমে থাকা পানি মশার বংশবিস্তার করার আদর্শ জায়গা। আর সেখান থেকেই বাড়তে পারে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিস মশা পরিষ্কার ও অল্প পানিতেও ডিম পাড়তে পারে। মাত্র কয়েকদিন জমে থাকা পানিতেই লার্ভা তৈরি হয়ে নতুন মশা জন্ম নেয়। তাই বৃষ্টির মৌসুমে ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা শুধু পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়, এটি স্বাস্থ্য সুরক্ষারও অংশ। ডেঙ্গুর লক্ষণের মধ্যে রয়েছে হঠাৎ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ব্যথা, বমি ভাব, দুর্বলতা বা ত্বকে র্যাশ। চিকুনগুনিয়ায় জ্বরের সঙ্গে তীব্র জয়েন্টে ব্যথা হতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তবে প্রতিরোধের জন্য এখনই কিছু ব্যবস্থা নিন -১. মশার ঝুঁকি কমাতে প্রথম কাজ হলো জমে থাকা পানি সরানো। টবের নিচের প্লেট, ফুলদানির পানি, এসির ট্রে, বালতি বা ড্রামে জমে থাকা পানি নিয়মিত ফেলে দিতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একবার সব পাত্র পরিষ্কার করা ভালো। ২. বাড়ির আশপাশে পড়ে থাকা টায়ার, ক্যান, বোতল, নারকেলের খোসা বা ভাঙা পাত্র দ্রুত সরিয়ে ফেলুন। কারণ এগুলোতে বৃষ্টির পানি জমে মশা জন্মাতে পারে। ৩. ছাদ, বারান্দা বা ড্রেনে পানি জমে থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। ড্রেন বন্ধ থাকলে পানি দীর্ঘদিন জমে থাকে, যা মশার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে। ৪. ঘরের ভেতরে মশা ঢোকা ঠেকাতে জানালায় নেট ব্যবহার করা, দরজা বন্ধ রাখা এবং প্রয়োজন হলে মশারি ব্যবহার করা ভালো। সকাল ও বিকেলে মশার উপদ্রব বেশি থাকায় এই সময় বাড়তি সতর্কতা জরুরি। ৫. শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে মশার কামড় এড়ানো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে ফুলহাতা পোশাক পরানো ভালো। ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মশার জন্মস্থান ধ্বংস করা। শুধু স্প্রে করলেই যথেষ্ট নয়, উৎস বন্ধ করতে হবে। একটি টবের জমে থাকা পানি থেকেও শত শত মশা জন্মাতে পারে। তাই নিজের বাসা, ছাদ ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা এখন সময়ের দাবি। ব্যক্তিগত সচেতনতাই পারে পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে। সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিডিসি, ইউনিসেফ এএমপি/এএসএম
Go to News Site