Jagonews24
কলা আমাদের সবচেয়ে পরিচিত ও সহজলভ্য ফলগুলোর একটি। দ্রুত শক্তি দেয়, পেট ভরায়, আবার নানা পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। তবে অনেকেই জানেন না, কলার রং ও পাকার স্তর বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে এর পুষ্টিগুণও কিছুটা পরিবর্তিত হয়। অর্থাৎ সব কলা একরকম নয় - কখন কোন কলা খাবেন, তা নির্ভর করতে পারে আপনার প্রয়োজনের ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা থেকে অতিপাকা - প্রতিটি স্তরের কলার আলাদা উপকারিতা রয়েছে। ১. সবুজ বা কাঁচা কলাএকেবারে কাঁচা সবুজ কলায় থাকে সবচেয়ে বেশি রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ। এটি ধীরে হজম হয়, ফলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়তে দেয় না। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান বা ডায়াবেটিসে সচেতন, তাদের জন্য কাঁচা কলা উপকারী হতে পারে। এটি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্যও ভালো। ২. হালকা হলুদ বা আধাপাকা কলাএই পর্যায়ের কলায় ফাইবার তুলনামূলক বেশি থাকে, আর চিনি কম থাকে। ফলে হজমের জন্য ভালো এবং ধীরে ধীরে শক্তি দেয়। সকালের নাস্তা বা বিকেলের হালকা ক্ষুধায় এটি ভালো বিকল্প। ৩. পুরো হলুদ পাকা কলাএই অবস্থার কলা সবচেয়ে জনপ্রিয়। এতে প্রাকৃতিক চিনি বাড়ে, ফলে দ্রুত শক্তি দেয়। পাশাপাশি এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবারও ভালো পরিমাণে থাকে। ব্যায়ামের আগে বা পরে, কিংবা কাজের ফাঁকে দ্রুত এনার্জি দরকার হলে এই কলা ভালো পছন্দ হতে পারে। ৪. হলুদে বাদামি দাগ পড়া খুব পাকা কলাএই কলা বেশি নরম হয় এবং হজম করাও সহজ। যারা শক্ত খাবার খেতে পারেন না, শিশু বা বয়স্কদের জন্য এটি উপযোগী হতে পারে। এতে কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও বেশি সক্রিয় হতে পারে। ৫. অতিপাকা বা কালচে কলাএই অবস্থায় কলায় চিনি সবচেয়ে বেশি থাকে এবং ফাইবার কিছুটা কমে যায়। তাই যারা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য এটি কম উপযোগী। তবে স্মুদি, প্যানকেক বা বেকিংয়ে ব্যবহার করার জন্য দারুণ। কখন কোন কলা খাবেন?সকালে বা ব্যায়ামের আগে পাকা কলা ভালো। দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে চাইলে আধাপাকা বা একটু কাঁচা কলা বেছে নিতে পারেন। আর অতিপাকা কলা রান্না বা স্মুদির জন্য রেখে দিতে পারেন। সব মিলিয়ে, কলার রঙ শুধু সৌন্দর্য নয় - এটি বলে দিতে পারে এর ভেতরের পুষ্টিগুণও। তাই নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে বেছে নিন সঠিক কলা। সূত্র: হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, ইউএসডিএ নিউট্রিশন ডেটা, মায়ো ক্লিনিক এএমপি/এএসএম
Go to News Site