Somoy TV
ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজে গোলাগুলির ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। এর মধ্যেই চার দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শুরু করেছেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। সঙ্গে রয়েছেন রানি ক্যামিলা। স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ এপ্রিল) তাদের বহনকারী একটি বিমান ওয়াশিংটনের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে অবতরণ করে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ব্রিটিশ রাজপরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্রিটিশ সরকারের পরামর্শে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে রাজা ও রানি চার দিনের সফরে ওয়াশিংটন ডিসিতে এসে পৌঁছেছেন। এ সফরকে রাজা চার্লসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সফরগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রায় দুই দশক পর কোনো ব্রিটিশ রাজার যুক্তরাষ্ট্র সফর এটি। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণার ২৫০ বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে সফরটি আয়োজন করা হয়েছে। বিমান থেকে নামার পর রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলাকে ব্রিটিশ ও মার্কিন জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানানো হয়। এরপর সেখান থেকে তারা হোয়াইট হাউসের উদ্দেশে যাত্রা করেন। সেখানে তাদের স্বাগত জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। আরও পড়ুন: গুলির সময় ‘ট্রাম্পকে ফেলে’ টেবিলের নিচে চলে যান তার স্ত্রী মেলানিয়া! এ সময় মেলানিয়া রাজা ও রানির সাথে গালে চুম্বন বিনিময় করেন, আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাদের সাথে করমর্দন করেন। এরপর চারজন একসাথে ছবি তোলার জন্য দাঁড়ান এবং চা-চক্রের জন্য ভেতরে চলে যান। পরে রাজা ও রানি ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের সদ্য সংস্কারকৃত বাসভবনের বাগানে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন, যেখানে একটি গায়কদল ব্রিটিশ ও আমেরিকান জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে। রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলার সম্মানে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের নেতৃবৃন্দ, ওয়াশিংটনের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং মার্কিন সিনেটর টেড ক্রুজ, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রদূতদের মতো কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। চারদিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে রাজা চার্লস আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দেবেন। এরপর হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেবেন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) তিনি নিউইয়র্ক সিটি যাবেন। আরও পড়ুন: ‘আমি ক্ষমার আশা করি না’: ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষক থেকে ট্রাম্পের সম্ভাব্য ঘাতক অ্যালেনের বার্তা সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ব্রিটিশ সরকারের মতানৈক্য চলছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই রাজা চার্লসের এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ সফর দুই দেশের দীর্ঘ ঐতিহাসিক সম্পর্ক পুনরায় জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদের একটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন কংগ্রেসে রাজার ভাষণ প্রায় ২০ মিনিট স্থায়ী হবে। সূত্রটি আরও জানায়, ভাষণটি ব্রিটিশ সরকারের পরামর্শে লেখা হলেও এর ভাষা ও সুরের বেশিরভাগই চার্লসের নিজের। ভাষণে রাজা উল্লেখ করবেন যে, বিগত ২৫০ বছরে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সব বিষয়ে সবসময় একমত না হলেও ‘বারবার আমাদের দুই দেশ একত্রিত হওয়ার পথ খুঁজে নিয়েছে।’ আরও পড়ুন: হামলাকারীর ‘সম্ভাব্য’ টার্গেট ছিলেন ট্রাম্প ও অন্যান্য কর্মকর্তারা: ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল তিনি বলবেন যে, তাদের অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার মাধ্যমে দুই দেশ বিশ্বের জন্য নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি বয়ে আনতে পারে। চার্লস তাদের এই অংশীদারিত্বকে ‘মানব ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মৈত্রী’ হিসেবেও উল্লেখ করবেন।
Go to News Site