Collector
উত্তাল সমুদ্রের বালিয়াড়িতে পর্যটকদের জামাতে নামাজ | Collector
উত্তাল সমুদ্রের বালিয়াড়িতে পর্যটকদের জামাতে নামাজ
Somoy TV

উত্তাল সমুদ্রের বালিয়াড়িতে পর্যটকদের জামাতে নামাজ

আকাশজুড়ে মেঘের ঘনঘটা। বাতাসের তীব্রতার সঙ্গে সাগরে বাড়ছে ঢেউয়ের উচ্চতা। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত চলায় পর্যটকদের সাগরে নামার ক্ষেত্রে রয়েছে সতর্কতা। এমন উত্তাল প্রকৃতির মাঝেই মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে দেখা গেল এক ভিন্ন দৃশ্য। সাগরের লোনা জল আর ভেজা বালিয়াড়িতে সারিবদ্ধ হয়ে জোহরের নামাজ আদায় করছেন একদল ভ্রমণপিপাসু।নরসিংদীর খিদিরকান্দি থেকে আসা ‘খাইরুল উম্মাহ আস-সালাফিয়াহ’ মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ৯৫ জনের একটি দল বার্ষিক ভ্রমণে কক্সবাজার এসেছেন। তাদের মধ্য থেকেই ৩০ জনের একটি দল আজ দুপুরে সৈকতের বালিয়াড়িতে জামাতে নামাজ আদায় করেন।নামাজে ইমামতি করেন হাফেজ ওবায়দুল্লাহ। নামাজ শেষে তিনি বলেন, ‘নামাজের ইমামমতি করেন নরসিংদীর খিদিরকান্দির খাইরুল উম্মাহ আস-সালাফিয়াহ মাদ্রাসার হাফেজ ওবায়দুল্লাহ। নামাজ আদায় শেষে তিনি বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থী মিলে ৯৫ জনের একটি দল কক্সবাজারে বার্ষিক সফরে এসেছেন। সকাল ১১টায় কক্সবাজার পৌছে হোসাইন গেস্ট হাউসে ব্যাগ রেখে সাড়ে ১১টার দিকে ৩০ জনের মতো সৈকতের লাবনী পয়েন্টে আসি। ঘণ্টাব্যাপি সমুদ্রে গোসল ও ফুটবল খেলা শেষে দেখি জোহরের নামাজের সময় হয়েছে। তাই সবাই মিলে উত্তাল সমুদ্রের সামনে ভেড়া বালিয়াড়িতে জোহর ও আছরের সফর নামাজ আদায় করেছি।'হাফেজ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ (৩৬) জানান, সমুদ্রপাড়ে ভেজা বালিয়াড়িতে নামাজ আদায় করে তিনি গভীর প্রশান্তি অনুভব করেছেন। তিনি বলেন, তারা মূলত আল্লাহর নিদর্শন দেখার উদ্দেশ্যে এখানে এসেছেন। আল্লাহর সৃষ্টি প্রকৃতি ঘুরে দেখা এবং তার প্রশংসা করার কথাও বলা হয়েছে। সেই উদ্দেশ্যেই তারা সফরে এসে সাগরপাড়ে গোসল শেষে সময়মতো জোহরের নামাজ আদায় করেন।তিনি আরও বলেন, 'আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নামাজ আদায় করেছি, এতে অনেক তৃপ্তি পেয়েছি-আলহামদুলিল্লাহ। সমুদ্রের বিশালতার সামনে নামাজ আদায় করার অনুভূতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত সুন্দর ও প্রশান্তিময় অভিজ্ঞতা।"এদিকে খাইরুল উম্মাহ আস-সালাফিয়াহ মাদ্রাসার প্রধান মোহাম্মদ সালিমুল্লাহ বলেন, আল্লাহ তাআলা মানুষকে তার জমিনে ভ্রমণ করে তার নিদর্শনসমূহ দেখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করতে বলেছেন। তিনি বলেন, সমুদ্রও আল্লাহর একটি বড় নিদর্শন।আরও পড়ুন: চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেততিনি আরও বলেন, এই নিদর্শন দেখার উদ্দেশ্যেই তারা এখানে এসেছেন। জোহরের নামাজের সময় হয়ে যাওয়ায় তারা আজান দিয়ে জামাতে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করেন।তার ভাষায়, 'আমরা আল্লাহকে রাজি-খুশি করার উদ্দেশ্যেই নামাজ আদায় করেছি। মানুষ কী দেখবে বা কী বলবে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই একজন মুসলমানের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।'এদিকে নামাজ আদায় শেষে তারা সমুদ্রসৈকত ছেড়ে গেস্ট হাউসে ফিরে যান। তারা জানান-মঙ্গলবার ও বুধবার কক্সবাজার ভ্রমণে করে বৃহস্পতিবার রাতে তারা নরসিংদীর উদ্দেশ্যে বাসে করে রওনা হবেন।

Go to News Site