Jagonews24
রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েছেন, তবু সকাল থেকেই চোখে ঘুম, মাথা ঝিমঝিম, কাজে মন বসছে না - এমন সমস্যা অনেকেরই হয়। তখন মনে হয়, এত ঘুমালাম, তবু ক্লান্ত কেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ঘুমের সময় নয়, ঘুমের মান, শরীরের ভেতরের কিছু সমস্যা ও দৈনন্দিন অভ্যাসও এর পেছনে দায়ী হতে পারে। জেনে নিন কারণগুলো - ১. ঘুমের মান ভালো না হলে বিছানায় অনেকক্ষণ থাকলেই যে শরীর বিশ্রাম পায়, তা নয়। রাতে বারবার ঘুম ভাঙা, অস্থির ঘুম বা গভীর ঘুম কম হলে সকালে সতেজ লাগে না। ফলে সারাদিন ঝিমুনি থাকতে পারে। ২. স্লিপ অ্যাপনিয়া অনেকের ঘুমের মধ্যে শ্বাস কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে আবার শুরু হয়। একে স্লিপ অ্যাপনিয়া বলা হয়। এতে ঘুম বারবার ব্যাহত হয়, যদিও ব্যক্তি তা বুঝতে পারেন না। নাক ডাকা, সকালে মাথাব্যথা বা অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব এর লক্ষণ হতে পারে। ৩. রক্তস্বল্পতা বা আয়রন ঘাটতি শরীরে রক্তস্বল্পতা থাকলে অক্সিজেন পরিবহন কমে যায়। এতে দুর্বলতা, ক্লান্তি ও সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব হতে পারে। নারীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। ৪. থাইরয়েডের সমস্যা থাইরয়েড হরমোন কম কাজ করলে শরীরের গতি ধীর হয়ে যায়। ফলে ক্লান্তি, ওজন বাড়া, ঠান্ডা লাগা ও ঝিমুনি দেখা দিতে পারে। ৫. ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করার ওঠানামা রক্তে শর্করা বেশি বা কম - দুই ক্ষেত্রেই ক্লান্তি ও তন্দ্রাভাব হতে পারে। বিশেষ করে খাওয়ার পর বেশি ঝিমুনি হলে এটি খেয়াল করা দরকার। ৬. ডিপ্রেশন ও মানসিক চাপ মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যাও শরীরে ক্লান্তি হিসেবে ধরা দিতে পারে। অনেক সময় ডিপ্রেশন থাকলে মানুষ বেশি ঘুমায়, তবু শক্তি পায় না। ৭. ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অ্যালার্জির ওষুধ, কিছু ব্যথানাশক, মানসিক স্বাস্থ্যের ওষুধ বা ঘুমের ওষুধ সারাদিন তন্দ্রা আনতে পারে। কী করবেন? প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো-উঠা, স্ক্রিন টাইম কমানো, হালকা ব্যায়াম ও সুষম খাবার সাহায্য করতে পারে। তবে সমস্যা যদি নিয়মিত থাকে, তাহলে পরীক্ষা করানো জরুরি। কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন? যদি পর্যাপ্ত ঘুমের পরও ২-৩ সপ্তাহ ধরে অতিরিক্ত ঝিমুনি থাকে, কাজকর্মে প্রভাব পড়ে, নাক ডাকা বেশি হয়, বা ক্লান্তির সঙ্গে অন্য লক্ষণ থাকে - তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সব সময় বেশি ঘুমের দরকার হয় না, কখনও কখনও দরকার হয় কারণটা খুঁজে বের করা। সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, স্লিপ ফাউন্ডেশন, এনএইচএস এএমপি/এমএস
Go to News Site