Jagonews24
সুনামগঞ্জে আগাম বন্যার আগে বৃষ্টিতেই তলিয়ে গেছে হাওরের ধান। জেলার ১৩৭ হাওরের অধিকাংশতেই এ অবস্থা বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সুনামগঞ্জের দেখার হাওর, করচার হাওর, মাটিয়ান হাওর, ভরাম হাওরসহ জেলার অধিকাংশ হাওরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় কৃষকের স্বপ্নের সোনালী ফসল তলিয়ে গেছে। তবে কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জে দুই লাখ ২৩ হাজার পাঁচশ ১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হলেও ইতিমধ্যে হাওরের ৪৪ শতাংশ ধান কেটে ঘরে তুলেছেন কৃষক। সাত হাজার হেক্টর ধান তলিয়ে গেলেও তিন হাজার হেক্টর ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। তবে স্থানীয় কৃষক কিংবা কৃষক সংগঠনের দাবি ইতিমধ্যে জেলায় ২০ হাজার হেক্টর ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সরজমিনে সুনামগঞ্জের দেখার হাওর ও শেয়ালমারা হাওরে গিয়ে দেখা যায়, গত দুদিন আগেও আনন্দের সঙ্গে ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছিলেন কৃষকরা সেখানেই এখন বৃষ্টিতে ধান হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তারা। পাশাপাশি হাওরে শ্রমিক সংকটে অনেকেই ধান কাটতে না পেরে চোখের সামনেই স্বপ্নের ফসল তলিয়ে যেতে দেখছেন। আবার অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কমর পানিতে নেমে ধান কাটার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দেখার হাওরের কৃষক আতিকুর রহমান জানান, মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ১৮ একর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ করেছি। ভেবেছিলেন ধান তুলে মহাজনের দেনা শোধ দিয়ে পরিবার মুখে হাসি ফুটাবো। কিন্তু বন্যার আগেই বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সব ধান। এখন পরিবারের দুজন সদস্যকে নিয়ে কমর পানিতে ধান কেটে মনকে শান্তনা দিচ্ছি। আরেক কৃষক মুস্তাকিন মিয়া বলেন, আমার সব শেষ। কষ্ট করে বোরো ধান করেছিলাম অথচ সেই ধান ঘরে তোলার আগেই বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। শাল্লার ভরাম হাওরের কৃষক লুৎফুর রহমান বলেন, বজ্রপাতের মধ্যে মৃত্যুর ভয় উপেক্ষা করে ধান কেটেছি। কিন্তু সকালে এসে দেখি বৃষ্টির পানিতে সেই ধান তলিয়ে গেছে। করচার হাওরের কৃষক আজিজুল মিয়া বলেন, হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ এখন গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ অপরিকল্পিত বাঁধের কারণেই হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ধান তলিয়ে যাচ্ছে। শেয়ালমারা হাওরের কৃষক আব্দুল গফুর বলেন, ঝড়বৃষ্টি, বজ্রপাতের কারণে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বন্যা আসার আগেই দুদিনের বৃষ্টিতে ধান তলিয়ে গেছে। এখন নিরুপায় হয়ে পানির নিচ থেকে যতটুকু সম্ভব ধান ঘরে তুলছি। শনির হাওরের কৃষক আমিন মিয়া বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড আগাম বন্যার সর্তকর্তার কথা শুনে দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু হাওরে কাঁদা পানি থাকায় হারভেস্টর মেশিন নামানো যায়নি। তাই যতটুকু সম্ভব শ্রমিক দিয়ে ধান কাটার চেষ্টা করছি। শনির হাওরের কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, অধিকাংশ হাওরে বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কারণে ধান তলিয়ে গেছে। সুনামগঞ্জ হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলন বলেন, কৃষি বিভাগ যে তথ্য দিচ্ছে সেটা মনগড়া। আমরা মনে করি ইতিমধ্যে হাওরের ২০ হাজার হেক্টর ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, ইতিমধ্যে ৪৪ শতাংশ ধান ঘরে উঠেছে। বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার কারণে সাত হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেলেও তিন হাজার হেক্টরের ধান পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, আরও দুইদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। এতে জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টিপাত হলে কৃষকদের শতভাগ ধান ঘরে তোলা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ফসল রক্ষা বাঁধে নজরদারি রয়েছে। লিপসন আহমেদ/এএইচ/এমএস
Go to News Site