Collector
৭ মে উৎপাদনে ফিরবে ইস্টার্ন রিফাইনারি | Collector
৭ মে উৎপাদনে ফিরবে ইস্টার্ন রিফাইনারি
Jagonews24

৭ মে উৎপাদনে ফিরবে ইস্টার্ন রিফাইনারি

৬ মে আসছে ১ লাখ টন ক্রুডবাহী জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’ সৌদি আরব ও আরব আমিরাত থেকে মে মাসে আসছে আরও ২ লাখ টন দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসিতে (ইআরএল) উৎপাদন বন্ধ প্রায় ১৭ দিন। মূলত অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) সংকটে উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। সব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আরও ৯ দিন পর ফের উৎপাদনে ফিরতে পারবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মালিকানাধীন একমাত্র পেট্রোলিয়াম রিফাইনারি ইআরএল। ইআরএলে পরিশোধনে ব্যবহৃত শতভাগ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশ জিটুজি পদ্ধতিতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসব অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। আমদানি করা এসব অপরিশোধিত তেল শতভাগ পরিবহন করে সরকারি পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। বিএসসি এসব তেল পরিবহনের জন্য বর্তমানে আমেরিকান প্রতিষ্ঠান নর্ভিক এনার্জি থেকে চার্টারে জাহাজ ভাড়া নেয়। ইস্টার্ন রিফাইনারি/ছবি: জাগো নিউজ মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিএসসির চার্টারার প্রতিষ্ঠান আমেরিকান কোম্পানি হওয়ায় মার্চ মাসে দুই লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিবহনে ঝুঁকি তৈরি হয়। এর মধ্যে সৌদি আরবের রাস তানুরা থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল লোড করে হরমুজ প্রণালিতে হামলার আশঙ্কায় গত ৫ এপ্রিল থেকে আটকা পড়ে নর্ডিক পোলাক্স নামে ট্যাংকার জাহাজ। প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও কখন জাহাজটি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে তার নিশ্চয়তা এখনো মেলেনি। এমটি নিনেমিয়া’ আগামী ৬ মে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি জাহাজটিকে ১২ ঘণ্টা এগিয়ে নিয়ে আসার বিষয়ে। পথে কোনো জটিলতা না থাকলে আসা করছি আগামী ৭ মে আমরা রিফাইনারি চালু করতে পারবো।- ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশরী শরীফ হাসনাত পাশাপাশি অন্য পার্সেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবল দানা বন্দর থেকে ২১-২২ মার্চ, পরবর্তীসময়ে সূচি পাল্টে ৩১ মার্চ এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল লোড নেওয়ার কথা থাকলেও এর আগেই যুদ্ধ এলাকায় মালিকপক্ষের জাহাজ পাঠানোর অনীহার কারণে ‘ওমেরা গ্যালাক্সি’ নামে ট্যাংকার ভেসেলের যাত্রা বাতিল হয়। এর ফলে অপরিশোধিত তেল সংকটে গত ১২ এপ্রিল বিকেল থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারির মূল প্ল্যান্ট ক্রুড ডিস্টিলেশন ইউনিট (সিডিইউ) পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সিডিইউনির্ভর অন্য প্ল্যান্টগুলোও বন্ধ হয়ে যায়। চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে যা উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। এর মধ্যে সরকার স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে পরিশোধিত জ্বালানি কিনে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। আরও পড়ুন ক্রুড সংকটে বন্ধ ইস্টার্ন রিফাইনারির মূল প্ল্যান্টমে মাসে জ্বালানি তেলে থাকছে স্বস্তি৮ এপ্রিল শেষ হতে পারে ক্রুডের মজুত, বন্ধের হুমকিতে ইস্টার্ন রিফাইনারি আশার কথা, সৌদি আরবের ইয়ানবু থেকে এক লাখ টন ক্রুডবাহী জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’ দেশে আসছে ৬ মে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৭ মে ইআরএল পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে। পাশাপাশি মে মাসে আরও দুই লাখ টন ক্রুড নিয়ে আরও দুটি জাহাজ আসছে। এতে মে ও জুলাই মাসে আর অপরিশোধিত তেলের সংকট হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিপিসি সূত্রে জানা যায়, সবশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এক লাখ টন মারবান ক্রুড আসে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হলে বাংলাদেশে অপরিশোধিত তেল আমদানি অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। বিশেষ করে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বন্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশে অপরিশোধিত তেল আসা। এর মধ্যে বিকল্প পথে সৌদি আরবের ইয়ানবু থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ গত ২১ এপ্রিল বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। ২১ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু থেকে এক লাখ টন ক্রুডবাহী জাহাজটি শিডিউল অনুযায়ী ৬ মে বাংলাদেশে আসবে। জাহাজ আসার সঙ্গে সঙ্গেই ক্রুড লাইটারিং শুরু হবে। এজন্য ৬ মে আমরা দুটি লাইটারেজ রেডি রাখবো।-বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক  জাহাজটি ৬ মে সকালে বাংলাদেশের কুতুবদিয়া অ্যাংকরে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে বিএসসি। এ বিষয়ে ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশরী শরীফ হাসনাত জাগো নিউজকে বলেন, ‘এমটি নিনেমিয়া’ আগামী ৬ মে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি জাহাজটিকে ১২ ঘণ্টা এগিয়ে নিয়ে আসার বিষয়ে। পথে কোনো জটিলতা না থাকলে আসা করছি আগামী ৭ মে আমরা রিফাইনারি চালু করতে পারবো।’ আগামী ১১-১২ মে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আরও এক লাখ টন মারবান ক্রুড আসবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পার্সেলটির বিষয়ে অ্যাডনক (আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি) থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে পার্সেলটি লোড হবে। ফুজাইরা থেকে লোড হলে আর হরমুজ হয়ে আসতে হবে না। ফুজাইরা থেকে সরাসরি ভারত মহাসাগর হয়ে বাংলাদেশে আসা যাবে।’ ইস্টার্ন রিফাইনারি/ছবি: জাগো নিউজ বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক চতুর্থাংশ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বড় অংশ হরমুজ প্রণালি হয়ে পরিবাহিত হয়। প্রধান রপ্তানিকারক সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ইরাক এবং ইরানের মতো তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো এই জলপথ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ করে। দৈনিক প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেলের মতো অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের মধ্যে ইরান এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে প্রভাব পড়ে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভৌগলিকভাবে ফুজাইরা বন্দরটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের পূর্ব উপকূলে, ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত। ফুজাইরা বন্দরটি হরমুজ প্রণালির ৭০-১৩০ কিমি দূরে। ফুজাইরা থেকে পূর্ব দিকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলে সরাসরি ওমান উপসাগর হয়ে আরব সাগরে প্রবেশ করতে পারে জাহাজ। আরও পড়ুন এক লাখ টন ক্রুডবাহী ‘এমটি নিনেমিয়া’ ৬ মে বাংলাদেশে আসছেউৎপাদন বন্ধ থাকলেও চালু ইস্টার্ন রিফাইনারির প্ল্যান্ট! সংশ্লিষ্টরা জানান, মধ্যপ্রাচ্য সংকটে হরমুজ প্রণালিতে ইরানি নিষেধাজ্ঞা ও ঝুঁকি এড়াতে ফুজাইরা বন্দরকে একটি নিরাপদ বিকল্প রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমিরাতের হাবসান তেলক্ষেত্র থেকে পাইপলাইনে ফুজাইরা বন্দরে অপরিশোধিত তেল আসে। অন্যদিকে বর্তমানে সৌদি আরবের রেড সি (লোহিত সাগর) এলাকায় অবস্থিত ইয়ানবু বন্দরও রাস তানুরা বন্দরের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছে বাংলাদেশ। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জাগো নিউজকে বলেন, ‘২১ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু থেকে এক লাখ টন ক্রুডবাহী জাহাজটি শিডিউল অনুযায়ী ৬ মে বাংলাদেশে আসবে। জাহাজ আসার সঙ্গে সঙ্গেই ক্রুড লাইটারিং শুরু হবে। এজন্য ৬ মে আমরা দুটি লাইটারেজ রেডি রাখবো।’ মে মাসে আরও দুটি জাহাজ আসবে জানিয়ে বলেন, ‘এর মধ্যে আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে এক লাখ টন ও সৌদি আরবের ইয়ানবু থেকে আরও এক লাখ টন ক্রুড আসবে। সরবরাহকারীদের সঙ্গে কথা চলছে, লেকেন (জ্বালানি বাণিজ্যে জাহাজ পৌঁছানোর ডেডলাইন) চূড়ান্ত হলে আমরা ট্যাংকার পাঠাবো।’ বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ৯২ শতাংশ আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয় সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি)। অবশিষ্ট ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস থেকে পাওয়া যায়। সরবরাহ করা জ্বালানির মধ্যে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল। ইআরএলের প্ল্যান্টটিতে দুই ধরনের ক্রুড পরিশোধন করার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মারবান ক্রুড আনা হয়। এমডিআইএইচ/এএসএ

Go to News Site