Somoy TV
রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রথম চিঠি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে পাঠিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। রুশ প্রেসিডেন্ট নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্রতিনি জানিয়েছেন, তিনি গত সপ্তাহে মোজতবা খামেনির কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছেন।যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে গত রোববার (২৬ এপ্রিল) রাশিয়া সফরে যান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। পরদিন সোমবার (২৭ এপ্রিল) সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এ সময় পুতিন আরাঘচিকে জানান, রাশিয়া ইরানের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শুরু করা সংঘাতের মধ্যেও এই অবস্থান তারা ধরে রেখেছে। পুতিন বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছ থেকে একটি বার্তা পেয়েছি। এর জন্য আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জানাবেন এবং জানিয়ে দিন, রাশিয়া ইরানের মতোই আমাদের কৌশলগত সম্পর্ক চালিয়ে যেতে চায়।’ তবে চিঠির বিষয়বস্তু উল্লেখ করেননি তিনি। আরও পড়ুন: অবরোধের মধ্যেও হরমুজ পার হয়ে গেল রুশ সুপারইয়ট, কিন্তু কীভাবে? জবাবে আরাঘচি বলেন, এই সম্পর্ক বিশ্বে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আরও শক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রমাণ করেছি, ইরানের রাশিয়ার মতো ভালো বন্ধু ও মিত্র আছে। ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি আপনার দৃঢ় সমর্থনের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’ তিনি আরও যোগ করেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের বিরুদ্ধে ইরানের জনগণ সাহসের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং ভবিষ্যতেও তা চালিয়ে যেতে পারবে। খামেনিকে পুতিনের কৃতজ্ঞতা বার্তা পুতিন অনুরোধ করেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি-এর কাছে তার কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা পৌঁছে দিতে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলি ও মার্কিন হামলায় বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যুদ্ধের শুরুতে তিনি আহত হলেও সফলভাবে দেশ পরিচালনা করছেন। আরও পড়ুন: ইরানের হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ অধিকার আছে: রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত পুতিন ইরানের জনগণের সাহসের প্রশংসা করে বলেন, তারা নিজেদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতার অধীনে ইরান এই সংকট কাটিয়ে উঠবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য রাশিয়া সব ধরনের সহযোগিতা করবে। দৃঢ় কৌশলগত সম্পর্ক রাশিয়া ও ইরানের এই সম্পর্ক শুধু স্বার্থের ওপর নয়, বরং দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ২০১৫ সালে পুতিন নিজে একটি ঐতিহাসিক কোরআনের পাণ্ডুলিপি উপহার দিয়েছিলেন—যা এই সম্পর্কের গভীরতার প্রতীক। ২০২২ সালের জুলাইয়ে তেহরানে তাদের শেষ সরাসরি বৈঠক এই সহযোগিতাকে আরও শক্ত ভিত্তি দেয়। তখনই ভবিষ্যৎ ভূরাজনীতিতে দুই দেশের ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ঐক্যবদ্ধ অবস্থান রাশিয়া পশ্চিমা সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে এবং ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসন ও চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে। তাদের সাম্প্রতিক বার্তা বিনিময় থেকে স্পষ্ট যে, তারা সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায়। সব মিলিয়ে তেহরান ও মস্কোর এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক একটি নতুন বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার ইঙ্গিত দেয়, যেখানে প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্বকে গুরুত্ব দেয়া হবে এবং শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হবে।
Go to News Site