Jagonews24
তিন বছর বয়সেই জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নিউজিল্যান্ডে চলে যান পুরো পরিবারসহ। বাবা কোচ হওয়ায় একদম ছোটবেলাতেই হাতে উঠে যায় ক্রিকেট ব্যাট। নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে যেখানে রাগবি সবচেয়ে জনপ্রিয়, সেখানেই ক্রিকেট ছিল তার প্রথম পছন্দ। বাংলাদেশ সফরে আসা নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার বেভন জ্যাকবসের ক্রিকেটে উত্থানটা আলোর গতির মতো। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের আগেই আইপিএলে দল পাওয়া, এরপর সুপার স্ম্যাশসহ সব টুর্নামেন্টেই রান করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকটা হয়েছে জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। নিউজিল্যান্ডের এই তরুণ ক্রিকেটার জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপে কথা বলেছেন নিজের ক্যারিয়ার, ভবিষ্যতসহ নানা বিষয়ে। তারই চুম্বক অংশ এখানে তুলে ধরা হলো- জাগো নিউজ: আপনি দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মেছেন এবং পরে নিউজিল্যান্ডে চলে গেছেন। আপনার পরিবারকে এই সিদ্ধান্ত নিতে মূলত কী প্রভাবিত করেছিল? বেভন জ্যাকবস: বিভিন্ন ধরনের কারণ ছিল! দক্ষিণ আফ্রিকায় বড় হতে হতে আমরা দেখেছি, ওটা বসবাসের জন্য খুব নিরাপদ জায়গা নয়। তাই তখন মূলত জীবনযাত্রার মানের কথা ভেবেই পরিবার নিউজিল্যান্ডে চলে আসে। আমার বাবা ছিলেন একজন ক্রিকেট কোচ, তাই তিনি সেখানে গিয়ে কোচিং শুরু করেন। স্বাভাবিকভাবেই আমি যখন প্রথম ব্যাট ধরতে শুরু করি, তখন তিনিই আমার ক্রিকেট কোচ হয়ে যান। তাই বলতে গেলে এটিই ছিল সেই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। জাগো নিউজ: সেদিন আমি ফক্সক্রফটের সঙ্গে কথা বলছিলাম। সেও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নিউজিল্যান্ডে এসেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে অনেক খেলোয়াড় ইংল্যান্ড বা নিউজিল্যান্ডে চলে যাচ্ছে। আপনার মতে এর প্রধান কারণ কী? জ্যাকবস: আমার মনে হয়, সবাই ভিন্ন ভিন্ন কারণে দেশ বদলায়- খেলার সুযোগের জন্য, নিরাপত্তার জন্য কিংবা ভালো জীবনযাত্রার আশায়, যা নিউজিল্যান্ড দেয়। এমন সিদ্ধান্তের পেছনে অনেক বিষয় কাজ করে। এটাও নির্ভর করে আপনি কোন বয়সে আছেন তার ওপর। যখন আমার পরিবার নিউজিল্যান্ডে যায়, তখন বয়স ছিল মাত্র তিন বছর, তাই ওই সিদ্ধান্তে আমার তেমন কোনো ভূমিকা ছিল না। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার অনেক ক্রিকেটার যখন বড় হয়, তখন তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেয় তারা দেশ বদলাবে কি না! জাগো নিউজ: আপনার শুরুর ক্রিকেট যাত্রা সম্পর্কে বলুন। ক্রিকেটে আপনার পথচলা কিভাবে শুরু হয়েছিল? জ্যাকবস: আমরা যখন নিউজিল্যান্ডে যাই, তখন যেমন বলেছি, আমার বাবা ছিলেন একজন ক্রিকেট কোচ। তাই আমার ক্রিকেট যাত্রা শুরু হয়েছিল যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব। তিনি খুব ছোটবেলাতেই আমার হাতে ব্যাট তুলে দেন। বড় হতে হতে আমি অবশ্য অন্য খেলাধুলাও করেছি, কিন্তু ক্রিকেটই ছিল সেই খেলা যা আমি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করতাম। আমার বাবা নিজেও খেলাটা খুব ভালোবাসতেন এবং কোচ ছিলেন, তাই সেটার প্রভাব আমার ওপরও পড়ে। এভাবেই শুরুটা হয়। এরপর স্কুল ক্রিকেট, তারপর অকল্যান্ডের হয়ে বয়সভিত্তিক দলে খেলেছি। পরে পড়াশোনার জন্য ক্যান্টারবেরিতে যাই, সেখানে ক্যান্টারবেরির হয়ে খেলি। তারপর আবার অকল্যান্ডে ফিরে এসে অকল্যান্ড এইসেসের হয়ে খেলি। ওই মৌসুমের পর আইপিএল নিলামে আমাকে দলে নেওয়া হয়, যা ছিল একদম অপ্রত্যাশিত; কিন্তু দারুণ এক অভিজ্ঞতা- যেটা আমি ভবিষ্যতে আবারও পেতে চাই। এরপর পুরো যাত্রাটা, ব্ল্যাক ক্যাপসের হয়ে খেলা- যেটা সবসময়ই আমার স্বপ্ন ছিল এবং যতদিন সম্ভব আমি সেটা করতে চাই। এটা দীর্ঘ এক যাত্রার সংক্ষিপ্ত সারাংশ; কিন্তু সত্যিই দারুণ ছিল এবং খুব দ্রুতই শূন্য থেকে একশতে পৌঁছে গেছে। জাগো নিউজ: আপনি আইপিএলের কথা বললেন। আন্তর্জাতিক অভিষেকের আগেই মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স আপনাকে দলে নিয়েছিল। আমি একটি সাক্ষাৎকারে পড়েছিলাম, আপনি নাকি প্রথমে এটাকে প্র্যাঙ্ক ভেবেছিলেন। জ্যাকবস: হ্যাঁ। নিলামের দ্বিতীয় দিনে আমার এক কাজিন আমাকে ফোন করছিল, পরেরদিন সকালে আমাদের অকল্যান্ড দলের অনুশীলন ছিল। নিউজিল্যান্ড সময় অনুযায়ী নিলামটা ছিল ভোর তিনটা বা চারটার দিকে, তাই আমি সেটা দেখার জন্য জেগে থাকিনি। পরের দিনের অনুশীলনের জন্য বিশ্রাম নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকা আমার কাজিন লাইভ নিলাম দেখছিল এবং সে বারবার আমাকে ফোন করছিল। আমি ফোন তুলে বললাম, ‘তুমি কী চাও? এখন তো ভোর চারটা।’ তখন সে বলল আমাকে নিলামে দলে নেওয়া হয়েছে। আমি বিশ্বাসই করিনি, যতক্ষণ না ফোনে হাজার হাজার ইনস্টাগ্রাম নোটিফিকেশন, মেসেজ আর সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া দেখলাম। তাই ব্যাপারটা বেশ মজার ছিল এবং এক ধরনের অদ্ভুত সময়ও ছিল। জাগো নিউজ: নিউজিল্যান্ডে রাগবি খেলোয়াড়দেরই সবচেয়ে বড় তারকা হিসেবে দেখা হয়। সেখানে আপনি ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত কতটা সাহসী ছিল? জ্যাকবস: আমার ক্ষেত্রে ক্রিকেট সবসময়ই প্রথম পছন্দ ছিল। তাই সেই দিক থেকে সিদ্ধান্তটা খুব কঠিন ছিল না। আমি আর আমার বাবা প্রায়ই বসে কথা বলতাম, আমি ভবিষ্যতে কোথায় যেতে চাই এবং ক্রিকেটকেই কি আমি বেছে নিতে চাই কি না। তিনি আমাকে খুব ইতিবাচকভাবে উৎসাহ দিয়েছেন এবং সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন- এ কারণেই আজ আমি এখানে। পাশাপাশি আমার পরিবারের অন্য সদস্যদের সমর্থনও ছিল। তাই আমার কাছে ক্রিকেটই সবসময় প্রথম বিকল্প ছিল এবং সেটাকে অনুসরণ করা আমার জন্য সহজই ছিল। জাগো নিউজ: আপনার ইনস্টাগ্রাম দেখলে মনে হয় আপনি গলফ ভালোবাসেন। গলফের সঙ্গে আপনার যাত্রাটা কেমন এবং কিভাবে এই খেলায় জড়ালেন? আর একটি বিষয়, আপনার অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার তার বায়োতে লিখেছিলেন ‘পেশাদার গলফার, খণ্ডকালীন ক্রিকেটার।’ জ্যাকবস: স্যান্টনার দারুণ একজন গলফার। আমার মনে হয় অনেক ক্রিকেটারই গলফের দিকে ঝুঁকে পড়ে, কারণ এটা সামাজিকভাবে সময় কাটানোর একটা ভালো উপায় এবং ক্রিকেটের বাইরে ভিন্ন কিছুতে নিজেকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ দেয়। এটা এমন এক শখ, যা ক্রিকেটের বাইরে কিছু করার সুযোগ দেয়। অবশ্য স্যান্টনার বিষয়টা খুব সিরিয়াসভাবে নেয় এবং সত্যিই ভালো খেলেও। আমি গলফে তাকে হারাতে পারব না; কিন্তু এটা আমাদের খেলার বাইরে একটু ভিন্ন কিছু করার সুযোগ দেয় এবং ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য এটা একটা ছোট্ট বিরতির মতো। জাগো নিউজ: বাংলাদেশে কি গলফ খেলেছেন? জ্যাকবস: এখনো খেলিনি। আমার কাছে ক্লাবগুলো (কিটস) আছে কি না সেটাও নিশ্চিত নই। সাধারণত সফরে গেলে ক্লাব নিয়ে আসা সহজ হয়। দলের ছেলেদের সঙ্গে এটা ভালো একটা সামাজিক আউটিংও হয়; কিন্তু এবার আমি সরাসরি পাকিস্তান থেকে এসেছি, তাই ক্লাব নিয়ে আসিনি। জাগো নিউজ: শুরুর দিন থেকেই আপনাকে বড় শট খেলার ব্যাটার হিসেবে দেখা হয়। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ার হিটিংয়ে কিভাবে অভ্যস্ত হয়েছেন? জ্যাকবস: পাওয়ার হিটিংয়ের জন্য আমার ট্রেনিংয়ের দুটি দিক আছে। প্রথমত, শক্ত একটি টেকনিক্যাল ভিত্তি তৈরি করা। আমি অন্য ফরম্যাটগুলোতেও গুরুত্ব দিই- ওয়ানডে ক্রিকেট এবং লাল বলের ক্রিকেটে উন্নতি করতে চাই। যখন শক্ত টেকনিক্যাল ভিত্তি থাকে, তখন সেখান থেকে খেলাটা বিস্তৃত করা সহজ হয়। এরপর পাওয়ার হিটিংয়ের নির্দিষ্ট ড্রিল থাকে- হাতের গতি বাড়ানোর অনুশীলন, ভারী ব্যাট বা ভারী বল দিয়ে অনুশীলন, যাতে ভিন্ন সুইং পাথ নিয়ে খেলতে পারি এবং বলের ওপর শক্তি প্রয়োগ করতে পারি। পাশাপাশি জিমের কাজও গুরুত্বপূর্ণ। অকল্যান্ড এবং ব্ল্যাক ক্যাপস- দুই দলেই শক্তিশালী ফিটনেস ও স্ট্রেংথ প্রোগ্রাম আছে, যা এতে অবদান রাখে। জাগো নিউজ: শেষ তিন-চার ওভারে পাওয়ার হিটিং করার সময় আপনার মন্ত্র বা পদ্ধতি কী? জ্যাকবস: এটা আসলে নির্ভর করে আমি কোন পরিস্থিতিতে ক্রিজে নামছি তার ওপর। সব সময় প্রথম বল থেকেই পাওয়ার হিটিং করতে হয় না। কিন্তু যদি এমন পরিস্থিতি আসে যেখানে প্রথম বল থেকেই মারতে হয়, তখন আমি নিজেকে যতটা সম্ভব প্রস্তুত রাখি, ক্রিজে গিয়ে পরিষ্কার পরিকল্পনা নিয়ে খেলি এবং নিজের শক্তির ওপর বিশ্বাস রাখি। আমি জানি বোলার যদি আমার রেঞ্জে বল করে, তাহলে আমি বাউন্ডারির বাইরে পাঠাতে পারব- এই আত্মবিশ্বাস থাকে। এরপর বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াটা সহজ- আমি যতটা সম্ভব বিষয়টা সহজ রাখার চেষ্টা করি। জাগো নিউজ: শেষ সুপার স্ম্যাশে আপনি টানা পাঁচটি অর্ধশতক করেছিলেন। এভাবে টানা পারফর্ম করার রহস্য কি? জ্যাকবস: আমার মনে হয় না বিষয়টা শুধু প্রতিদিন পারফরম্যান্স বাড়ানোর। বরং প্রতিদিন নতুন করে শুরু করার ব্যাপার। আমি তখন মনে করেছিলাম, ব্যাটিং ও মানসিকভাবে আমি ভালো অবস্থায় আছি। আমি যে রান করেছি, সেটা মেনে নিয়ে পরের ম্যাচে আবার নতুন করে শুরু করতে পারতাম। আগের ম্যাচের সঙ্গে কোনো চাপ না নিয়ে একইভাবে খেলাটা চালিয়ে যেতে পারতাম। আসলে ক্রিকেটের আসল সৌন্দর্যটাই হলো- প্রতিটি ম্যাচে এই মানসিকতা ধরে রাখা। যদিও এটা বলা যতটা সহজ, করা ততটা সহজ না, বিশেষ করে যখন ফর্ম খারাপ থাকে বা আত্মবিশ্বাস কমে যায়। কিন্তু ক্রিকেট এমনই- এখানে ওঠানামা থাকবে। আমার জন্য মূল বিষয় হলো, সেই ভালো অনুভূতিতে আবার ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করা। জাগো নিউজ: আবার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ফিরে আসি। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স আপনাকে দলে নিয়েছিল, কিন্তু আপনি সেই মৌসুমে একটি ম্যাচও খেলেননি। সেখানে সময় কাটানো কি আপনাকে সাহায্য করেছে? জ্যাকবস: হ্যাঁ, শতভাগ। খেলতে না পারলেও সেখানে বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে শেখার সুযোগ পাওয়া, তারা কিভাবে তাদের খেলা নিয়ে কাজ করে তা দেখা এবং তাদের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা থেকে শেখা, এসব আমার নিজের খেলায় প্রয়োগ করার সুযোগ দিয়েছে। রোহিত, বুমরাহ, হার্দিক, সূর্য, তিলকের সঙ্গে কথা বলা, আর আমাদের সঙ্গে কিছু নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়ও ছিল- বোল্টি ও স্যান্টনার। তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখা এবং খেলাটাকে আরও ভালোভাবে বোঝা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। এটা এমন একটি অভিজ্ঞতা, যা আমি কোনো কিছুর সঙ্গে বদলাতে চাইব না। জাগো নিউজ: আপনি ইতিমধ্যে পিএসএল এবং সিপিএল খেলেছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে আপনার অভিজ্ঞতাকে কিভাবে বর্ণনা করবেন? জ্যাকবস: আমার জন্য বিদেশি খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে উপমহাদেশের অভিজ্ঞতাকে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমি নিজেও সেটার ওপর জোর দিতে চেয়েছিলাম, যাতে এসব কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করে নিজের খেলাকে উন্নত করতে পারি। নিউজিল্যান্ডে খেলা অবশ্যই কন্ডিশনের দিক থেকে অনেক আলাদা এবং সেখানে আমি নিজেকে বেশি স্বচ্ছন্দ ও আত্মবিশ্বাসী মনে করি। তাই উপমহাদেশের কন্ডিশনগুলো যতটা সম্ভব অভিজ্ঞতা নিতে চেয়েছি, যাতে আমার খেলায় নতুন একটি দিক যোগ করতে পারি। জাগো নিউজ: আপনি কি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ- বিপিএলে খেলতে চান? জ্যাকবস: অবশ্যই…, সুযোগ যদি আসে, আমি খেলতে চাই। জাগো নিউজ: আপনি আন্তর্জাতিক অভিষেক করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা, তথা জন্মভূমির বিপক্ষে। সেটা কতটা আবেগের ছিল? জ্যাকবস: সেটা খুবই বিশেষ ছিল। জিম্বাবুয়েতে গিয়ে ‘এ’ দলের হয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলছিলাম এবং তখন জানতে পারি যে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আমার অভিষেক হবে। এখনও আমার অনেক আত্মীয় সেখানে থাকে। আমার এক কাজিনও সেখানে ছিল এবং সে মাঠে এসে ম্যাচটি দেখতে পেরেছিল- যা দারুণ ছিল। তাই এটা পুরো পরিবারের জন্য বড় একটি ব্যাপার ছিল। অবশ্যই ওটাই আমার জন্মস্থান; কিন্তু নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলতে পেরে আমি ভীষণ গর্বিত ছিলাম। পরিবারের জন্য এটা যেন এক ধরনের পূর্ণচক্রের মুহূর্ত ছিল, তাই এটা আমার কাছে খুব বিশেষ। জাগো নিউজ: এটি কি আপনার প্রথম বাংলাদেশ সফর। চট্টগ্রামে পৌঁছে কন্ডিশন ও স্টেডিয়াম সম্পর্কে আপনার প্রথম ধারণা কী ছিল? জ্যাকবস: আমার মনে হয়েছে দারুণ। পরিবেশটা অসাধারণ ছিল এবং দর্শকরা খেলায় ভিষণভাবে জড়িত। কন্ডিশনও খুব ভালো ছিল। আমার মনে হয়েছে পিচটা দারুণ এবং রানটাও বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বাংলাদেশ যেভাবে ওই রানটা তাড়া করে জিতেছে, সেটা সত্যিই ভালো ক্রিকেট ছিল। আমরা অবশ্যই সেটা নিয়ে ভাবছি এবং আগামীকাল আবার মাঠে নামব- ছেলেরা সবাই সেটার জন্য অপেক্ষা করছে। জাগো নিউজ: আপনি শামীমের (পাটোয়ারী) সেই উইকেটকিপারের ওপর দিয়ে মারা ছক্কাটা দেখেছেন। দেখতে অনেকটা এবি ডি ভিলিয়ার্সের মতো লাগছিল। জ্যাকবস: সে বলটা উল্টো দিকে মেরেছিল। অবিশ্বাস্য একটা শট ছিল। সে পুরো মাঠ জুড়েই খেলছিল। আমার মনে হয়েছিল এটা খুব ভালো বল ছিল; কিন্তু তারপরও সে সরাসরি পেছনের দিকে ছক্কা মারতে পেরেছে- যা সত্যিই দারুণ ছিল। জাগো নিউজ: গত কয়েক বছরে আপনার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের উত্থান বেশ দ্রুত হয়েছে। কখন প্রথম মনে হয়েছিল নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলার স্বপ্ন সত্যি হতে পারে? জ্যাকবস: আমার লক্ষ্য সবসময়ই ছিল একসময় সেখানে পৌঁছানো। কিন্তু আপনি যেমন বললেন, এটা খুব দ্রুত হয়েছে। এত কম সময়ে সেখানে পৌঁছাব ভাবিনি। এটা একটা বড় সম্মান এবং ছোটবেলা থেকেই আমি এর স্বপ্ন দেখেছি- তাই এটা দারুণ ছিল। এই পর্যায়ে খেলতে আত্মবিশ্বাস পাওয়া শুধু নিজের ভেতর থেকেই আসে না, আশেপাশের মানুষের সমর্থন থেকেও আসে। আমার একটি ভালো সাপোর্ট গ্রুপ আছে, যাদের সঙ্গে আমি আমার খেলা নিয়ে কথা বলতে পারি। নিউজিল্যান্ড দলের পরিবেশও দারুণ, তাই এখন পর্যন্ত দলের সঙ্গে সময়টা আমি খুব উপভোগ করেছি এবং যতটা সম্ভব সেটি চালিয়ে যেতে চাই। জাগো নিউজ: আপনার প্রথম শ্রেণির রেকর্ডও চমৎকার। ভবিষ্যতে টেস্ট ক্রিকেট খেলার বিষয়ে আপনার ভাবনা কী? জ্যাকবস: অবশ্যই। টেস্টই ক্রিকেটের শিখর। একজন টেস্ট ক্রিকেটার হওয়া আমার জন্য খুব বিশেষ কিছু হবে এবং আমি সেটির দিকেই এগোতে চাই। নিউজিল্যান্ডের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের মান খুব ভালো এবং দেশে ফিরে অকল্যান্ড দলের হয়ে ভালো পারফর্ম করার জন্য আমি কঠোর পরিশ্রম করতে চাই। জাগো নিউজ: গত বছর ক্রিকইনফো আপনার একটি চেকলিস্ট নিয়ে প্রতিবেদন করেছিল- নিউজিল্যান্ডের হয়ে অভিষেক, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা এবং আইপিএলে ফেরা। শেষ দুটি লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় কি হতাশ লেগেছিল? জ্যাকবস: অবশ্যই আমি চাইতাম তিনটিই পূরণ করতে। কিন্তু কখনও কখনও তা হয় না, আর সেটাও ঠিক আছে। আমার জন্য বিষয়টা হলো আমি যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি সেদিকেই মনোযোগ দেওয়া- প্রতিদিন একটু একটু করে উন্নতি করা এবং প্রক্রিয়াটার ওপর বিশ্বাস রাখা। যদি আমি নিজের খেলা উন্নত করতে থাকি, তাহলে ভবিষ্যতে সেই সুযোগগুলো আবার আসবে। জাগো নিউজ: সামনে তাকিয়ে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে আপনার লক্ষ্য কী? জ্যাকবস: আমার মনে হয় সবার লক্ষ্যই প্রায় একই। সামনে বিশ্বকাপ আছে এবং ওয়ানডে ক্রিকেটও রয়েছে। আমি এখনও অন্য ফরম্যাটে অভিষেক করিনি, তাই আমার লক্ষ্য হলো সুযোগ পেলে ওয়ানডে এবং টেস্ট দলে ঢোকা। অবশ্যই বলা যতটা সহজ, করা ততটা সহজ নয়- কারণ আমাদের দলে অসাধারণ অনেক খেলোয়াড় আছে। তাই আমার জন্য বিষয়টা আবারও একই- যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি সেটাই করা এবং একজন ভালো ক্রিকেটার হিসেবে সামনে এগিয়ে যাওয়া। এসকেডি/আইএইচএস/
Go to News Site