Somoy TV
ফেসবুক ও টেলিগ্রামের বিভিন্ন গ্রুপে তরুণীদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসবের বেশিরভাগই স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও। যদিও এই চক্রের কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে এখনো অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। পুলিশ বলছে, ভুয়া সিম ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে কয়েকটি চক্র এসব অপকর্ম চালাচ্ছে।একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া (ছদ্মনাম, নিরাপত্তার স্বার্থে নাম গোপন রাখা হয়েছে) জানান, হঠাৎ একদিন সকালে তিনি জানতে পারেন তার ব্যক্তিগত কিছু ছবি টেলিগ্রামের একটি গ্রুপে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ৬০ হাজারেরও বেশি সদস্য রয়েছে। ঘটনার পর তিনি থানায় মামলা করেন। পরে জানা যায়, সম্পর্ক ভাঙনের পর তার প্রাক্তন প্রেমিকই এসব ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে ছড়িয়ে দেয়। সাদিয়া বলেন, ‘আমার অজান্তে আমার ছবিগুলো ওর ফোনে ছিল। ২০-৩০টার মতো ছবি ছিল তার কাছে। আমার খালাতো বোন প্রথম আমাকে জানায় যে আমার ছবি-ভিডিও পাবলিশড হয়েছে। তখন আমি কাউকে কিছু বলতে পারিনি। পরিবারকেও অনেক পরে জানিয়েছি। আমি নিজেই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।’ সামাজিক মাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর সাদিয়ার শান্ত জীবনে নেমে আসে নরকের যন্ত্রণা। তিনি আরও বলেন, ‘বাড়িতে আমাকে দোষারোপ করা হচ্ছিল, আত্মীয়স্বজন নানা কথা বলছিল। আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম, এমনকি আত্মহত্যার চিন্তাও এসেছিল। এই ট্রমা থেকে এখনো বের হতে পারিনি।’ আরও পড়ুন: মিরপুরে টেলিগ্রামের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি বিক্রি, যুবক আটক সময়ের অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধু ফেসবুক ও টেলিগ্রামেই এমন শতাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে, যেখানে মাসে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে প্রবেশ করা যায়। এসব গ্রুপে নারীদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের আরও অসংখ্য গ্রুপ রয়েছে বলে জানা গেছে। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত ছবি ধারণ ও ডিভাইস ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। একইসঙ্গে এমন ঘটনার শিকার হলে প্রথমেই পরিবার বা কাছের মানুষকে জানিয়ে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। সাইবার বিশেষজ্ঞ আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, কিছু চক্র এসব ভিডিও সংগ্রহ করে প্রিমিয়াম গ্রুপে সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে বিক্রি করে। কেউ এ ধরনের অপরাধের শিকার হলে প্রথমেই পরিবারকে জানানো এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেয়া উচিত। পুলিশ বলছে, ভুয়া সিম ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে এসব অপরাধ করা হলেও প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার তরিকুল ইসলাম বলেন, যে কোনোভাবে তারা পরিচয় গোপন করুক না কেন, শেষ পর্যন্ত তারা আইনের আওতায় আসবে এবং শাস্তি পাবে। অপরাধের শিকার হলে ভয় না পেয়ে আইনের আশ্রয় নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
Go to News Site