Collector
কূটনৈতিক পরামর্শ সভায় যেসব বিষয়ে হলো আলোচনা | Collector
কূটনৈতিক পরামর্শ সভায় যেসব বিষয়ে হলো আলোচনা
Somoy TV

কূটনৈতিক পরামর্শ সভায় যেসব বিষয়ে হলো আলোচনা

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে পঞ্চম দফা কূটনৈতিক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর বিরতির পর অনুষ্ঠিত এ সভা বাংলাদেশ ও ইইউ’র দীর্ঘদিনের বহুমাত্রিক অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করবে বলছেন সংশ্লিষ্টরা।বুধবার (২৯ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিস্তৃত ক্ষেত্রসমূহ পর্যালোচনা করা হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এরিক কুর্জওয়েইল যৌথভাবে সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হয় এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিভিন্ন খাতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা সম্প্রসারণের পথ নিয়ে আলোচনা হয়। পরিবর্তিত কৌশলগত ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ইইউ’র সঙ্গে একটি ভবিষ্যতমুখী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করে। বৈঠকে সম্প্রতি পার্টনারশিপ অ্যান্ড কো-অপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (পিসিএ)-এর প্রাথমিক স্বাক্ষরকে স্বাগত জানানো হয়। উভয়পক্ষ আশা প্রকাশ করে যে, নিজ নিজ অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এই চুক্তি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার জন্য একটি কাঠামোবদ্ধ ও বিস্তৃত ভিত্তি প্রদান করবে। ইইউ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে এবং ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের উল্লেখ করে। উভয়পক্ষ গণতান্ত্রিক শাসন, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন নিয়ে মতবিনিময় করে। বাংলাদেশের জনগণের বিপুল সমর্থনে গঠিত নতুন সরকারের অধীনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অপার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ বাংলাদেশ প্রকাশ করে। আরও পড়ুন: ত্রয়োদশ নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে যা বললো ইইউ পর্যবেক্ষক মিশন বাংলাদেশ ইইউ’র সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধার গুরুত্ব তুলে ধরে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সুবিধার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির মতো ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে। গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ হরাইজন ইউরোপ কর্মসূচিতে আরও বিস্তৃত অংশগ্রহণ এবং জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক যৌথ উদ্যোগের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে। দুই পক্ষ অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা করে। বাংলাদেশ শ্রম সংস্কারে অগ্রগতির বিষয় তুলে ধরে এবং নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন রোধে যৌথ সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে। আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-ইইউ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারের আশাবাদ জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে বাংলাদেশ তার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে এবং জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর, অভিযোজন ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানায়, বিশেষ করে ইইউর গ্লোবাল গেটওয়ে উদ্যোগের আওতায়। পরামর্শ সভায় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু, বিশেষ করে চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। উভয়পক্ষ বহুপাক্ষিকতা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আরও শক্তিশালী ও টেকসই আন্তর্জাতিক মনোযোগ এবং সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়।

Go to News Site