Somoy TV
প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এবং তোমাদের কর্মের পুরোপুরি প্রতিদান কেয়ামতের দিনই দেয়া হবে। অতঃপর যাকেই জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হবে ও জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হবে, সে-ই প্রকৃত অর্থে সফলকাম হবে। আর জান্নাতের বিপরীতে পার্থিব জীবন তো প্রতারণার উপকরণ ছাড়া কিছুই নয়। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৮৫)স্বামী মারা গেলে স্ত্রীর করণীয় নারীর জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত স্বামীর মৃত্যু। এ শোক ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। ইদ্দত পালন করা মহান আল্লাহ বলেছেন, وَ الَّذِیۡنَ یُتَوَفَّوۡنَ مِنۡکُمۡ وَ یَذَرُوۡنَ اَزۡوَاجًا یَّتَرَبَّصۡنَ بِاَنۡفُسِهِنَّ اَرۡبَعَۃَ اَشۡهُرٍ وَّعَشۡرًا فَاِذَا بَلَغۡنَ اَجَلَهُنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَیۡکُمۡ فِیۡمَا فَعَلۡنَ فِیۡۤ اَنۡفُسِهِنَّ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَ اللّٰهُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ خَبِیۡرٌ আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা মারা যাবে এবং স্ত্রীদের রেখে যাবে, তাদের স্ত্রীরা চার মাস দশ দিন অপেক্ষায় থাকবে। যখন তারা ইদ্দতকাল পূর্ণ করবে, তখন নিজেদের ব্যাপারে বিধি মোতাবেক যা করবে, সে ব্যাপারে তোমাদের কোনো পাপ নেই। তোমরা যা কর, সে ব্যাপারে আল্লাহ সম্যক অবগত। (সুরা বাকারা : ২৩৪) তবে স্বামী মারা যাওয়ার সময় কোনো নারী যদি গর্ভবতী থাকেন, তার ইদ্দত শেষ হয় সন্তান জন্মদান করার পর। এই ইদ্দতকালকে আরবি ভাষায় বলা হয় ‘ইদ্দাতুল অফাতি’ বা মৃত্যুর ইদ্দত। এর সময়কাল হল চার মাস দশ দিন, বা ১৩০ দিন। ইদ্দত পালনের উদ্দেশ্য হল:১. স্ত্রীর গর্ভধারণের সম্ভাবনা নির্ণয় করা,২. স্বামীর স্মৃতি ও সম্পর্কের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা,৩. আবেগ পুনর্গঠন ও সামাজিক স্থিতি নিশ্চিত করা। ইমাম ইবন কাসির বলেন, “ইদ্দত হচ্ছে এমন একটি সময়, যাতে স্ত্রী মানসিকভাবে শান্ত হয় এবং পরিবার বা সমাজ পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারে।” (তাফসিরে ইবন কাসির, সুরা বাকারা ২:২৩৪, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ২০০০ খ্রি.) ইদ্দতের সময় অবস্থান স্ত্রীকে স্বামীর ঘরেই ইদ্দত পালন করতে হবে। হাদিসে এসেছে, “তোমরা নারীদের তাদের ইদ্দতের সময় স্বামীর বাড়ি থেকে বের করো না।” (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ২৩১০) আরও পড়ুন: মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের ৩ আমল অর্থাৎ, স্ত্রীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য ইসলাম চায় সে যেন নিজের পরিচিত পরিবেশে অবস্থান করে। তবে যদি জীবনের নিরাপত্তা বা বৈধ প্রয়োজনে অন্যত্র যেতে হয়, যেমন চিকিৎসা বা আদালতে উপস্থিতি, তাহলে আলেমদের মতে তা অনুমোদিত। (ইবন কুদামা, আল-মুগনি, খণ্ড ৮, পৃ. ১০৫, কায়রো, ১৯৯৭) শোক পালন করা নবীজি (সা.) বলেন, “কোনো নারীর জন্য তার স্বামীর মৃত্যুর পর চার মাস দশ দিনের বেশি নয়, আর অন্য কারও জন্য তিন দিনের বেশি শোক পালন করা বৈধ নয়।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১২৮০; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৯৩৮) এ-সময় করণীয় হল: সৌন্দর্যবর্ধক প্রসাধন, রঙিন পোশাক বা অলংকার ব্যবহার থেকে বিরত থাকা,সুগন্ধি ব্যবহার না করা,অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া। এটি কোনো শাস্তি নয়; বরং একটি সম্মানজনক আধ্যাত্মিক শোককাল, যাতে নারী নিজেকে সামলে নিতে পারে এবং সমাজ তাঁর সম্মান রক্ষা করে। নামাজ, রোজা ও দোয়া স্বামী মারা গেলে স্ত্রীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করণীয় হল, তাঁর জন্য দোয়া করা, তার নাজাতের জন্য দান-সদকা করা এবং নেক আমল করা। আরো পড়ুন: পবিত্র কোরআনে দেনমোহরের আলোচনাকোরআনে আল্লাহ দোয়া শিখিয়েছেন, “হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের ও আমাদের পূর্বসূরিদের ক্ষমা করুন, যারা ইমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছে।”(সুরা হাশর, আয়াত: ১০) অর্থাৎ, মৃত স্বামীর জন্য দোয়া করা, কুরআন তিলাওয়াত করে সওয়াব পৌঁছানো, তার নামে সদকা করা, এসবই স্ত্রীর জন্য উত্তম আমল।
Go to News Site