Collector
অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন, কে হাসবে শেষ হাসি? | Collector
অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন, কে হাসবে শেষ হাসি?
Somoy TV

অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন, কে হাসবে শেষ হাসি?

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার ভোট শেষ হতেই ফলের আভাস ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। দিনভর টানটান উত্তেজনার মধ্যেও সুষ্ঠু ভোটের সাক্ষী থাকলেন রাজ্যটির সাত জেলার ৩ কোটি ২১ লাখ ভোটার। সেই সঙ্গে এদিন তারাই ভাগ্য নির্ধারণ করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারী, ফিরহাদ হাকিম, অধীর চৌধুরী, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সঙ্গে আরও প্রায় দেড় হাজার প্রার্থীরও।ভোটের দিন তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে বেশ কিছু জায়গায় মৃদু সংঘর্ষের খবর মিলেছে। কোথাও স্লো ভোটিং, কোথাও আবার দেরিতে ভোট শুরু হওয়ার মতো অভিযোগও এসেছে। কোথাও আবার ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে। তবে বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা পর্যন্ত রক্তপাতহীন ভোট করতে পেরে নির্বাচন কমিশন স্বস্তি প্রকাশ করে। যদিও ভোট-পরবর্তী সহিংসতা ঠেকানোও তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেই কারণেই ভোটের পরেও রাজ্যে আসা কেন্দ্রীয় বাহিনীর বড় অংশ আরও বেশ কয়েক দিন থেকে যাবে। গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট অনুষ্ঠিত হয়। আর বুধবার দ্বিতীয় তথা শেষ দফার মধ্য দিয়ে দুই দফার ভোটগ্রহণ শেষে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের রায় এখন ইভিএমে বন্দি হলো। প্রথম দফার পর দ্বিতীয় তথা শেষ দফাতেও ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। কোথাও ভোট শান্তিপূর্ণ, কোথাও মৃদু উত্তেজনা, কোথাও আবার অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে সরগরম থেকেছে ভোটের দিন। বুধবার দ্বিতীয় দফায় ভোট হয়েছে ১৪২টি আসনে। এর আগে প্রথম দফায় ভোট হয়েছিল ১৫২টি আসনে। এদিন ভোট হয় কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমানের মতো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়। এই এলাকাগুলোর বড় অংশ তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি বলেই পরিচিত। তাই শেষ দফার ভোটকে ঘিরে শুরু থেকেই রাজনৈতিক আগ্রহ ছিল বেশি। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য বলছে, বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট পড়েছিল ৮৯.৯৯ শতাংশ। প্রশাসনের তরফে ভোট নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে দাবি করা হলেও, বিভিন্ন জায়গা থেকে অশান্তি ও অভিযোগের খবর শোনা গেছে। কমিশনের কাছে ভোটারদের ভয় দেখানো, বুথের বাইরে চাপ তৈরি, ইভিএম বিভ্রাট এবং রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।  আরও পড়ুন: ‘বাংলা-বিরোধী’ পরিবর্তন ঠেকানো কতটা কঠিন মমতার? কলকাতার গণমাধ্যমগুলোর দাবি, কোথাও তৃণমূল কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে, কোথাও বিজেপির বুথে ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে এসেছে। নদিয়া ও হুগলির কিছু জায়গায় দুই শিবিরের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার খবর পাওয়া যায়। কলকাতাতেও একটি বুথে শুভেন্দু অধিকারী পৌঁছানোর পর তাকে ঘিরে বিক্ষোভের অভিযোগ ওঠে। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ পরিস্থিতি সামলায়। ভোটের দিন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। মমতা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের একাংশ নিরপেক্ষ আচরণ করছে না। তার দাবি, তৃণমূল কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে চাপে রাখার চেষ্টা চলছে। সিআরপিএফ ও কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন মমতা। অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী পাল্টা অভিযোগ করেন, তৃণমূলই ভোটারদের মধ্যে ভয় তৈরি করতে চাইছে। ভোটের হার নিয়েও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা। প্রথম দফায় ভোটের হার ছিল ৯২ শতাংশের বেশি। দ্বিতীয় দফাতেও ভোট পড়েছে ৯১ শতাংশের বেশি। তৃণমূলের দাবি, এই ভোট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পক্ষে মানুষের আস্থার বহিঃপ্রকাশ। বিজেপির দাবি, বেশি ভোট মানে শাসকদলের বিরুদ্ধে মানুষের জমে থাকা ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বেশি ভোটের সরল ব্যাখ্যা করা কঠিন। কখনও তা শাসকের পক্ষে যায়, কখনও আবার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তাই দুই শিবিরই নিজেদের মতো করে অঙ্ক কষছে। এদিকে ভোট মিটতেই সামনে এসেছে এক্সিট পোল। আর সেখানেও ছবি একেবারে একমুখী নয়। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, এখনও পর্যন্ত ছয়টি জরিপের মধ্যে চারটিতে বিজেপি এগিয়ে আছে। আর দু’টিতে তৃণমূলকে স্পষ্ট সুবিধাজনক অবস্থানে দেখানো হয়েছে। ম্যাট্রাইজ নামের প্রতিষ্ঠানের সমীক্ষা বিজেপিকে দিয়েছে ১৪৬ থেকে ১৬১ আসন, তৃণমূলকে ১২০ থেকে ১৪০। পি-মার্ক বিজেপিকে ১৫০ থেকে ১৭৫ এবং তৃণমূলকে ১১৮ থেকে ১৩৮ আসনের মধ্যে রেখেছে। পোল ডায়েরির জরিপে বিজেপি ১৪২ থেকে ১৭১, তৃণমূল ৯৯ থেকে ১২৭। প্রজা পোল বিজেপিকে আরও বড় সুবিধা দিয়ে ১৭৮ থেকে ২০৮ আসনের পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে সব জরিপ বিজেপির পক্ষে, তেমনটাও নয়। পিপলস পালস তৃণমূলকে ১৭৭ থেকে ১৮৭ আসন এবং বিজেপিকে ৯৫ থেকে ১১০ আসনের মধ্যে দেখিয়েছে। জনমত পোল তৃণমূলকে আরও এগিয়ে রেখে ১৯৫ থেকে ২০৫ আসনের পূর্বাভাস দিয়েছে। সেখানে বিজেপিকে দেখানো হয়েছে ৮০ থেকে ৯০ আসনের মধ্যে। অর্থাৎ এক্সিট পোলের ভাষা মিশ্র। কিছু জরিপ বলছে বিজেপি এগিয়ে, কিছু জরিপ বলছে তৃণমূল ফের ক্ষমতায় ফিরতে পারে।  আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন: বুথফেরত জরিপে মমতার তৃণমূলের চেয়ে এগিয়ে বিজেপি এ কারণেই ৪ মে’র গণনা নিয়ে কৌতূহল আরও বেড়েছে। তৃণমূল বলছে, এক্সিট পোল শেষ কথা নয়, মানুষের আসল রায় গণনার দিনই জানা যাবে। আর বিজেপির দাবি, বাংলায় পরিবর্তনের দরজা খুলে গেছে। বাম-কংগ্রেস শিবিরও নিজেদের ভোট ও আসনের অঙ্ক দেখছে। ভোটের মাঠে মানুষ কী রায় দিয়েছেন, সেই রায় এখন ইভিএমে বন্দি। ৪ মে জানা যাবে, পশ্চিমবঙ্গ আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই থাকে, নাকি বিজেপি সত্যিই রাজ্যে ক্ষমতার দরজা খুলে ফেলতে পারে। তার জন্য আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা।

Go to News Site