Jagonews24
চলতি বছর ফেব্রুয়ারির শেষ দিনে ইরানের ওপর হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী। দীর্ঘ ৩৯ দিনের যুদ্ধের পর ৮ এপ্রিল যুদ্ধ বিরতি কার্যকর হয়। তবে হরমুজ প্রণালি ঘিরে ১৩ এপ্রিল ইরানের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এই নৌ-অবরোধ ভঙ্গের চেষ্টা করছিল এমন ৪০-৪২টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজকে তারা পুনর্নির্দেশ দিয়ে ঘুরিয়ে দিয়েছে। মার্কিন সেন্টকম এক্স-এ এক পোস্টে জানায়, আজ যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে। অবরোধ ভঙ্গের চেষ্টা করা ৪২তম বাণিজ্যিক জাহাজকেও সফলভাবে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এই তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা তাস। কুপারের মতে, এই অবরোধের কারণে তেহরান তার ট্যাংকারগুলোতে এরই মধ্যে লোড করা প্রায় ৬৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিক্রি করতে পারছে না। এদিকে যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি এমন যে, পুনরায় যুদ্ধ শুরু কিংবা কোনো সমঝোতা ছাড়াই ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থায় (স্টেলমেট) জড়িয়ে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র। আর এই দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড-এর ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য প্রকাশিত হয়েছ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। ৭ এপ্রিল ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের পারস্পরিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এর প্রেক্ষিতে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দফা আলোচনা করে, তবে বিভিন্ন মতপার্থক্যের কারণে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এর প্রেক্ষিতে ১৩ এপ্রিল ইরানের হরমুজ প্রণালি ঘিরে নৌ-অবরোধ আরোপ করেন ট্রাম্প। এরপর ২১ এপ্রিল ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও ইরান জানায়, তারা একতরফা এই সিদ্ধান্ত মানবে না এবং নিজেদের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেবে। ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২,৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন। কেএম
Go to News Site