Somoy TV
মনের আশা পূরণ হবে, এমন বিশ্বাস নিয়ে গাইবান্ধায় বসেছে ঐতিহ্যবাহী ‘ইচ্ছে পূরণের মেলা’। বৈশাখের প্রথম দিন থেকে শুরু হওয়া মাসব্যাপী এই মেলায় দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ মানত পূরণের আশায় ভিড় জমাচ্ছেন।গাইবান্ধা সদর উপজেলার দারিয়াপুরে মীরের বাগানে তিন ওলির মাজার প্রাঙ্গণে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা জানান, এই মেলা চলবে আগামী ৩০ বৈশাখ পর্যন্ত। মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, মানতের জন্য আগত ভক্তদের ব্যাপক ব্যস্ততা। কেউ অস্থায়ী চুলায় আগুন জ্বালছেন, কেউবা মানতের খিচুড়ি রান্নার কাজে ব্যস্ত, আবার কেউ করছেন মাজার জিয়ারত। মনের ইচ্ছা পূরণ করতে তবারক তৈরির প্রস্তুতি চলছে মেলাজুড়ে। ভক্তদের বিশ্বাস, এখানে মানত করলে অসুখ-বিসুখ কিংবা যেকোনো ধরনের সমস্যা দূর হয়। এমনকি সন্তান ধারণে অক্ষম নারীরা মানত করলে তারা সন্তান লাভ করেন এবং সামনের জীবন সুখের হয় বলেও বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে। এই বিশ্বাস নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন ধর্মের মানুষ মেলায় আসছেন। তারা মানত হিসেবে বাড়ি থেকে চাল, ডাল, মুরগি, মাংস ও জ্বালানি কাঠসহ রান্নার অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে মেলায় আসেন। রান্না করা খিচুড়ি দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টনের পাশাপাশি নিজেরাও খান। অনেকে আবার তবারক হিসেবে বাড়িতেও নিয়ে যান। মেলায় আসা সদর উপজেলার মালিবাড়ি এলাকার গৃহবধূ রোখসানা বেগম বলেন, ‘আমার কোনো সন্তান ছিল না। মেলায় মানত করার পর সন্তান পেয়েছি, তাই তবারক নিয়ে এসেছি।’ আরও পড়ুন: সরকারি টেকনিক্যাল কলেজের ব্যবহারিক ক্লাস হয় বাইরের দোকানে! রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে আসা আরেক গৃহবধূ সোনালী বেগম জানান, দুই মেয়ের পর ছেলে সন্তানের জন্য তিনি নিয়ত করেছিলেন। তার ভাষ্য, ‘ইচ্ছে ছিল ছেলে সন্তান হলে তাকে নিয়ে মেলায় আসব। আমার আশা পূরণ হয়েছে, ছেলেকে কোলে নিয়ে মেলায় এসেছি।’ সাঘাটা থেকে ঘুরতে আসা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষ বিভিন্ন ইচ্ছে নিয়ে এই মেলায় আসেন। অনেকে আবার ইচ্ছের বাইরে শুধু ঘুরতে বা পরিবার নিয়ে খিচুড়ি রান্না করে পিকনিক করতেও আসেন।’ পুণ্যার্থীদের সমাগমকে কেন্দ্র করে মাজার ও মসজিদের সামনে এবং দুপাশের প্রায় চার একর জায়গাজুড়ে বসেছে গ্রামীণ মেলা। সেখানে চারুকারু পণ্যসহ বিভিন্ন জিনিসের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। পাওয়া যাচ্ছে নানা ধরনের মিষ্টি, জিলাপি, কসমেটিকস ও মাটির খেলনা। সব বয়সি মানুষের ভিড় দেখা গেছে মেলায়। শাহ সুলতান গাজী জামে মসজিদের প্রধান খাদেম কারী মো. আলী আশরাফী এবং মাজারের মোতোয়ালিরা জানান, প্রায় ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে প্রতি বছর বৈশাখ মাসজুড়ে এই মেলা চলে আসছে। কয়েক শত বছর আগে এই মসজিদ ও মাজার নির্মিত হয়। এখানে ঐতিহাসিক পীর শাহ সুলতান গাজী, মীর মোশাররফ হোসেন ও ইবনে শরফুদ্দিন শাহের কবর রয়েছে। মানুষ নিজের ইচ্ছায় এসে তাদের মনোবাসনা পূরণের জন্য এখানে দোয়া করেন।
Go to News Site