Somoy TV
মৌলভীবাজারের সবকটি নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও হাওরের পানি নামছে খুব ধীরগতিতে। এতে হাওর এলাকায় এখনো শত শত হেক্টর বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে আছে, যার ফলে চরম দুশ্চিন্তা ও হাহাকার দেখা দিয়েছে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে।উজানের বৃষ্টিপাত কমে আসায় বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর থেকে জেলার নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ৯টায় মনু নদী রেলওয়ে ব্রিজের কাছে বিপদসীমার ৩৭৫ সেন্টিমিটার এবং শহরের চাঁদনীঘাট এলাকায় ২০৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধলাই ও কুশিয়ারা নদীও বিপদসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে জুড়ী সীমান্তের জুড়ী নদী এখনো বিপদসীমার ১০৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। হাওরে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। সরেজমিনে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাইঞ্জার হাওর, বিন্নার হাওর এবং রাজনগর উপজেলার কাওয়াদিঘি হাওর ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টিপাত না থাকায় রোদ ওঠায় কৃষকরা হাওর থেকে ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেকেই পানিতে তলিয়ে থাকা ধান তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। কাইঞ্জার হাওর পাড়ের নিতেশ্বর গ্রামের কৃষক জুনেদ মিয়া আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, ধারদেনা করে ১০ কিয়ার (স্থানীয় পরিমাপ) জমিতে বোরো চাষ করেছিলেন তিনি। এর মধ্যে ৫ কিয়ার জমির ধান পানিতে সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়েছে, বাকিটুকু পাবেন কি না তা নিয়েও সংশয়ে আছেন। এতে তার প্রায় ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। একই হাওরের কৃষক শিমুল হোসেন জানান, কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ৩০ কিয়ার জমিতে বোরো চাষ করেছিলেন। ফলন ভালো হলেও কাটার ঠিক আগমুহূর্তে পুরো জমির ধান পানিতে তলিয়ে যায়। তার প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন তিনি ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। আরও পড়ুন: নেত্রকোনায় পানির তলে ২ হাজার হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শিমুল জানান, জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) কাইঞ্জার হাওর এলাকা পরিদর্শন করে কৃষকদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানান, এ বছর জেলায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ হয়, যার মধ্যে হাওর এলাকায় রয়েছে প্রায় ২৭ হাজার হেক্টর। অতিবৃষ্টিতে প্রায় ২৩ হাজার হেক্টর বোরো ধান কাটা হয়েছে। কৃষি বিভাগের দাবি, হাওরের অধিকাংশ ধান কাটা প্রায় সম্পন্ন এবং বাকি থাকা ১২ থেকে ১৫ শতাংশ ধান দু-একদিনের মধ্যে কাটা শেষ হবে। তবে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের অভিযোগ, এখনো হাওরজুড়ে শত শত হেক্টরের ধান পানিতে নিমজ্জিত। শুধু বোরো ধানই নয়, ১৭২ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজি এবং ১৬ হেক্টর আউশের বীজতলাও পানিতে তলিয়ে আছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সহায়তা দেয়া হবে।
Go to News Site