Somoy TV
বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‘পলিটিকো’ ও ‘টেলিগ্রাফ’-এর মালিকানা প্রতিষ্ঠান এক্সেল স্প্রিঞ্জারের প্রধান নির্বাহী ম্যাথিয়াস ডফনার এক বিতর্কিত নির্দেশনায় জানিয়েছেন, তার প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের অবশ্যই ইসরাইলকে সমর্থন করতে হবে, অন্যথায় তাদের পদত্যাগ করা উচিত।ম্যাথিয়াস ডফনারের এই ঘোষণার পর সংবাদমাধ্যম দুটির সম্পাদকীয় স্বাধীনতা চরম হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) পলিটিকোর সাংবাদিকদের সঙ্গে এক উত্তপ্ত বৈঠকে ডফনার স্পষ্ট করে বলেন, ইসরাইলকে সমর্থন করা তাদের প্রতিষ্ঠানের অন্যতম মূল ভিত্তি। বৈঠকে ডফনারের রাজনৈতিক এজেন্ডা প্রচারের অভিযোগ তুলে নবনিযুক্ত সম্পাদক জোনাথন গ্রিনবার্গের কাছে একটি চিঠি পাঠান সাংবাদিকরা। তাদের দাবি, ডফনারের সাম্প্রতিক মতামতগুলো একটি নিরপেক্ষ সংবাদমাধ্যম হিসেবে পলিটিকোর সুনাম ক্ষুণ্ন করছে। চলতি মাসেই ডেইলি টেলিগ্রাফ অধিগ্রহণের অনুমোদন পেয়েছে এক্সেল স্প্রিঞ্জার। এমন পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের ভয়, ওপর মহলের এই আদর্শিক চাপ ইসরাইল-গাজা যুদ্ধের কাভারেজকে একপাক্ষিক করে তুলতে পারে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাজায় গণহত্যার অভিযোগ মোকাবিলা করছে ইসরাইল, যেখানে এ পর্যন্ত অন্তত ৭২ হাজার ৫৯৯ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭২ হাজার ৪১১ জন আহত হয়েছেন। আরও পড়ুন: উত্তর ইসরাইলে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা, ১২ সেনা আহত ডফনার অবশ্য তার অবস্থানে অনড়। তিনি ইসরাইলকে সমর্থন করাকে তার কোম্পানির পাঁচটি মূল নীতির অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে স্বাধীনতা, মুক্ত বাজার ও বাকস্বাধীনতা। তিনি বলেন, ‘কেউ যদি এই নীতিগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তবে এটি আমাদের মৌলিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত। যারা আমাদের এই বিশ্বাসের সঙ্গে একমত নন, এক্সেল স্প্রিঞ্জার তাদের জন্য সঠিক জায়গা কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ জার্মানির রুপার্ট মারডক হিসেবে পরিচিত ডফনারের পূর্বের কর্মকাণ্ডও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গত বছর একটি ফাঁস হওয়া ইমেইলে তিনি নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাস সংক্ষেপে লিখেছিলেন, ‘জায়নবাদ সবার উপরে। ইসরাইল আমার দেশ।’ জার্মানিতে ‘উবার অ্যালেস’ (সবার উপরে) শব্দবন্ধটি অত্যন্ত বিতর্কিত, কারণ নাৎসি আমলে জাতীয় সংগীতে এটি ব্যবহার করা হতো। গত অক্টোবরে ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ ডফনারকে সম্মানসূচক পদক প্রদান করেন। তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
Go to News Site