Somoy TV
নেত্রকোনার হাওড়াঞ্চলে ডুবে যাওয়া ফসল কাটতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা। শ্রমিক সংকটের কারণে এমন পরিস্থিতিতে স্বামীর সঙ্গে হাওড়ে ধান কাটতে গিয়ে ঠান্ডায় অসুস্থ হয়ে খোকন বেগম (৩৫) নামের এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খোকন বেগম ওই গ্রামের মো. জামাল মিয়ার স্ত্রী। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের মধ্যে বুধবার বিকেলে কল্যাণপুর গ্রামের মসজিদের সামনের হাওড়ে ধান কাটছিলেন জামাল মিয়া। শ্রমিক না পাওয়ায় তিনি তার দুই ছেলেকে নিয়ে গত দুই দিন ধরে ১২০ শতাংশ জমির ডুবে যাওয়া ধান কাটছিলেন। তাদের কাজে সহযোগিতা করতে হাওড়ে নামেন স্ত্রী খোকন বেগমও। কিন্তু অতিবৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের কারণে ঠান্ডায় শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে জমির পাশেই ঢলে পড়েন তিনি। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আরও পড়ুন: নেত্রকোনায় পানির তলে ২ হাজার হেক্টর ফসলি জমি নিহত গৃহবধূর স্বামী জামাল মিয়া বলেন, ‘আমার ক্ষেতের ধান তলিয়ে যাচ্ছিল। কোনো শ্রমিক পাইনি। তাই আমি আমার দুই ছেলে সন্তানকে নিয়ে দুই দিন ধরে ধান কাটছিলাম। এ জন্য আমার স্ত্রী আমাদের কাজে সহযোগিতা করতে গিয়েছিল। অতিবৃষ্টিতে ঠান্ডার কারণে সে হঠাৎ দুর্বল হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাসপাতালে নেয়ার পরে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’ এ বিষয়ে খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। আমি তাদের পরিবারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। বিধি মোতাবেক যথাযথভাবে সরকারি আর্থিক সহযোগিতা করা হবে ইনশাআল্লাহ।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম বলেন, ‘এ রকম মৃত্যু খুবই দুঃখজনক ও মর্মান্তিক। আমি মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হবে ইনশাআল্লাহ।’
Go to News Site