Somoy TV
জগতের সকল প্রাণীর সুখ, শান্তি ও মঙ্গল কামনার মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে বুদ্ধ পূর্ণিমা (বৈশাখী পূর্ণিমা) উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে নতুন রূপে সেজেছে বিহারগুলো। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, প্রদীপ প্রজ্বালন, বুদ্ধস্নান, সমবেত প্রার্থনা ও ধর্ম দেশনার মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করছেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা।দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার (১ মে) সকালে রাঙ্গামাটি শহরের জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রাজবন বিহারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে শুরু হয় নানা আনুষ্ঠানিকতা। পুণ্যার্থীরা প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে নিজেকে সমর্পণ করেন বুদ্ধের চরণে। এরপর ফুল-জলে বুদ্ধস্নান, বুদ্ধপূজা, পঞ্চশীল ও অষ্টশীল প্রার্থনা, প্রাণী অবমুক্তকরণ এবং বুদ্ধমূর্তি দানের পর তারা সমবেত প্রার্থনায় যোগ দেন। সেখানে ধর্ম দেশনা দেন গুরুরা। বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে জন্ম, বুদ্ধত্ব এবং মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন। এটি গৌতম বুদ্ধের ত্রিস্মৃতি বিজড়িত দিন হিসেবে পরিচিত। ফলে এই দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজবন বিহারে আসা পুণ্যার্থী সীমা চাকমা বলেন, ‘সকালে বিহারে এসে প্রদীপ প্রজ্বালন শেষে বুদ্ধকে ফুল-জল দিয়ে স্নান ও পূজা দিয়েছি। হ্রদের জলে মাছ অবমুক্ত করেছি। পাশাপাশি সকল প্রাণীর সুখী ও মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা করেছি।’ আরও পড়ুন: পাহারায় থাকা স্ত্রী হাতি সরতেই মৃত সঙ্গীর শুঁড়-পা কেটে নিলো দুর্বৃত্তরা! অ্যাডভোকেট সুমিতি চাকমা নামের আরেক পুণ্যার্থী বলেন, ‘এদিন মহামানব গৌতম বুদ্ধ জন্ম, বুদ্ধত্ব ও মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন। এই তিনটি ঘটনা মহাপুরুষদের জীবনে ঘটে। দিনটি আমাদের জীবনে পুণ্যময় একটি দিন। এ দিন আমরা বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালন করে থাকি। এতে আমাদের পুণ্য লাভ হয়।’ স্নেহ কান্তি চাকমা বলেন, ‘আজ আমি প্রার্থনা করেছি, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তির পাশাপাশি সারা বিশ্বে চলমান সকল যুদ্ধ বন্ধ হোক। আমরা বুদ্ধের মর্মবাণী বুকে ধারণ করে জাগতিক সকল হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে মৈত্রীময় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারি; এই মহাপবিত্র দিনে এই প্রার্থনাই করেছি।’ রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারের উপাসক-উপাসিকা পরিষদের সহ-সভাপতি নিরুপা দেওয়ান বলেন, ‘সবাই মিলে প্রার্থনা করেছি যাতে পৃথিবী শান্ত ও শান্তিতে থাকে। আমরা যেন ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ থাকতে পারি।’ রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান প্রজ্ঞালংকর মহাস্থবির বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সকল প্রাণীর সুখ, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করি। বাংলাদেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেছি। বিশ্বের সকল মানবের জীবনে সুখ, শান্তি ও মঙ্গল বয়ে আসুক; জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক। বুদ্ধের নিকট সেই প্রার্থনাই করেছি।’
Go to News Site