Somoy TV
যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে একটি মসজিদ। দেয়ালের বড় বড় ফাটল আর জরাজীর্ণ কাঠামোর কারণে সামান্য ভূমিকম্প বা ঝড়ো হাওয়াতেই এটি ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এমন পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন সেখানে নামাজ আদায় করছেন শত শত মুসল্লি।এই চিত্র লালমনিরহাট রেলওয়ে পাওয়ার হাউজ জামে মসজিদের। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদটির চারপাশের দেয়ালে বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। রেলওয়ে জনবসতি এলাকার কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে নামাজ আদায় করেন। বিশেষ করে জুমার নামাজে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। জায়গার অভাবে অনেকে জরাজীর্ণ বারান্দায় দাঁড়ান, যা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানান স্থানীয়রা। মসজিদে নামাজ পড়তে আসা খোকন ইসলাম বলেন, ‘আমরা যখন নামাজে দাঁড়াই, তখন মনের মধ্যে ভয় থাকে; এই বুঝি ছাদ ভেঙে মাথায় পড়ল। বিশেষ করে সিজদাহ দেয়ার সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। আল্লাহর ঘর বলে আমরা আসি, কিন্তু প্রশাসনিকভাবে এর কোনো সংস্কার নেই।’ আরও পড়ুন: লালমনিরহাটে মাদক মামলায় ইউপি চেয়ারম্যানের কারাদণ্ড রেলওয়ে পাওয়ার হাউজ সংলগ্ন হওয়ায় এই মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব অনেকটা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায়। তবে স্থানীয় কমিটির অভিযোগ, বারবার বিষয়টি নজরে আনা হলেও বাজেট বা আইনি জটিলতার দোহাই দিয়ে সংস্কারকাজ থমকে আছে। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে ছোটখাটো মেরামতের চেষ্টা করলেও কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিদের মতে, এই মসজিদটি শুধু একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়, এটি এলাকার একটি পরিচয়। এটি ভেঙে ফেলার চেয়ে সংস্কার করে ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা জরুরি। তবে বর্তমান যে অবস্থা, তাতে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে কোনো এক জুমার দিনে বড় ধরনের ট্র্যাজেডি ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। একটি উপাসনালয় যেখানে প্রশান্তির খোঁজে মানুষ আসে, সেখানে এখন বিরাজ করছে আতঙ্ক। বড় কোনো প্রাণহানি ঘটার আগেই লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসন কি এই জরাজীর্ণ মসজিদের দিকে নজর দেবে? নাকি কোনো দুর্ঘটনার পর শুরু হবে তদন্ত কমিটির শোক প্রকাশ? প্রশ্নটি এখন লালমনিরহাটের সাধারণ মানুষের।
Go to News Site