Somoy TV
উজানে বৃষ্টিপাত বন্ধ থাকায় মৌলভীবাজারের সবকটি নদীর পানি আরও কমেছে। তবে হাইলহাওড়, হাকালুকি, কাঞ্জাইর হাওড় এসব হাওড়ে জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। মনুনদী প্রকল্পভুক্ত হাওড় কাওয়া দিঘিতে আবারও পানি বাড়ছে।হাওড়ের সাথে সংযুক্ত একাধিক ছড়ার পানি হাওড়ে নামতে থাকায় এ পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল সূর্যের মুখ দেখা গেলেও আজ সকাল থেকেই বৈরী পরিবেশ। এতে হাওড় পাড়ের কৃষকেরা না পারছেন ধান শুকাতে। না পারছেন তলিয়ে থাকা ধান কাটতে। এতে তারা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। সেই সাথে রয়েছে, চরম শ্রমিক সংকট। তলিয়ে যাওয়া পানি থেকে ধান উঠাতে দুুএকজন শ্রমিক পাওয়া গেলেও ওদের দুবেলা খাবার পর রোজপ্রতি ৮শ’ থেকে ৯শ’ টাকা দিতে হচ্ছে। এতে অনেক বর্গা চাষি শ্রমিক সংকটে ধান কাটাতে পারছেন না। বিরইমাবাদ গ্রামের কৃষক আব্দুল হান্নান মিয়া, আরজান মিয়া সময় সংবাদকে বলেন, ‘আবার পানি বাড়লে আর কিছুই রক্ষা করা যাবে না। আমরা একে বারে নিশ্ব হয়ে যাব।’ সরেজমিনে বিরাইমাবাদ এলাকার হাওড় কাউয়াদিঘি অংশে গেলে দেখা যায়, কৃষকরা ছোট ছোট ডিঙি নৌকা দিয়ে হাওড়ের বুক থেকে কদিন আগের কাটা ধান নিয়ে আসছেন পাড়ে। আবার এসব ধান হাওড় পাড়ে স্তূপ করে রাখছেন। দেখা গেলো চা বাগানের অনেক শ্রমিক বর্গা নিয়ে হাওড়ে বোরো চাষাবাদ করেছেন। এসব বর্গা চাষি শ্রমিক বুক পানি ভেঙে হাওড় থেকে ধান উঠাচ্ছেন। কৃষক শেবু বাবু জানালেন এবারে পুরোটাই তার ক্ষতির মুখে পড়ছে। আরও পড়ুন: বন্যার আগেই আর্থিক সহায়তা পেলো হাওড়াঞ্চলের ২০ হাজার পরিবারকৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানালেন, এখন পর্যন্ত হাওড়ে ৮৯৭ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ের কৃষক জানালেন, এখনও শতশত হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। আরও কয়েক দিন এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে একমুঠো ধান তারা ঘরে উঠাতে পারবে না। পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো খালেদ বিন অলীদ জানান, উজানে বৃষ্টিপাত কমে আসায় মৌলভীবাজার জেলার সবকটি নদীর পানি আরও কমছে। জেলার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
Go to News Site