Somoy TV
জামালপুর ইসলামপুরে ডোবায় ফেলে দেয়া হয়েছে বিপুল সংখ্যক সরকারি ওষুধ। ডোবায় ভাসমান ওষুধের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ভিড় করেন স্থানীয়রা।বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) থেকে উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশের একটি ডোবা ভাসতে দেখা যায় ওষুধগুলো। ক্লিনিকে দায়িত্বরত সিএইচসিপি ওষুধগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ফেলেছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী।ডোবাজুড়ে ছড়িয়ে আছে ট্যাবলেট, সিরাপ, ক্যাপসুলসহ নানা ধরনের সরকারি ওষুধ। ওষুধগুলো গায়ে স্পষ্ট লেখা ‘সরকারি সরবরাহ’।ধনতলা গ্রামের মনিরুজ্জামান বলেন, ‘২০২৪ সাল থেকে ক্লিনিকটিতে কোনো স্বাস্থ্যকর্মী ছিল না। যাদের দেয়া হতো তারাই তাদের সুবিধা মতো জায়গায় চলে যেতো। ফলে সরকারের ওষুধগুলো মেয়দোত্তীর্ণ হয়ে নষ্ট যায়। এখানে স্বাস্থ্যকর্মী দেয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বার বার বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি দেননি। দুই মাস হলো নতুন একজনকে দেয়া হয়েছে। তিনি এসে দেখেন ওষুধগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এ ওষুধ ভুলে রোগীদের দেয়া হলে ক্ষতি হবে, এ কারণে ফেলে দেয়া হয়েছে। তবে যিনি সে সময়ে ক্লিনিকে দায়িত্বপালন করেছেন তিনি ওষু গুলো নষ্ট করার জন্য দায়ী।স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্লিনিকগুলোতে ওষুধের জন্য গেলে সরকারিভাবে বরাদ্দ নেই বলে ফিরিয়ে দেন। অথচ ওষুধ জমাতে জমাতে সেগুলোর মেয়াদ শেষ হলে সেই সব সরকারি ওষুধ ডোবায় ফেলে দেন।আরও পড়ুন: জামালপুরে অবৈধ ইটভাটায় অভিযানে র্যাবের গাড়ি ভাঙচুরজামালপুর জেলা স্বাস্থ্য সেবা ও রোগী কল্যাণ কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের আওতায় ৬ হাজার মানুষের সেবা পেয়ে থাকবেন। এখানে সরকার ২৮ থেকে ৩২ প্রকারের ওষুধ দেয়া হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্যারাসিটামল, এন্টারসিট দেয়া হয়। আমি ডোবায় ফেলে দেয়া ওষুধগুলো দেখে কষ্ট পেয়েছি।’ তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করেন।জামালপুরের সির্ভিল সার্জন ডা. আজিজুল হক বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানার সাথে সাথে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নির্দেশ দিয়েছি। এ ব্যাপারে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পর এই ঘটনার সাথে যেই জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
Go to News Site