Collector
টেথিস সমুদ্র থেকে যেভাবে এল আরব ভূখণ্ড | Collector
টেথিস সমুদ্র থেকে যেভাবে এল আরব ভূখণ্ড
Somoy TV

টেথিস সমুদ্র থেকে যেভাবে এল আরব ভূখণ্ড

কালো সোনা বা ব্ল্যাক গোল্ড, যার উপর ভাসছে সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। এটিই আজ পুরো বিশ্বের চালিকা শক্তি। যার আসল নাম ক্রুড ওয়েল। এটি পরিশোধন করে পাওয়া যায় ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল, কেরোসিন ও জেট ফুয়েলের মতো জ্বালানি তেল। যা দিয়ে চলে স্থলযান থেকে বিমান, ঘোরে কলকারখানার চাকা, তৈরি হয় বিদ্যুত। মাটির গভীরে লুকিয়ে থাকা সুবিশাল এ জ্বালানি ভান্ডারের উৎস সম্পর্কে জানতে, ফিরতে হবে হাজার-হাজার বছর পেছনে। যেখানে লুকিয়ে আছে মাটির নিচে জীবাশ্ম জ্বালানি তৈরির ইতিহাস।আজকের যে আরব ভূখণ্ড বা মধ্যপ্রাচ্য আমরা দেখি, কয়েক কোটি বছর আগে তা ছিল টেথিস (Tethys) সমুদ্রের নিচে। ওই সময়ে আরবের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। টেথিস একটি প্রাগৈতিহাসিক সময়ের সাগর। তবে এক সময় সমুদ্রে পলি মাটি জমতে থাকে। জাগতে থাকে নতুন এক ভূখণ্ড। আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব পেট্রোলিয়াম জিওলজিস্ট-এর গবেষণা অনুযায়ী, সমুদ্রের কোটি কোটি সামুদ্রিক অণুজীব পলি মাটির নিচে চাপা পড়ে। একপর্যায়ে সেগুলো মরে এবং পচে গিয়ে জৈব পদার্থে রূপ নেয়। এরপর লাখ লাখ বছর ধরে মাটির নিচে উচ্চ তাপ ও চাপে এই জৈব পদার্থ থেকে হাইড্রোকার্বন তৈরি হয়। ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের ফলে সমুদ্র শুকিয়ে মরুভূমি হলেও, সেই হাইড্রোকার্বন মাটির নিচেই থেকে যায়, যা পরবর্তীতে ছিদ্রযুক্ত শিলায় জমা হয় এবং শক্ত শিলার নিচে আটকে গিয়ে ক্রুড অয়েল তৈরি হয়। আরবের মাটির গঠন এমন যে, এখানে তেলের স্তর ভূ-পৃষ্ঠের অনেক কাছাকাছি, তাই উত্তোলন করা সহজ ও লাভজনক। ক্রুড অয়েল থেকে যেভাবে হয় জ্বালানি তেল মাটির গভীর থেকে উত্তোলন করেই এ তেল সরাসরি ব্যবহার করা যায় না। কারণ এতে হাইড্রোজেন ও কার্বন মেশানো থাকে। তাই প্রথমে ক্রুড অয়েলকে শোধনাগারে নিয়ে সামান্য গরম করে এর ভেতর থেকে লবণ এবং বালু আলাদা করা হয়। কারণ লবণ থাকলে শোধনাগারের পাইপলাইনে মরিচা ধরতে পারে। এরপর বিশাল চুল্লিতে ৩৫০-৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করে বাষ্পে পরিণত করা হয়। গরম বাষ্প এবং অবশিষ্ট তরল মিশ্রণটিকে একটি বিশাল লম্বা সিলিন্ডার আকৃতির টাওয়ারে নেয়া হয়। যাকে বলা হয়, ফ্রাকশন্যাটিংগ ডিসটিল্যাশন কলাম বা পাতন কলাম। এ টাওয়ারেই থাকে কয়েকটি স্তর। একেকটি স্তরে একেক ধরনের তাপমাত্রা বিদ্যমান। সবচেয়ে উপরে থাকে সবচেয়ে কম তাপমাত্রা। আর নিচে থাকে বেশি তাপমাত্রা। আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের মেঘ-বৃষ্টি চুরির অভিযোগ, বিজ্ঞান কী বলছে? এখানেই ঘটে বিস্ময়কর প্রক্রিয়া। সহজ ভাষায় বললে, টাওয়ারের বিভিন্ন স্তর থেকে ভিন্ন ভিন্ন জ্বালানি তেলের উপাদান পাওয়া যায়। যেমন, একদম নিচে তাপমাত্রা দেয়া হয় ৩৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা ক্রুড ওয়েলকে ঘন কালো আলকাতরার মতো উপাদানে রূপান্তর করে। এ পদার্থকে বলা হয় বিটুমিন। রাস্তার পিচ ঢালাইয়ে ব্যবহার হয়। এরপরের স্তরে তাপমাত্রা আরও কমে যায়। সেখানে উৎপন্ন হয় ফার্নেস ওয়েল। যা বড় বড় জাহাজ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে ব্যবহার হয়। তাপমাত্রার তারতম্যে পর্যায়ক্রমে একেকটি স্তর থেকে ডিজেল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও কেরোসিন এবং এলপিজি গ্যাস উৎপাদন করা হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেল শোধনাগারটি চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত। কোন কোন দেশ ক্রুড অয়েলের উৎপত্তি স্থল ভৌগোলিকভাবে মূলত মধ্যপ্রাচ্য অপরিশোধিত তেল উৎপাদনে সবচেয়ে এগিয়ে। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় আরবের কোন দেশই তেল উৎপাদনে এক নাম্বারে নেই। উৎপাদনের তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশটি হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এরপরে আছে যথাক্রমে রাশিয়া, সৌদি আরব, কানাডা, ইরাক, ইরান ও কুয়েত। অন্যদিকে মজুত ভান্ডারের দিক থেকে এক নাম্বারে আছে ভেনেজুয়েলা। এরপর যথাক্রমে সৌদি আরব, ইরান, কানাডা, ইরাক। এনার্জি পলিসিসহ বিভিন্ন গবেষণা জার্নালের তথ্য মতে, বিশ্বে বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল। যা বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ৫৪ বছর বিশ্বব্যাপী যোগান দিতে সক্ষম।

Go to News Site