Somoy TV
রাশিয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উত্তর ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিয়ে নতুন নৌবাহিনী গঠনের ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটেন। ১০টি দেশের সমন্বয়ে গঠন করা হবে এই জোট যা ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ জেনারেলের বরাতে এ খবর জানিয়েছে আরটি।এদিকে ব্রিটেনের এই ঘোষণায় মস্কো বলেছে, পশ্চিমা রাজনীতিবিদরা অভ্যন্তরীণ সংকট আড়াল করতেই এমন উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন। যদিও ব্রিটিশ জলসীমায় রুশ রণতরীর অনুপ্রবেশ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে বলে দাবি লন্ডনের। চলমান ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে রাশিয়াকে ক্রমবর্ধমান ‘নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে দেখছে ইউরোপ। তাদের অভিযোগ, ইউরোপের দেশগুলো ঘিরে রাশিয়ার সামরিক তৎপরতা বাড়ছে। সেই সামরিক তৎপরতা রুখতে উত্তর ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিয়ে শক্তিশালী নৌবাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ব্রিটেন। ব্রিটিশ নৌবাহিনী প্রধান জেনারেল গুইন জেনকিন্স জানিয়েছেন, এই জোটে ব্রিটেনের সাথে থাকছে নেদারল্যান্ডস, নরডিক ও বাল্টিক অঞ্চলের ১০টি রাষ্ট্র। মূলত ন্যাটোর পরিপূরক হিসেবেই কাজ করবে এই বহুজাতিক বাহিনী, যার নিয়ন্ত্রণ থাকবে ব্রিটেনের হাতে। আরও পড়ুন: সাংবাদিকদের আলটিমেটাম টেলিগ্রাফ ও পলিটিকোর / ‘ইসরাইলকে সমর্থন করুন, না হলে পদত্যাগ করুন’ নতুন এই নৌবাহিনী ২০২৯ সালের মধ্যে যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে সদস্য দেশগুলোর নৌবহরগুলো নিয়মিত প্রশিক্ষণ, যুদ্ধ পরিকল্পনা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একে অপরের সাথে সমন্বিত হবে। মধ্যপ্রাচ্য সংকট ঘিরে বিশ্ববাসীর মনোযোগ অন্যদিকে থাকলেও ব্রিটেন মনে করে, রাশিয়ার হুমকিই বর্তমানে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি। তাই যুদ্ধের প্রয়োজন হলে যাতে অবিলম্বে মোকাবিলা করা যায়, সেভাবেই সাজানো হচ্ছে এই রণকৌশল। ব্রিটিশ জলসীমায় রাশিয়ার জাহাজ ও সাবমেরিনের আনাগোনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে দাবি লন্ডনের। জেনারেল জেনকিন্সের মতে, গত দুই বছরে রুশ অনুপ্রবেশ বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গত মার্চে রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দের হুমকি দিলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে নিজেদের ট্যাঙ্কার বহরের নিরাপত্তায় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন শুরু করে মস্কো। তবে ব্রিটিশ জলসীমায় এখনও তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল অব্যাহত রয়েছে। আরও পড়ুন: ট্রাম্প-পুতিন ফোনালাপ, কী কথা হলো এদিকে পশ্চিমা বিশ্বের এই তৎপরতাকে ‘অতিরিক্ত পদক্ষেপ’ বলে আখ্যা দিয়েছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের দাবি, আগে আক্রান্ত না হলে ইউরোপের কোনো দেশে অভিযানের পরিকল্পনা তাদের নেই। সাবেক রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেন, পশ্চিমা নেতারা সাধারণ মানুষের নজর অন্যদিকে ঘোরাতে এবং সামরিক ব্যয় বাড়াতে অহেতুক ভয় দেখাচ্ছে।
Go to News Site