Somoy TV
নেত্রকোনায় প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে কংশ ও উব্দাখালি নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা দুই দিন আকাশ পরিষ্কার থাকার পর শনিবার ভোর থেকে ফের বৃষ্টি শুরু হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে নতুন করে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।শনিবার (২ মে) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, নদীর পানি কিছুটা কমার দিকে। তবে ভোর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টায় কংশ নদীর পানি বিপৎসীমার ১০৫ সেন্টিমিটার এবং উব্দাখালি নদীর পানি ৭৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর আগে শুক্রবার (১ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত কংশ নদীর পানি বিপৎসীমার ১১০ সেন্টিমিটার এবং উব্দাখালি নদীর পানি ৭৯ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। সে হিসেবে রাতের ব্যবধানে নদীর পানি কিছুটা কমেছে। এর আগে গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) জেলায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। ওই দিন বিকেলে কংশ নদীর পানি বিপৎসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া মগড়া, বউলাই ও ধনু নদীর পানিও দ্রুতগতিতে বাড়ছিল। দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও পাহাড়ি ঢলে শুকনো মৌসুমে তৈরি করা একটি অস্থায়ী কাঠের ব্রিজ ভেসে যায়। আরও পড়ুন: স্বামীর সঙ্গে হাওড়ে ডুবে যাওয়া ধান কাটতে গিয়ে প্রাণ গেল গৃহবধূর পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় জেলার নিম্নাঞ্চল ও হাওড়পাড়ের মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। হাওড়ের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এরই মধ্যে পানিতে ডুবে গেছে। প্রতি বছর বাঁধের জন্য মাটি ভরাটের কারণে সব জলাধার ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পানি নামার কোনো জায়গা নেই। এ কারণে বন্যা আসার আগেই প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছেন কৃষকরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আমিনুল ইসলাম জানান, গত বুধবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ি ঢলে ২ হাজার ২১৫ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। নতুন করে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। হাওড়ের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাওড়ের সিংহভাগ ধান এখনও কাটা বাকি। বৃষ্টির পানিতে ডুবে অনেক ধানের গোড়ালি পচে গিয়ে ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জ্বালানি সংকট না থাকলে মেশিনের সাহায্যে আগেই ধান কেটে ফেলতে পারতেন বলে জানান তারা। সার্বিক বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বাঁধের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো বাঁধ না ভাঙলেও পানি উপচে পড়তে পারে। তাই হাওড়ের ধান দ্রুত কাটার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।’
Go to News Site