Somoy TV
মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর জন্য ৮.৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ইসরাইলের পাশাপাশি কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সরবরাহ করা হবে এসব অস্ত্র। গত শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে। খবর আল জাজিরার।এই মুহূর্তে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছে। তবে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা চরমে রয়েছে। একদিকে ইরান, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হুমকি পাল্টা হুমকি অব্যাহত রেখেছে। নতুন করে যেকোনো সময় সংঘাত শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে সংঘাতের অবসানে গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নতুন প্রস্তাব পাঠায় ইরান। তবে ইরানের দেয়া সর্বশেষ প্রস্তাবেও সন্তুষ্ট নয় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন যে ধরনের চুক্তি চায় তেহরান তাতে রাজি হচ্ছে না। তাই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত ইরান যুদ্ধ বন্ধ হবে না। একই সঙ্গে ইরান আদৌ কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন ট্রাম্প। আরও পড়ুন: ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবেও সন্তুষ্ট নন ট্রাম্প এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোকে ব্যাপক পরিমাণে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির খবর এলো। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, একটি জরুরি অবস্থা বিদ্যমান রয়েছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোতে অবিলম্বে অস্ত্র বিক্রি করা প্রয়োজন। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের তথ্য মতে, কাতারের কাছে ৪.শূন্য ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের প্যাট্রিয়ট বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ পরিষেবা বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে ৯৯ কোটি ২৪ লাখ ডলার মূল্যের অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র (এপিকেডব্লিওএস) রয়েছে। কুয়েতের কাছে ২.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি ইন্টিগ্রেটেড ব্যাটল কমান্ড সিস্টেম। ইসরাইলের কাছে ৯৯ কোটি ২৪ লাখ ডলার মূল্যের অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র (এপিকেডব্লিওএস) বিক্রি করা হবে। আর সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ১৪ কোটি ৭৬ লাখ ডলার মূল্যের অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ৩০ বিমানভর্তি সামরিক সরঞ্জাম এদিকে দ্য নিউ আরবের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নতুন করে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ৩০ বিমানভর্তি সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ইসরাইলকে সরবরাহ করা হয়েছে ৬,৫০০ টন সরঞ্জাম। প্রতিবেদন মতে, ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার জানায়, ইসরাইল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৬,৫০০ টন সামরিক সরঞ্জাম পেয়েছে। এই চালানে হাজার হাজার স্থল ও আকাশ অস্ত্রের গোলাবারুদ, হালকা সাঁজোয়া যান এবং সামরিক ট্রাক রয়েছে, যা দুটি কার্গো জাহাজ এবং বেশ কয়েকটি বিমানের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। আরও পড়ুন: এবার অধিকৃত গোলান হাইটসে অবৈধ বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা ইসরাইলের ইসরাইলি গণমাধ্যমের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, সরঞ্জামগুলো পৌঁছানোর পর ইসরাইলজুড়ে বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে সরবরাহ করা হয়েছে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক আমির বারাম বলেন, ইসরাইলের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ ‘আগামী সপ্তাহগুলোতে অব্যাহত থাকবে এবং আরও জোরদার হবে’। ইসরাইল সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইল ১ লাখ ১৫ হাজার ৬০০ টনেরও বেশি সামরিক সরঞ্জাম পেয়েছে। ইসরাইলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও আসছে অস্ত্রের বড় চালান। দ্য নিউ আরবের প্রতিবেদন মতে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বিগত ৪৮ ঘণ্টায় ফ্লাইটরাডার২৪ এবং এডিএস-বি এক্সচেঞ্জের নেভিগেশন ডেটা থেকে দেখা যায়, অন্তত ৩০টি মার্কিন সামরিক কার্গো বিমান জার্মানি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাত্রা করে। আরও পড়ুন: ইসরাইলি বাহিনীর হাত থেকে রেহাই পেল না প্রতিবন্ধী ফিলিস্তিনি শিশুও ডেটা অনুসারে, ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ২৯টি ছিল বোয়িং সি-১এ গ্লোবমাস্টার ৩ বিমান এবং একটি ছিল লকহিড মার্টিন সি-১৩০জে-৩০ হারকিউলিস বিমান। সাতটি ফ্লাইট কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে ‘মধ্যপ্রাচ্য’ অভিমুখে যাচ্ছিল বলে দেখানো হয়, যেখানে সাতটি ফ্লাইট ইসরাইল এবং চারটি জর্ডানের দিকে যাচ্ছিল। যদিও ডেটা থেকে ফ্লাইটগুলোতে বহন করা কার্গোর প্রকৃতি জানা যায়নি, তবে এর বিপুল পরিমাণ কার্গো ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির জল্পনা তৈরি করেছে।
Go to News Site